
বয়স মাত্র ২৭। এবং লেখাপড়ায় তুখোড়। এই ২৭ বছরের তরুণীই কিন্তু অসমের রাজনীতিতে এখন আলোচনার একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে । নাম কুঙ্কি চৌধুরী। লণ্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজ (UCL) থেকে মাস্টার্স করে ফিরে এসে তিনি যেভাবে কংগ্রেসের জোটসঙ্গী অসম জাতীয় পরিষদের প্রার্থী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছেন, তাঁকে অনেকে ‘অসমের নতুন গান্ধী’ বা ‘জায়ান্ট কিলার’ বলতে শুরু করেছেন। রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধী এই তরুণীকে কতখানি গুরুত্ব দিয়েছেন, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ গুয়াহাটি সেন্ট্রাল আসনটি অজপকে ছেড়ে দেওয়া।
কেন কুঙ্কি চৌধুরী আলাদা?
কুঙ্কি অসমের প্রথম ‘ডিজিটাল নেটিভ’ প্রার্থী। প্রচারের জন্য তিনি প্রথাগত পদ্ধতির চেয়ে মোবাইল স্ক্রিনকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। পাড়ার মোড়ে মোড়ে তাঁর কিউআর কোড যুক্ত পোস্টার লাগানো হয়েছিল, যা স্ক্যান করলে সরাসরি তাঁর ভিশন ডকুমেন্ট এবং পডকাস্ট দেখা যেত।
তিনি গুয়াহাটির এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তাঁর প্রপিতামহ ভারতীয় সংবিধান সভার সদস্য ছিলেন। নিজে লণ্ডন থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে কর্পোরেট জগতের চাকচিক্য ছেড়ে গুয়াহাটির সমস্যার সমাধান করতে রাস্তায় নেমেছেন।
তিনি যখন গুয়াহাটির নর্দমা বা বন্যার সমস্যা নিয়ে কথা বলেন, তখন তাঁকে কোনো সাধারণ রাজনীতিবিদের মতো নয়, বরং একজন ‘আরবান প্ল্যানার’-এর মতো শোনায়। তাঁর খাতায় আঁকা আছে গুয়াহাটির দৈনন্দিন জীবনের সমস্যার ছবি।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ভোট প্রচারে কুঙ্কির মাকে নিয়ে ব্যক্তিগত কুৎসা করেছেন। তিনি বলেছেন যে কুঙ্কির মা গো-মাংস খান। কুঙ্কি পাল্টা গর্জে উঠে জানান যে তাঁর ও তাঁর মায়ের ‘ডিপ ফেক’ ভিডিও ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর মা এই সাইবার হয়রানির বিরুদ্ধে জাতীয় মহিলা কমিশনে অভিযোগ পর্যন্ত করেছেন।
গুয়াহাটি সেন্ট্রাল আসনে ৭৮%-এর বেশি ভোট পড়েছে, যার বড় অংশই মহিলা ভোটার। মনে করা হচ্ছে, হিমন্তের ব্যক্তিগত আক্রমণ ব্যুমেরাং হয়েছে, কুঙ্কির সপক্ষে বড় ধরনের ‘সিম্প্যাথি ওয়েভ’ তৈরি হয়েছে। জেতা হারা বড় বিষয় নয়, হিমন্তের মত নেতাকে ভয় পাইয়ে দেওয়ার হিম্মতটাই আসল। ভোটের ফলাফলই বলে দেবে, বিলেত ফেরত এই মেয়েটি কি সত্যিই অসমের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিল?