
চার বছর আগে কাতার বিশ্ব কাপ ফুটবল ফাইনাল এ রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর এক হাজার দুশো একাত্তর দিন পড়ে আবার বিশ্ব কাপ ফিরলো মেক্সিকোর আজটেকা স্টেডিয়ামে। উদ্বোধনী ম্যাচে আয়োজক দেশ মেক্সিকো ২-0 হারালো দক্ষিণ আফ্রিকাকে। এই পর্যন্ত ঠিক আছে। কিন্তূ বর্ণময় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেক্সিকান উপজাতি ইনকা সভ্যতার প্রতিভূদের ফুটবলের মাধ্যমে হিংসা দূর করে শান্তির ললিত বাণী স্থাপনের আহ্বানকে উপেক্ষা করে যেন এই ম্যাচটি উপহাস হয়ে আগামী কয়েক প্রজন্মের কাছে সিগনেচার হয়ে থাকবে। তিনটি লাল কার্ড দেখিয়েও ম্যাচ রেফারি চূড়ান্ত শারীরিক সংঘর্ষ কে বাগে আনতে ব্যার্থ হন। ম্যাচে মেক্সিকো আশি হাজার ঘরোয়া দর্শকের সমর্থন নিয়ে যোগ্য দল হিসেবে ম্যাচ জিতেছে বটে, তবে বিশ্ব কাপ এর ইতিহাসে কুখ্যাত ম্যাচ হিসেবে এই খেলাটি ভাবিকলের কাছে চিহ্নিত হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার তিনজন লাল কার্ড দেখেছেন বলে নয়, ফিজিক্যাল ফুটবল এর চূড়ান্ত রূপ দেখলো মাঠে উপস্থিত দর্শকরা আর সারা বিশ্বের কয়েক বিলিয়ন টিভি দর্শক। ষোলো বছরের ব্যাবধানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্ব কাপ ফুটবলে ফেরার লগ্নটি কলংকিত হয়ে থাকলো। ষোলো বছর আগে, এই এগারো জুন তারিখে জোহাণেসবার্গ এ হোস্ট নেশন হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা মুখোমুখি হয়েছিল মেক্সিকোর। ম্যাচটি ১-১ গোল এ শেষ হয়েছিল।

পাশারb ডান এবার উল্টে গেছে। এবার হোস্ট নেশন মেক্সিকো। প্রতিপক্ষ সেই দক্ষিণ আফ্রিকা। ষোলো বছর আগের সেই স্মৃতি কি মেদুর করেছিল দুদলের খেলোয়াড়দের? মনে তো হয়না! সেবার খেল হয়েছিল এক হার্দিক পরিবেশে। এবার দু দলের আগ্রাসী মানসিকতা তা হতে দেয়নি। ম্যাচের পাঁচ মিনিটের মাথায় দক্ষিণ আফ্রিকার গোলকিপার উইলিয়াম যখন মেক্সিকোর একটি কঠিন আক্রমণ প্রতিহত করেন তখনই বোঝা গিয়েছিলো এই ম্যাচের ভবিতব্য কি হতে চলেছে।জুলিয়ান কুইনন্স ও রাউল জিমিনেজ এর অসাধারণ নৈপুণ্য মেক্সিকো কে এগিয়ে রেখেছিলো বরাবরই।কুইনোন্স এবারের বিশ্ব কাপের উদ্বোধনী গোল টি করেন। লেফট উইং থেকে কাট করে ভিতরে ঢুকে তিনি এই গোলটি করেন। দেহপট সনে নট ( পড়ুন ফুটবলার ) সকলই হারায় -- এই ধারণাটিকে যেন ব্যাঙ্গ করে ৩৫ বছর বয়স্ক জিমিলেজ দুর্দান্ত হয়ে ওঠেন। হেড এর সাহায্যে তাঁর গোল মেক্সিকোকে ২-০ এগিয়ে দেয়। ডিফেন্সে জেসুস গালার্ড ও গোল রক্ষক রাউল রাঙ্গেলও নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করেছেন। মেক্সিকো ২-০ করার পরই দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়দের বল ছেড়ে মানুষকে লাথি মারার প্রবণতাটি দেখা যায়।রেফারি উইল্টন সম্পইও খেলার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্যে হলুদ কার্ড ও লাল কার্ড এর আশ্রয় নেন। দক্ষিণআফ্রিকার ইয়ায়ে সিথল প্রথম লাল কার্ড টি দেখেন। ভি আর সাহায্য নিয়ে রেফারি জুয়ান থিমবা কে দ্বিতীয় লাল কার্ড টি দেখান। ইনজুরি টাইমে তৃতীয় লাল কার্ড টি দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক সিজার মন টেস। কাতার বিশ্ব কাপে ৬৪ টি ম্যাচে তিনটি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। এবার উদ্বোধনী ম্যাচেই তিনটি মার্চইং অর্ডার। এবার কি বিশ্ব কাপে চূড়ান্ত ফিজিক্যাল ফুটবল দেখার অপেক্ষা?