তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
ভোট, ধর্ম এবং পশ্চিমবঙ্গ

বিজেপির থিঙ্কট্যাঙ্করা বুঝে গেছেন যে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে শুধুই
‘হিন্দু হিন্দু’ করে বাংলায় তাঁদের চিড়ে ভিজবে না। তাঁরা এখন সাম্প্রদায়িকতার
সঙ্গে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং রাজনৈতিক
ইস্যুগুলিকে একসুতোয় গেঁথে একটা বকচ্ছপ গোছের প্যাকেজ তৈরি করার চেষ্টা করছেন! এই ভাবনার অভিনবত্ব আছে। এতে অনেক বেশি মানুষকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব। কিন্তু এর জন্য যে মেধা ও দূরদৃষ্টির প্রয়োজন তা বিজেপির রাজ্য
নেতৃত্বের আছে কিনা তা বলা কঠিন!
প্রশ্ন আছে এতে কাজ হবে কিনা তা নিয়েও। কারণ, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা
আসনের মধ্যে প্রায় ৮০টি আসনে সংখ্যালঘু ভোটই নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। কাজেই মুখে যে যাই বলুন না কেন, এই ভোট ব্যাঙ্ককে সংহত করতে যে সবাই ঝাঁপাবেন সেটাই স্বাভাবিক। আবার এটাও সত্যি যে, বিজেপি নিজেদের দাঁত-নখ ঢেকে রাখার যতই চেষ্টা করুক না কেন তাদের সংখ্যালঘু বিরোধিতার উগ্রতা এখনও
কমেনি!
বাংলার রাজনীতির একটা বিচিত্র অঙ্ক রয়েছে।ডান-বাম কোনো রাজনৈতিক দলই
সংখ্যালঘু ভোটকে অগ্রাহ্য করতে চান না। ভোট বড়ো বালাই কিন্তু এখানে তাঁরা পা
ফেলেন খুব সাবধানে। ভোটের দখল চাইলেও তাঁরা সাধারণভাবে কোনো বিশেষ
সম্প্রদায়ের দল হিসেবে পরিচিত হতে চান না। কারণ তাহলে তাঁদের ভাবমূর্তি
ধাক্কা খেতে পারে। কোনোমতেই তাকে নষ্ট হতে দেওয়া চলবে না। তাতে শেষে অসুবিধা
বাড়বে।
এছাড়াও এমন বেশ কিছু নির্বাচনী কেন্দ্র রয়েছে যাতে সংখ্যালঘু ভোট একটা বড়ো
ফ্যাক্টর। ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ পশ্চিমবঙ্গের বহু রাজনীতিবিদই এই সরল সত্যিটা সামনে রেখেই এগোন। তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক এবং বর্তমানে জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরও এই সংখ্যালঘু ভোটের কথা সামনে রেখেই এগোচ্ছেন।
তাঁর ভাবনা ধর্ম তাঁকে সুবিধা দেবে। টিএমসি, বিজেপি উভয়পক্ষকেই চ্যলেঞ্জ ছুঁড়ে
দিয়েছেন তিনি।
এটা মানতেই হবে যে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ধর্মের দাপট আগে এতটা ছিল না। তা নিয়ে বঙ্গবাসীর কিঞ্চিৎ গর্বও ছিল। ধর্মের দাপট এখনও যে বিরাট এমনটা নয়, কিন্তু এখন রাজ্য রাজনীতিতে ধর্ম যেন আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
অনেকের মতে, রাজ্যে জগন্নাথ মন্দির, মহাকাল মন্দির, দুর্গা অঙ্গন নির্মাণ তার একটা বড়ো প্রমাণ। তৃণমূলের বক্তব্য, ধর্মাচরণ ও ধর্মান্ধতা এক নয়।
মানুষকে ধর্মান্ধদের কবল থেকে মুক্ত করার জন্যই বিজেপির মতো রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি তাদের সমালোচনা বাড়াতে হচ্ছে। কারণ তারাই এখন দেশের
শাসকদল।
বামেরা মানছেন, মানুষ সমর্থন করেছে বলেই বিজেপির মতো দল ক্ষমতায় এসেছে। অন্যদিকে হুমায়ুন কবীরের মতো সরাসরি ধর্মীয় রাজনীতি করা নেতারা দাবি করছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সব ভোট তাঁরাই পাবেন। কারণ, সংখ্যালঘুদের স্বার্থ সবার
চেয়ে তাঁরাই বেশি রক্ষা করবেন। তাঁদের সমর্থন ছাড়া আগামী দিনে রাজ্যে কোনো সরকার গঠন করা যাবে না।
এবার প্রশ্ন আসতে পারে, সংখ্যালঘুরা নিজেরা এ নিয়ে কি ভাবছেন? রাজ্যের জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং প্রায় ৮০টি বিধানসভা কেন্দ্রে ৪৫ শতাংশেরও বেশি সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে তা এখন মূলত তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে যায়।
অন্যদিকে বিজেপিও এখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছে তাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল
করতে চাইছে। ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’ এবং দুর্নীতি ইস্যুর পাশাপাশি হিন্দুত্বের
কার্ড ব্যবহার করে ভোটব্যাঙ্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে তারা। খোলাখুলি হিন্দুত্ববাদী ঘোষণার বদলে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের সঙ্গে আঞ্চলিক সংস্কৃতির
পরিচয় মিলিয়ে একটা জাতীয়তাবাদী প্যাকেজ তৈরি করতে চাইছে তারা। কিন্তু এতে ভবী ভুলবে কিনা সেকথা সময়ই বলবে।

ভোট, ধর্ম এবং পশ্চিমবঙ্গ

রঞ্জন সেন

বিজেপির থিঙ্কট্যাঙ্করা বুঝে গেছেন যে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে শুধুই
‘হিন্দু হিন্দু’ করে বাংলায় তাঁদের চিড়ে ভিজবে না। তাঁরা এখন সাম্প্রদায়িকতার
সঙ্গে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং রাজনৈতিক
ইস্যুগুলিকে একসুতোয় গেঁথে একটা বকচ্ছপ গোছের প্যাকেজ তৈরি করার চেষ্টা করছেন! এই ভাবনার অভিনবত্ব আছে। এতে অনেক বেশি মানুষকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব। কিন্তু এর জন্য যে মেধা ও দূরদৃষ্টির প্রয়োজন তা বিজেপির রাজ্য
নেতৃত্বের আছে কিনা তা বলা কঠিন!
প্রশ্ন আছে এতে কাজ হবে কিনা তা নিয়েও। কারণ, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা
আসনের মধ্যে প্রায় ৮০টি আসনে সংখ্যালঘু ভোটই নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। কাজেই মুখে যে যাই বলুন না কেন, এই ভোট ব্যাঙ্ককে সংহত করতে যে সবাই ঝাঁপাবেন সেটাই স্বাভাবিক। আবার এটাও সত্যি যে, বিজেপি নিজেদের দাঁত-নখ ঢেকে রাখার যতই চেষ্টা করুক না কেন তাদের সংখ্যালঘু বিরোধিতার উগ্রতা এখনও
কমেনি!
বাংলার রাজনীতির একটা বিচিত্র অঙ্ক রয়েছে।ডান-বাম কোনো রাজনৈতিক দলই
সংখ্যালঘু ভোটকে অগ্রাহ্য করতে চান না। ভোট বড়ো বালাই কিন্তু এখানে তাঁরা পা
ফেলেন খুব সাবধানে। ভোটের দখল চাইলেও তাঁরা সাধারণভাবে কোনো বিশেষ
সম্প্রদায়ের দল হিসেবে পরিচিত হতে চান না। কারণ তাহলে তাঁদের ভাবমূর্তি
ধাক্কা খেতে পারে। কোনোমতেই তাকে নষ্ট হতে দেওয়া চলবে না। তাতে শেষে অসুবিধা
বাড়বে।
এছাড়াও এমন বেশ কিছু নির্বাচনী কেন্দ্র রয়েছে যাতে সংখ্যালঘু ভোট একটা বড়ো
ফ্যাক্টর। ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ পশ্চিমবঙ্গের বহু রাজনীতিবিদই এই সরল সত্যিটা সামনে রেখেই এগোন। তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক এবং বর্তমানে জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরও এই সংখ্যালঘু ভোটের কথা সামনে রেখেই এগোচ্ছেন।
তাঁর ভাবনা ধর্ম তাঁকে সুবিধা দেবে। টিএমসি, বিজেপি উভয়পক্ষকেই চ্যলেঞ্জ ছুঁড়ে
দিয়েছেন তিনি।
এটা মানতেই হবে যে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ধর্মের দাপট আগে এতটা ছিল না। তা নিয়ে বঙ্গবাসীর কিঞ্চিৎ গর্বও ছিল। ধর্মের দাপট এখনও যে বিরাট এমনটা নয়, কিন্তু এখন রাজ্য রাজনীতিতে ধর্ম যেন আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
অনেকের মতে, রাজ্যে জগন্নাথ মন্দির, মহাকাল মন্দির, দুর্গা অঙ্গন নির্মাণ তার একটা বড়ো প্রমাণ। তৃণমূলের বক্তব্য, ধর্মাচরণ ও ধর্মান্ধতা এক নয়।
মানুষকে ধর্মান্ধদের কবল থেকে মুক্ত করার জন্যই বিজেপির মতো রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি তাদের সমালোচনা বাড়াতে হচ্ছে। কারণ তারাই এখন দেশের
শাসকদল।
বামেরা মানছেন, মানুষ সমর্থন করেছে বলেই বিজেপির মতো দল ক্ষমতায় এসেছে। অন্যদিকে হুমায়ুন কবীরের মতো সরাসরি ধর্মীয় রাজনীতি করা নেতারা দাবি করছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সব ভোট তাঁরাই পাবেন। কারণ, সংখ্যালঘুদের স্বার্থ সবার
চেয়ে তাঁরাই বেশি রক্ষা করবেন। তাঁদের সমর্থন ছাড়া আগামী দিনে রাজ্যে কোনো সরকার গঠন করা যাবে না।
এবার প্রশ্ন আসতে পারে, সংখ্যালঘুরা নিজেরা এ নিয়ে কি ভাবছেন? রাজ্যের জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং প্রায় ৮০টি বিধানসভা কেন্দ্রে ৪৫ শতাংশেরও বেশি সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে তা এখন মূলত তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে যায়।
অন্যদিকে বিজেপিও এখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছে তাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল
করতে চাইছে। ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’ এবং দুর্নীতি ইস্যুর পাশাপাশি হিন্দুত্বের
কার্ড ব্যবহার করে ভোটব্যাঙ্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে তারা। খোলাখুলি হিন্দুত্ববাদী ঘোষণার বদলে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের সঙ্গে আঞ্চলিক সংস্কৃতির
পরিচয় মিলিয়ে একটা জাতীয়তাবাদী প্যাকেজ তৈরি করতে চাইছে তারা। কিন্তু এতে ভবী ভুলবে কিনা সেকথা সময়ই বলবে।


Scroll to Top