
বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর কেটে গেছে দশদিন । দীর্ঘ টানাপড়েনের পর কেরলে মুখ্যমন্ত্রী পদে কে বসবেন, সেই প্রশ্নের মীমাংসা হল আজ। বাংলা স্ট্রিট গতকালই নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর পেয়ে জানিয়েছিল, মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ভি ডি সতীশন।
কেরলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট বিপুল জনাদেশ নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। বামেদের এলডিএফ জোটের দীর্ঘ শাসনের পরে কেরলের মানুষ পরিবর্তন চেয়েছেন। ঐ রাজ্যে সরকার গঠন নিয়ে কোনো সমস্যা তৈরি না হলেও দলনেতা নিয়ে ছিল মারাত্মক মতবিরোধ। মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার ছিলেন তিনজন - কে সি বেণুগোপাল, ভি ডি সতীশন এবং রমেশ চেন্নিথালা। রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ বেণুগোপাল এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক, সতীশন এতকাল ছিলেন কেরল বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আর চেন্নিথালা কেরল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা। তিনজনেরই অনুগামীর সংখ্যা যথেষ্ট। সতীশন ও তাঁর অনুগামীরা প্রথম থেকেই দাবি করছেন, মুখ্যমন্ত্রী পদে তাঁর অধিকার সবচেয়ে বেশি কারণ বামেদের বিরুদ্ধে অক্লান্ত প্রচারের লড়াইয়ে জয় ছিনিয়ে আনার কৃতিত্ব তাঁরই।

পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হওয়ার পর সতীশন তিরুবনন্তপুরমে বলেন, "আমি এই পদটিকে ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখি না, বরং এটিকে ঐশ্বরিক কিছু বলে মনে করি। কেসি বেনুগোপালই এআইসিসি-র সমস্ত কার্যক্রম সমন্বয় করেছিলেন। তাঁর সমর্থন ছিল অপরিসীম। রমেশ চেন্নিথালাও আমার নেতা। আমি তাঁদের সবাইকে সম্পূর্ণ আস্থায় নেব। আমি কেরলের প্রতিটি স্তরের মানুষের সমর্থন চাই। কেবল সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই একটি নতুন কেরল গড়া সম্ভব। এটি একা কেউ করতে পারে না; একটি দলই তা অর্জন করতে পারে।" তিনি আরও বলেন, "আমার দল আমাকে একটি বড় দায়িত্ব দিয়েছে। তার জন্য আমি রাহুল গান্ধী এবং অন্যদের ধন্যবাদ জানাই। এই নির্বাচনে লক্ষ লক্ষ ইউডিএফ কর্মী ও নেতা কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তার জন্য আমি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ।" কংগ্রেস সংগঠনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "কংগ্রেস কোনো সাধারণ দল নয়; এখানে নেতৃত্বের এক নক্ষত্রপুঞ্জ রয়েছে। তাঁরা আমাকে মতামত ও পরামর্শ দিয়েছেন এবং আমি যখন ভুল করেছি তখন আমাকে শুধরে দিয়েছেন।"