
বাইরে থেকে চকচকে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার আড়ালে ভারতের অর্থনীতির আসল কঙ্কালটা কি তাহলে সত্যিই বেরিয়ে পড়ছে? বিতর্কের সূত্রপাত কিন্তু ব্লুমবার্গের সেই রিপোরট থেকে , যেখানে বলা হয়েছে ভারত নাকি চুপিসারে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের সোনা বিক্রি করে দিয়েছে। ১২ বিলিয়ন অঙ্কটা ইয়ার্কি নয় এতে কোনো সন্দেহ নেই। ফলে ব্লুমবার্গের এই দাবি আজ আর কোনো বিচ্ছিন্ন খবর নয়—বরং একটি বৃহত্তর পচনের সংকেত। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক যদিও পিআইবি-র ঘাড়ের ওপর বন্দুক রেখে একে 'ফেক নিউজ' বলে ধামাচাপা দিতে চেয়েছে ঠিকই, কিন্তু ডেটার দিকে তাকালেই নড়েচড়ে বসতে হয়। মে মাসের মাঝমাঝি সময়ে সোনার ভাণ্ডারের মূল্য যেভাবে ৪ শতাংশ পড়ে গেল, তা কি কোনো সাধারণ বাজার বিপর্যয় মাত্র ? নাকি তলে তলে কোনো গভীর সংকটের ইঙ্গিত?
এইখানেই কি মনে পড়ে যায় না সেই কালো ইতিহাসের কথাও ! ১৯৯১ সাল। দেশের কোষাগার তলানিতে। সরকার দিশেহারা। সেই সংকটময় মুহূর্তে বিহ্বল চন্দ্রশেখর সরকার থেকে শুরু করে নরসিমা রাও।
দেশকে বাঁচাতে সেদিন বিদেশের ব্যাংকে সোনা বন্ধক রাখতে হয়েছিল। আজ ৩৫ বছর পর, সেই একই আতঙ্ক কি আবার ফিরে আসছে?
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক মরিয়া হয়ে মুখ বাঁচানোর চেষ্টা করছে ঠিকই, কিন্তু সত্যি কি করা যাচ্ছে মুখ রক্ষা ! নাকি তা আমাদের সেই ১৯৯১-এর দিনগুলোর কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে ! তখন সোনা বন্ধক রাখতে হয়েছিল বাঁচার জন্য, আর আজ কি তবে সোনা বেচে দিয়ে সরকার নিজের ব্যর্থতাকে আড়াল করার চেষ্টা করছে?
কর্পোরেট জগতও আজ ভয়ার্ত। উদয় কোটাকের মতো মানুষ যখন সরাসরি বলেন, 'আইপিএল-এর নেশা ছাড়ুন...'
তখন সেটা কেবল একটা উপদেশের মতো শোনায় না, মনে হয় যেন ডুবন্ত জাহাজের ক্যাপ্টেন চিৎকার করে বলছেন—সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। অথচ দেশের সরকার ব্যস্ত ইডি-র মতো অস্ত্র দিয়ে কর্পোরেট সহ সকলের মুখ বন্ধ করতে। যে দেশ এআই বা প্রযুক্তি বিপ্লবের দৌড়ে স্যামসাং বা টিকটকের মতো কোম্পানির কাছে হেরে যায়, তারা কোন মুখে বিশ্বের পাঁচ নম্বর অর্থনীতির তকমা লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়?

ট্রাম্পের আমেরিকা যখন আমাদের ওপর ট্যারিফের বোঝা চাপাতে উদ্যত, যখন রাশিয়া থেকে তেল কেনার দায়ে আমাদের ‘জোরপূর্বক শ্রম’ ব্যবহারের অভিযোগে বিদ্ধ হতে হয়, তখন ভারতের সেই তথাকথিত কূটনৈতিক দাপট কোথায়? সরকার শুধু ‘আলোচনা চলছে’ বলে দায় সারছে ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে রপ্তানি তো কমছে, অথচ বেকারত্বের জ্বালা বাড়ছে, আর ছোট বিনিয়োগকারীদের এসআইপি অ্যাকাউন্টগুলো একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আর ব্লুমবার্গ ইকোনমিক্সের অভিষেক গুপ্তা ' অনুমান ' করছেন আর বি আই মে মাসে বারো বিলিয়ন ডলার মূল্যের সোনা বিক্রি করেছে।
আর বি আই ৩ জুন ২০২৬ অফিসিয়াল বিবৃতি দিয়ে বলেছে বটে যে, এই রিপোর্ট সঠিক না। ফিজিক্যাল সোনার মজুত ৮৮০.৫২ টনই আছে, একটুও বিক্রি হয়নি। পি আই বিও একে 'ফেক ' ট্যাগ দিয়েছে । সব ঠিক আছে। এবং অক্টোবর আসতেও কিন্তু বেশি দেরি নেই। বিশেষজ্ঞদের একাংশ কিন্তু বলতে শুরু করেছেন, তখনই এই মিথ্যে বেলুনটা সশব্দে ফেটে পড়বে। হোয়াটসঅ্যাপের কোনো মিথ্যে গৌরবই তখন আর পেট ভরাবে না। তাই এখনো সময় আছে জেগে ওঠার, নয়তো, বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন মহলে ফিসফাস, যে, সচেতন না হলে ১৯৯১-এর চেয়েও বড়ো কোনো অরাজকতা আর প্যাঁচে জেরবার সরকারের সাক্ষী হতে আমাদের খুব বেশি সময় লাগবে না।