
পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগেই প্রচারে বিজেপি ঘোষণা করেছিল অনুপ্রবেশকারীদের 'Detect,Delete,Deport' (থ্রি ডি) নীতি। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিটি ভাষণেই থাকত 'ঘুসপেটিয়া' প্রসঙ্গ। ক্ষমতায় আসার পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবিলম্বে অবৈধ বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গা অভিবাসীদের 'সনাক্তকরণ, অপসারণ ও বহিষ্কার' নীতি চালু করার কথা বলেন। রাজ্য প্রশাসন ইতিমধ্যেই মালদা ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলিতে হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করে সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের রাখার কাজ শুরু করেছে। অনেকে অসমের ডিটেনশন ক্যাম্পের সঙ্গে একে গুলিয়ে ফেলছেন। হোল্ডিং সেন্টারে সন্দেহভাজনদের পরিচয়পত্র যাচাই করার জন্য ৩০ দিন পর্যন্ত আটক রাখা যায় এবং প্রমাণিত হলে বহিষ্কারের জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু
ডিটেনশন ক্যাম্পে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব নির্ধারণ চলে। ফলে অনেকদিন, এমনকী অনির্দিষ্টকালের জন্য আটক রাখা সম্ভব।
পশ্চিমবঙ্গ স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক বিভাগ সমস্ত জেলাশাসকদের অবিলম্বে নথিপত্রহীন বিদেশী নাগরিকদের জন্য হোল্ডিং সেন্টার স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে, যেখানে সিসিটিভি ও কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হচ্ছে সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের। বিরোধীরা সতর্ক করেছেন, এই প্রক্রিয়ায় যেন কোনভাবেই বৈধ নাগরিকদের হয়রানি না হয়।

গত দুদিন ধরে অবশ্য এরাজ্যে অবৈধভাবে বসবাসকারী বহু বাংলাদেশী ঝামেলা এড়াতে নিজেরাই সীমান্তে জড়ো হয়ে স্বেচ্ছায় ওপারে ফিরে যাচ্ছেন। যাঁদের সিংহভাগই মুসলিম। ২০২৫ সালের অভিবাসন নীতি অনুযায়ী, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে যেসব হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি, খ্রিস্টানসহ সংখ্যালঘু ২০২৪ সালের ৩১ শে ডিসেম্বরের আগে ভারতে ঢুকে বসবাস করছেন, তাঁরা পাসপোর্ট, ভিসা বা অন্য কোনো নথিপত্র ছাড়াই থাকতে পারবেন।
অন্যদিকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বর্তমানে বেড়াবিহীন অংশগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করতে রাজ্য সরকার বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুততর করেছে। অভিযোগ, বহুদিন ধরে এবিষয়ে কেন্দ্রের নির্দেশ এড়িয়ে গেছে তৃণমূল সরকার। প্রায় ২২১৬ কিলোমিটার সীমান্তের ৫০০ কিলোমিটারই অরক্ষিত রয়ে গেছে। ফলে অনুপ্রবেশ থেকে চোরাচালান সবই বেড়েছে। তবে শুভেন্দু সরকার জমির ব্যবস্থা করলেই যে এখনই সমস্যার সমাধান হবে, এমনটা ভাবা ভুল। বাংলাদেশ সীমান্তের অনেকটা অংশ নদী ও জঙ্গলের কারণে দুর্গম, তার ওপর আছে ওপারের মানুষের বাধা। কখনও আবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জটিলতা সৃষ্টি করে। রাজ্য সরকার জমি হস্তান্তরের পরও রোজই মাপজোক করতে যাওয়া সার্ভেয়ারদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।

হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য ভাবে অবনতি ঘটেছে। মুহাম্মদ ইউনূসের পরে তারেক রহমান গদিতে বসলেও ভারত বিরোধিতার আবহ রয়েই গেছে। গঙ্গা চুক্তি ও তিস্তার জল নিয়ে ফের টানাপড়েন শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যাপক হারে অনুপ্রবেশকারী ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সতর্ক বাংলাদেশ।