
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন এবার প্রথম
থেকেই সারা দেশের নজরে। বাকি তিন রাজ্য ও এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোটের তুলনায় এই রাজ্যের ভোট নিয়ে আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গে ভোট পর্ব মিটেছে অভূতপূর্ব শান্তিপূর্ণ আবহে। দুদফায় প্রায় রক্তপাতহীন এই ভোট সম্ভব হয়েছে নির্বাচন কমিশনের কড়া মনোভাব ও বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের ফলে। ২৩ ও ২৯ এপ্রিল বিপুল ভোটদানের হারে ফের পশ্চিমবঙ্গ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কিন্তু এসব ভালো কারণের পর ফল প্রকাশের দিন থেকে ফের খারাপ কারণে দেশবাসীর মুখে পশ্চিমবঙ্গের নাম। ৪মে বিজেপি ২০৭ আসনে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর থেকে ৮০ তে আটকে যাওয়া তৃণমূল সুপ্রিমো মেজাজ হারান। গণনা কেন্দ্রে গিয়ে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। পরদিন সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে ঘোষণা করেন তিনি পদত্যাগ করবেন না কারণ তাঁর দল পরাজিত হয়নি। এমন আশ্চর্য দাবিতে ফের চমকে ওঠে দেশ। আলোচনা শুরু হয় সাংবিধানিক নিয়মনীতি নিয়ে। তুলনা শুরু হয় অসম, তামিলনাড়ু, কেরলের ভোট পরবর্তী মসৃণ পরিস্থিতি নিয়ে। এর আগে পশ্চিমবঙ্গে কখনো এমন আচরণ করেননি কোনো বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী, সেকথাও বলেন অনেকে।
এদিকে ভোট পরবর্তী হিংসায় বেশ কয়েকটি প্রাণহানি ও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে গত তিনদিনে, তবে পরিস্থিতি চরমে ওঠে বুধবার রাতে খোদ শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায়। মধ্যমগ্রামে গাড়ির কাচ ভেদ করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে তাঁকে হত্যা করে বাইকে করে আসা দুষ্কৃতীরা। বিজেপি নেতৃত্ব যদিও এই ঘটনার পর কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছেন, তবু দলের নিচুতলায় তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলে প্রতিশোধের ডাক দেওয়া হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ভবানীপুরে তিনি না জিতলে চন্দ্রনাথকে খুন হতে হত না। ফের সারা দেশ আলোচনা করছে বাংলার হালচাল নিয়ে।
নতুন সরকার শপথ গ্রহণের মাত্র দুদিন আগে এই দুঃসাহসিক হত্যাকাণ্ডে স্বভাবতই বিস্মিত গোটা দেশ। যেখানে নির্বাচন কমিশন রাজ্য প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছিল ভোট পরবর্তী হিংসা এড়ানোর ব্যাপারে, সেখানে এত বড় ঘটনা কীভাবে ঘটল, সেটা বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর।