তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
বিজেপির একমুখী অঙ্কে তামিলনাড়ুতে ধুয়ে গেলেন আন্না

তামিলনাড়ুর রাজনীতির জটিল সমীকরণে কে. আন্নামালাইয়ের প্রস্থান ও ‘উই দ্য লিডারস’ প্রকল্প এই মুহূর্তে আর কোনো আকস্মিক বিদ্রোহ নয়, বরং বিজেপির ব্যর্থতা এবং দীর্ঘমেয়াদী কৌশল ও বাস্তববাদী রাজনীতিরই এক অপরিহার্য অংশ। আন্নামালাইয়ের ‘একলা চলো’ নীতি ২০২৪- এ লোকসভা নির্বাচনে তামিলনাড়ুর মাটিতে বিজেপির ভোট শেয়ার ডবল ডিজিটে অর্থাৎ ৩৩ শতাংশে উন্নীত করলেও, কোয়েম্বাটোরের ১.১৮ লক্ষ ভোটে পরাজয় এবং জোট সঙ্গী সত্ত্বেও আসন শূন্য থাকার ব্যর্থতা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।

কখনোই আন্নামালাইয়ের মতো কোনো নিছক ‘কর্পোরেট রিক্রুট’ বা ব্যক্তির ওপর বিজেপির মত একটা দলের ভবিষ্যৎ পুরো নির্ভর করতে দেওয়া হয় না; তাই যখন তাঁর আক্রমণাত্মক স্টাইল তামিলনাড়ুর বৃহত্তর রাজনৈতিক মহলে এবং এআইএডিএমকে-র সঙ্গে জোটের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল, তখন দিল্লি অত্যন্ত সুচতুরভাবে নাইনার নাগেন্দ্রনকে সামনে এনে আন্নামালাইকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্নামালাইয়ের পদত্যাগ বা তাঁর নতুন প্ল্যাটফর্ম আসলে বিজেপির বৃহত্তর পরিকল্পনারই অংশ বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা। বিশেষ করে যেখানে দল এখন এআইএডিএমকে-র মতো শরিকদের সঙ্গে নিয়ে জোটবদ্ধ শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হয়ে উঠবার দিকে এগোচ্ছে। এই অবস্থায় আন্নামালাইয়ের ‘উই দ্য লিডারস’ প্রকল্পটি আদতে বিজেপির মূলস্রোতের বাইরে গিয়ে নিজস্ব ক্ষমতা প্রদর্শনের এক মরিয়া চেষ্টা মাত্র, যা সফল হলে শর্তসাপেক্ষে ফের দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া যাবে , আর ব্যর্থ হলে বিজেপির ক্ষতি না করেই বিলীন হয়ে যেতে হবে।

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বিজয়ের সাম্প্রতিকতম উদীয়মান রাজনীতির আবহে বিজেপি এখন আন্নামালাইয়ের মতো বিতর্কিত অধ্যায় পেছনে ফেলে নাইনার নাগেন্দ্রনের হাত ধরে এআইএডিএমকে-র সঙ্গে এক অজেয় জোট গঠন করতেই বদ্ধপরিকর এবং কিছু অংশে বাধ্যও বটে। সুতরাং, আন্নামালাইয়ের এই নতুন চাল কোনো আদর্শগত বিচ্ছেদ নয়, বরং বিজেপির অন্দরে কোণঠাসা হয়ে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্ল্যাকমেইলই বটে, যা বিজেপির কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের ‘টিম প্লেয়ার’ নীতির কাছে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক।

বিজেপির লক্ষ্য , মনে রাখতে হবে, তামিলনাড়ুতে ডবল ডিজিট ভোট শেয়ার ধরে রেখে শক্তিশালী জোট গড়ে তোলা।এবং সেখানেই আন্নামালাইয়ের ব্যর্থতা একটা বিরাট বড় ফ্যাক্টর। সব থেকে বড় জিনিস হল, কোয়েম্বাটোরে তার ,অর্থাৎ আন্নার পরাজয় ও জোটগতভাবে আসন লাভে ব্যর্থতা । ২০২৬এর বিধানসভা নির্বাচনে ২৭ টি আসনে লড়ে মাত্র ১টি জয় তাঁকে রীতিমতন দুলিয়ে দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে স্বভাবতই বিজেপির বর্তমান রণকৌশল হল আন্নামালাইয়ের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে নাইনার নাগেন্দ্রনের নেতৃত্বে এআইএডিএমকে-র সঙ্গে সমন্বয়। এবং একই সঙ্গে বলার যে, এই অঙ্কে আন্নামালাইয়ের ‘উই দ্য লিডারস’ মূলত তাঁর নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষা এবং দর কষাকষির একটি ব্যক্তিগত প্ল্যাটফর্ম মাত্র।

মনে রাখতে হবে ব্যক্তি আন্নামালাই নয়, বরং বিজেপির সংগঠন ও জোটগত অখন্ডতাই এখন তামিলনাড়ুতে দলের মূল অগ্রাধিকার। আর সেটাই এখন সার্বিকভাবে কতটা অর্জন করা যায় সেই দিকেই তাকিয়ে আছে বিজেপি।


Scroll to Top