
প্রিস্টোরিয়াসকে চেনেন আপনারা? নামে না চিনলেও, ক্রীড়াবিদ হিসেবে তঁার নাম জানার কথা। ব্লেড রানার হিসেবে গোটা দুনিয়ায় হইচই ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। এখনও চিনতে পারছেন না? পুরো নামটা বলব? অস্কার প্রিস্টোরিয়াস। নিবাস দক্ষিণ আফ্রিকা। এখনও পরিষ্কার হল না? তাহলে তাঁর একটি অপকীর্তির বলা যাক।
খ্যাতির শিখরে ছিলেন তিনি। ২০১৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি নিজের বাড়িতে বান্ধবী রিভা স্টিনক্যাম্পকে পরপর চারটি গুলি করে হত্যা করেছিলেন তিনি। ভাবতে পারছেন, কী নৃশংস তাঁর ওই পরিকল্পনা। বাড়ির বাইরে থেকে চারটি গুলি করেছিলেন। প্রত্যেকটি গুলি সরাসরি লেগেছিল বান্ধবী রিভার শরীরে। এফোঁড়–ওফোঁড় করে দেওয়া ওই চারটি গুলিতে নিহত রিভা সম্পর্কে পরে প্রিস্টোরিয়াস বলেছিলেন, ‘আমি গুলি চালিয়েছিলাম বাড়ির বাইরে থেকে। রিভাকে মারার হলে আমি তো বাড়িতে ঢুকে সামনাসামনি গুলি চালাতে পারতাম। আমার ধারণা ছিল, রাতে বাড়িতে কোনও অনুপ্রবেশকারী ঢুকে বাথরুমে লুকিয়েছিল।’ বাথরুমের দরজার বাইরে থেকে গুলি চালিয়েছিলেন প্রিস্টোরিয়াস। ভাবা যায়, কতটা অমানবিক হলে এমন কুকীর্তির সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলা যায়। নিজেকে বাঁচানোর কোনও সুযোগ রিভা পাননি। বা প্রিসস্টোরিয়াসের গুলি চালানোর ভঙ্গিতে ছিল এমন এক তীব্র, ঝাঁঝালো মনোভাব, যেখানে রিভাকে বাঁচানোর কোনও পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। ঝাঁঝরা করে দিয়ে রক্তবন্যা বইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এতটাই বুঁদ হয়েছিলেন খুনি, যে তিনি কাকে খুন করছেন, এসব ব্যাপার তাঁর মাথায় ছিল না। ন্যূনতম আবেগ থাকলে বান্ধবীকে এভাবে খুন করা যায়?

এবং এরপর প্রিস্টোরিয়াসের হাজতবাস। কী আশ্চর্য, এমন অপরাধীকে এক বছরের মধ্যে ওদেশের সরকার জেল থেকে মুক্তি দেওয়ার সরকারি অনুমতি দিয়েছিল। প্রত্যেকবারই বিচারকদের সামনে রিভা–হত্যাকারী নতমস্তকে একই কথা বলেছেন, ‘গুলি আমি চালিয়েছিলাম, কিন্তু রিভা যে বাথরুমের ভেতরে রয়েছে, এটা আমার কল্পনাতেও ছিল না। বলছি তো, আমি ভেবেছিলাম, বাইরের কোনও অনুপ্রবেশকারী, আগন্তুক নিজেকে বাঁচাতে বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিল। আমার অনুমান ছিল ভুল। তাই, আমার গুলিতেই মারা গিয়েছিল আমার বান্ধবী।’ জ্যান্ত মানুষকে খুন করা আসামি এই জবাব দিয়েই পার পেয়ে গিয়েছিলেন। অবাক লাগছে না? আমাদের দেশের শাসনব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা নিয়ে যঁারা প্রশ্ন তোলেন, তঁাদের ভেবে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি একথা বলে যে, বিদেশেও কিন্তু সেটিংয়ের তত্ত্ব দিব্যি আছে। এবং তার ফলে অনেক অপরাধ নিঃশব্দে ঢাকা পড়ে যায়।
এবার দেখা যাক উল্কার গতিতে যাঁর উত্থান হয়েছিল, সেই প্রিস্টোরিয়াস কীভাবে উল্কার মতোই জ্বলে ছাই হয়ে গিয়েছিলেন। এবং আবার ফিনিক্স পাখির মতোই ছাই থেকেই যেন পুনর্জন্ম লাভ করে ফেলছেন সেই কুখ্যাত খুনি, বিখ্যাত ব্লেড রানার। ব্লেড রানার নামে খ্যাত দক্ষিণ আফ্রিকান প্যারালিম্পিয়ান অস্কার প্রিস্টোরিয়াসের জীবনকে ব্যাখ্যা করা যায় এভাবেই।
২০২৪ সালে প্যারালিম্পিক্সে প্রথম পদক জেতেন তিনি। এরপর ২০০৮ সালে বেজিং থেকে তুলে নেন ৩টি সোনা। ২০১২ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত প্যারালিম্পিক্সে প্রিস্টোরিয়াস জিতেছিলেন ২টি সোনা, ১টি রুপো। সেবার চমকে দেন অলিম্পিক্সে। প্রথম অলিম্পিক্সে দৌড়েছিলেন কোনও ডাবল অ্যাম্পিউটি (এটা তো জানতে হবে যে হঁাটুর নীচে দুটো পা–ই নেই প্রিস্টোরিয়াসের। তবু তিনি প্যারালিম্পিক্সের মতো আসরে দৌড়োনোর সাহস দেখিয়েছিলেন।) এবার কি আস্তে আস্তে সেই ব্লেড রানার প্রিস্টোরিয়াসের কথা মনে পড়ছে?
একদিকে তঁার সাহস। অন্যদিকে তঁার রিভলভার চালিয়ে বান্ধবীকে খুন করা। ফিনিক্স পাখি যেভাবে ছাই থেকে প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছিল, এই কাহিনির নায়ক প্রিস্টোরিয়াস ২০২৪ সালে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর লোকচক্ষুর আড়ালেই ছিলেন। জেলফেরত আসামি বলতে গেলে শুরুতে বাড়ি থেকে বেরতেই চাইছিলেন না। কিন্তু সম্প্রতি তঁাকে দেখা গিয়েছে সাধারণের মধ্যে।
কী করছেন প্রিস্টোরিয়াস? কোথায় থাকছেন?
দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়াটারক্লুফ অঞ্চলে থাকছেন তিনি। দেখাও যাচ্ছে তাঁকে ওই এলাকায়। এটা প্রিটোরিয়ার কাছাকাছি। ওঁর কাকা, আর্নল্ড একজন বিত্তশালী মানুষ। যদি এই বিত্তশালী কাকার কথা বলতে হয়, তাহলে এটা মেনে নেওয়াও ভাল যে, সত্যিই কিন্তু প্রিস্টোরিয়াসের চাকরি করার কোনও প্রয়োজন নেই। হেসেখেলে কাকার কাছে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে পারেন তিনি। তবে, হাতের কাজ জানা থাকায় প্রিস্টোরিয়াস এখন মাঝেমধ্যে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থায় কাজ করতে যান। হয়তো ফুলটাইম নয়, কিন্তু সময় কাটাতে হবে তো। তাই, পরিচিত সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিতে ঢুকে পড়ছেন।
বান্ধবী জোগাড় করা ওদেশে কোনও সমস্যা নয়। জেল থেকে বেরিয়েই জুটে গেছে আরও এক বান্ধবী, রিটা গ্রেলিং। এখনও গায়ে তেলের গন্ধ। খুনির তকমা তো আছেই। তবু রিটার সঙ্গে প্রেম জমে উঠতে বিশেষ সময় লাগেনি। এক বান্ধবীকে খুন করে অন্য বান্ধবীর কোলে মাথা রাখার সুযোগ পাচ্ছেন প্রিস্টোরিয়াস। ব্যাপারটা কি ঠিক দুইয়ে দুইয়ে চারের মতো? রিটা কি ভয় পাননি প্রিস্টোরিয়াসের প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া দিতে? পাশ্চাত্যে এমন ধরা–ছাড়ার বহু কাহিনি রয়েছে। প্রিস্টোরিয়াস–রিটার ব্যাপারটাও অনেকটা সেরকমই।
প্রিস্টোরিয়াস এখন রিটাকেও সময় দেন। সবচেয়ে বড় কথা, রিটার সঙ্গে আগের বান্ধবী রিভার মুখের সাদৃশ্য রয়েছে অনেকটাই। রিটার মুখে কি রিভার প্রতিফলন দেখতে পান প্রিস্টোরিয়াস? হয়তো বা। এ কারণেই রিটার সঙ্গে তাঁর প্রেম হয়েই থাকতে পারে। প্রিস্টোরিয়াস কিন্তু প্রকাশ্যে এ ব্যাপারে একটিও শব্দ খরচ করেননি। তবে প্রতিদিন সকালে ছোট্ট পোষ্য পুডলকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে বেরন। সঙ্গে থাকেন তাঁর নতুন বান্ধবীও। কখনও কখনও লাকি ব্রেড ক্যাফেতে গিয়ে ক্যাম্পিং এক্স, প্যান ফ্রায়েড থাকে ব্রেকফাস্টের মেনুতে। কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার পর, ধীরে ধীরে প্রিস্টোরিয়াস সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে চাইছেন। চারটি গুলিতে রিভার খুন এখন অতীত। এমনকি ব্লেড রানার হয়ে অ্যাথলেটিক্স চর্চা করবেন কিনা, সেটা নিয়েও স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রবল আগ্রহ। আমাদের দেশের মতো ওখানেও চটজলদি যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর পেতে চায় জনতা। ধৈর্য ধরে প্রিস্টোরিয়াসের এই প্রত্যাবর্তনকে মেনে নিয়েও রয়েছে অজস্র প্রশ্ন। কবে থেকে ট্র্যাকে ফিরবেন? নতুন বান্ধবী রিটার সঙ্গে তঁার নতুন সংসার কেমন চলছে? ইত্যাদি ইত্যাদি।

তবে প্রিস্টোরিয়াস নিজে এসব প্রশ্নের কোনও উত্তর দিতে চান না। রাস্তায় নামলে ধীর পায়ে হেঁটে এগিয়ে যান। যাকে শুদ্ধ বাংলায় পাশ কাটিয়ে যাওয়া বলে আর কী। তবে সব চাউনিতেই থাকে অদ্ভুত এক হাসি। যার অর্থ, পথচারীকে তিনি অবজ্ঞা করছেন না। এতেই কিন্তু এলাকার মানুষদের মন জয় করে ফেলছেন। আপাতত নিয়মিত গির্জায় যাচ্ছেন। এসব দেখেশুনে জনমানসে সহানুভূতি কুড়িয়ে যাচ্ছেন নিয়ম করেই। সর্বশক্তিমানের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করার আগে ও পরে ভলান্টিয়ার (বাংলা ভাষায় আমরা যাঁদের স্বেচ্ছাসেবক বলি) হিসেবে কখনও কখনও গির্জায় প্রার্থনা জানাতে আসা আগন্তুকদের গাড়ি পার্কিংয়ে সাহায্য করেন। কখনও বা তাঁদের কফি সার্ভ করেন। ওই মুহূর্তে তিনি তখন আর ব্লেড রানার প্রিস্টোরিয়াস নন, এমনকি নন খুনিও, তখন তিনি এক মানুষ যিনি ভাল হতে চাইছেন। একেবারেই পছন্দ করেন না যে তাঁকে খুনি হিসেবে কেউ ডাকেন। এলাকার মানুষ সব জেনেও আপাতত চুপ করে আছেন। নজরে রাখছেন ভাল হতে চাওয়া মানুষটা কীভাবে আবার জনতার মধ্যে মিশে যেতে চাইছেন। কাজটা কঠিন। কিন্তু অসম্ভব নয়। খুনিকে কে আর কবে সহানুভূতির সঙ্গে ব্যবহার করার উৎসাহ দেখিয়েছেন। তাই, সামনাসামনি কিছু না বললেও, প্রিস্টোরিয়াস যে খুনি, এটা সবাই জানেন। কিন্তু কেউই তাঁকে এখন কটু কথা বলে সমাজচ্যুত করতে চাইছেন না।
এটাই তো প্রিস্টোরিয়াসের সবচেয়ে বড় পাওনা। তিনি জানেন যদি অপরাধীর তকমা তঁাকে মুছে ফেলতে হয়, তাহলে ক্রমাগত সমাজে তঁাকে ভাল কাজ করে যেতে হবে। আপাতত সেই উদ্যোগেই নিজেকে ডুবিয়ে রাখছেন। তবে ভয় পান একটি ব্যাপারে, যখন কেউ তঁার সঙ্গে কথা বলতে চান। সবাই তো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তঁার সেই অপকর্মের দিকেই আঙুল তুলবেন। পাছে আরও লজ্জায় পড়ে যেতে হয়, তাই একেবারে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন। পাড়ার লোকেরা অবশ্য বলছেন, এই গুটিয়ে রাখতে গিয়ে তো আরও একটা প্রেমও করে ফেলেছেন। তাহলে কী নতুন প্রেমিকা রিটাকে কৃতিত্ব দিতে হবে? রিটার আদর, ভালবাসা এবং অনুপ্রেরণায় প্রিস্টোরিয়াস কি ফিনিক্স পাখির মতো উড়ে বেড়াতে চাইছেন? আপাতত উড়ে বেড়ানোটা এক কঠিন কাজ। আকাশে ভেসে থাকার মতো যদি তিনি সমাজে মোটামুটি হেঁটেচলে বেড়াতে পারেন, সেটাও তো কম পাওনা নয়। এখন কেউ তঁাকে আর ব্লেড রানার হিসেবে চেনে না, চেনে তঁাকে খুনি হিসেবে। পরিকল্পিতভাবে চারটি গুলিয়ে চালিয়ে খুন করার ব্যাপারটা, এ জীবনে থেকেই যাবে। তা সে যতই তিনি সকালে নিয়ম করে পোষ্য পুডলকে নিয়ে হঁাটতে বেরন বা রিটার সঙ্গে হাত ধরাধরি করে ক্যাফেতে গিয়ে ঢুকে পড়ুন। তিনি খুনি, এই ব্যাপারটা সমাজ এখনও মনে রেখেছে, এটা জানেন স্বয়ং প্রিস্টোরিয়াস। তাই হঁাটাচলা, কথাবার্তায় রয়েছে এক অদ্ভুত জড়তা। এই বুঝি কেউ তঁাকে ডিম–থেরাপির মতো ‘ওই যে যাচ্ছে খুনি’ বলে চিৎকার করে উঠবেন। তিনি ভীত, তিনি সন্ত্রস্ত। এখনও। কারাগারের বাইরে থেকেও যেন তিনি লোকলজ্জার কারণে নিজেকে কারাগারের মধ্যেই দেখতে পাচ্ছেন। এটাও কিন্তু কম শাস্তি নয়। কেউ কি বোঝাবেন প্রিস্টোরিয়াসকে যে আবার যদি তিনি ট্র্যাকে ফিরতে পারেন, তখন কিন্তু এই অসহ্য বেদনার চাদরকে তিনি চারপাশ থেকে সরিয়ে ফেলতে পারবেন। অন্যথায় পাহাড়প্রমাণ লজ্জার চাপে লম্বা মানুষটা আরও যেন খর্বকায় হয়ে উঠছেন। এই যন্ত্রণাটা অপরিসীম, যা কিনা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অনুভব করা অবশ্য যেতেই পারে। এমন কলঙ্কের অতীত, বেদনায় ভরা অতীতকে ঝেড়ে ফেলে উঠে দঁাড়ানো অসম্ভব।
কেউ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চান। সবাই তো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তাঁর সেই অপকর্মের দিকেই আঙুল তুলবেন। পাছে আরও লজ্জায় পড়ে যেতে হয়, তাই একেবারে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন। পাড়ার লোকেরা অবশ্য বলছেন, এই গুটিয়ে রাখতে গিয়ে তো আরও একটা প্রেমও করে ফেলেছেন। তাহলে কী নতুন প্রেমিকা রিটাকে কৃতিত্ব দিতে হবে? রিটার আদর, ভালবাসা এবং অনুপ্রেরণায় প্রিস্টোরিয়াস কি ফিনিক্স পাখির মতো উড়ে বেড়াতে চাইছেন? আপাতত উড়ে বেড়ানোটা এক কঠিন কাজ। আকাশে ভেসে থাকার মতো যদি তিনি সমাজে মোটামুটি হেঁটেচলে বেড়াতে পারেন, সেটাও তো কম পাওনা নয়। এখন কেউ তাঁকে আর ব্লেড রানার হিসেবে চেনে না, চেনে তাঁকে খুনি হিসেবে। পরিকল্পিতভাবে চারটি গুলিয়ে চালিয়ে খুন করার ব্যাপারটা, এ জীবনে থেকেই যাবে। তা সে যতই তিনি সকালে নিয়ম করে পোষ্য পুডলকে নিয়ে হঁাটতে বেরন বা রিটার সঙ্গে হাত ধরাধরি করে ক্যাফেতে গিয়ে ঢুকে পড়ুন। তিনি খুনি, এই ব্যাপারটা সমাজ এখনও মনে রেখেছে, এটা জানেন স্বয়ং প্রিস্টোরিয়াস। তাই হাঁটাচলা, কথাবার্তায় রয়েছে এক অদ্ভুত জড়তা। এই বুঝি কেউ তাঁকে ডিম–থেরাপির মতো ‘ওই যে যাচ্ছে খুনি’ বলে চিৎকার করে উঠবেন। তিনি ভীত, তিনি সন্ত্রস্ত। এখনও। কারাগারের বাইরে থেকেও যেন তিনি লোকলজ্জার কারণে নিজেকে কারাগারের মধ্যেই দেখতে পাচ্ছেন। এটাও কিন্তু কম শাস্তি নয়। কেউ কি বোঝাবেন প্রিস্টোরিয়াসকে যে আবার যদি তিনি ট্র্যাকে ফিরতে পারেন, তখন কিন্তু এই অসহ্য বেদনার চাদরকে তিনি চারপাশ থেকে সরিয়ে ফেলতে পারবেন। অন্যথায় পাহাড়প্রমাণ লজ্জার চাপে লম্বা মানুষটা আরও যেন খর্বকায় হয়ে উঠছেন। এই যন্ত্রণাটা অপরিসীম, যা কিনা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অনুভব করা অবশ্য যেতেই পারে। এমন কলঙ্কের অতীত, বেদনায় ভরা অতীতকে ঝেড়ে ফেলে উঠে দাঁড়ানো অসম্ভব।