তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
তৃণমূলের ভোট বিপর্যয়ের পর কাঠগড়ায় আইপ্যাক

আই-প্যাক, Indian Political Action Committee। ভারতের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরামর্শদাতা ও ভোটকুশলী সংস্থা। তবে তাদের ক্লায়েন্ট তালিকায় শুধু তৃণমূল নয়, বিজেপিসহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল ছিল বা আছে। আধুনিক প্রযুক্তি, ডেটা অ্যানালিসিস, এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারকে কাজে লাগিয়ে আইপ্যাক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী রণকৌশল তৈরি ও পরিচালনা করে। বিদেশে এই ধরনের এজেন্সিকে ভোটের কাজের বরাত দেওয়ার চল থাকলেও ২০১৫ সালের আগে পর্যন্ত ভারতে সেভাবে দেখা যেত না। ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর ২০১৫ সালে আইপ্যাক তৈরি করার পর ব্যাপক প্রচার পায়।

আইপ্যাক গত এগারো বছরে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে রণকৌশল তৈরি করেছে। সাফল্যের তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস, বিহারে জেডিইউ, অন্ধ্রপ্রদেশে ওয়াইএসআর কংগ্রেস এবং তামিলনাড়ুতে ডিএমকে-এর মতো আঞ্চলিক দলগুলোর হয়ে ঐতিহাসিক জয় এনে দেওয়া। শুধু তাই নয়, অতীতে খোদ নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক প্রচারেও মাঠে নামতে দেখা গেছে আইপ্যাককে।বাদ যাননি অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। ২০১৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বড় ছাপ রাখে প্রশান্ত কিশোরের টিম। যদিও আইপ্যাক তখনও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আসেনি, কিন্তু Citizens for Accountable Governance (CAG) নামে প্রশান্ত কিশোরের নেতৃত্বাধীন এই টিমই নরেন্দ্র মোদির ‘চায়ে পে চর্চা’ এবং ‘থ্রি-ডি র‍্যালি’-র মতো আইকনিক প্রচারের পরিকল্পনা করেছিল।

তৃণমূলের সঙ্গে আইপ্যাকের ঘনিষ্ঠতার শুরু ২০১৯ সালে। মমতার বিশেষ আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন পিকে। তৃণমূলের ভাবমূর্তি পরিবর্তন করতে একের পর এক কর্মসূচি নিতে দেখা যায় আইপ্যাককে। ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচী থেকে দুয়ারে সরকার’ প্রকল্প, ২০২১ সালে সুপারহিট ‘বাংলার মেয়ে’ বা ' খেলা হবে' স্লোগান তৃণমূলকে বিপুল জয় পেতে সাহায্য করে। এরপর অবশ্য প্রশান্ত কিশোর সরাসরি রাজনীতিতে চলে যান ও নিজের দল তৈরি করেন -জন সূরজ পার্টি। আইপ্যাকের কর্ণধার হন প্রতীক জৈন। ২০২৫ এ বিহার বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর আপাতত পিকে 'আশ্রমবাসী' হবেন বলে ঘোষণা করেছেন। প্রশান্তের অবর্তমানেও তৃণমূলের আইপ্যাক নির্ভরতা তো কমেনি, উল্টে অভিষেক ব্যানার্জির সঙ্গে তাদের দহরম মহরম তুঙ্গে ওঠে। এর ফলে দলের ভিতর অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রবীণ নেতাদের উপেক্ষা করে অভিষেক আইপ্যাকের পরামর্শে প্রার্থী নির্বাচন করেছেন। এর ফলে বহু দুর্নীতিগ্রস্ত ও আনকোরা অনভিজ্ঞ মুখ লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছে। বলা বাহুল্য, আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মত এ ব্যাপারেও চোখ বুজে ছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

এ ছাড়া সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি-র তদন্ত ও সুপ্রিম কোর্টে আই-প্যাক কর্তা বিনেশ চান্দেলের জামিন সংক্রান্ত মামলা ও শুনানি নিয়েও বেশ চর্চা চলেছে। কলকাতায় আইপ্যাক দপ্তরে ইডি হানার সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি যেভাবে জোর করে ঢুকে ফাইল নিয়ে যান, তাতে প্রবল বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

২০২৬ এ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহাসিক পরাজয়ের পর আইপ্যাক -এর ভূমিকা নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আইপ্যাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ও তাদের তৈরি ভুল রণকৌশল তৃণমূলের এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। তাঁরা উদাহরণ টেনে দেখান, অন্য যেসব দল অতীতে আইপ্যাকের পরামর্শে সাফল্য পেয়েছে, তারা পেশাদার ভাবে এজেন্সিকে ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে তৃণমূল আইপ্যাককে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে একেবারে ঘরে ঢুকিয়ে নিয়েছিল। এর মধ্যে কাটমানি সংক্রান্ত অভিযোগও ওঠে খোদ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে।

এবার দেখার,‌ এই ট্র্যাক রেকর্ডের পর দেশ জুড়ে আইপ্যাকের ব্যবসা তলানিতে ঠেকে কিনা।


Scroll to Top