
দীর্ঘ বাইশ বছর পরে ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতে আবার একটি সর্বভারতীয় ট্রফি ঢুকলো। এদিন কিশোর ভারতী স্টেডিয়াম এ ইন্টার কাশীকে ১-২ গোলে হারিয়ে তারা ভারত সেরার সম্মান পেল। হতে পারে এবারের আই এস এল সংক্ষেপিত। হতে পারে এবারের আই পি এল কৌলিন্য হারিয়েছে -- কিন্তু দীর্ঘদিন বাদে আই এস এলের ইতিহাস লেখা হলে ২০২৫ - ২৬ এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইস্টবেঙ্গল এর নামই লেখা থাকবে।ক্লাব ট্রফি না পাওয়ায় ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের অনেক হেনস্থা সহ্য করতে হয়েছে। ক্লাব এর প্রধান কর্তা দেবব্রত সরকারকে নিগৃহীত পর্যন্ত হতে হয়েছে যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। দেবব্রত সেদিন শুধু বলেছিলেন -- অপেক্ষা করো সুদিন নিশ্চয় আসবে। সেই সুযোগ এলো বৃহস্পতিবার ইন্টার কাশীকে ১-২ গোলে লাল হলুদ দল হারানোর সঙ্গে সঙ্গে। ইস্টবেঙ্গল ম্যানেজার অস্কার ব্রুজো কে কম অপমান সহ্য করতে হয়নি, দল ভালো খেলতে না পারায়। ব্রুজো কে যখন বৃহস্পতিবার এক দর্শক কোলে তোলার চেষ্টা করেন, অস্কার তাঁকে নিরস্ত করেন।

অস্কার ব্রুজোকে কি ইস্টবেঙ্গলের ম্যানেজারের ভূমিকায় আর দেখা যাবে? সময় এই প্রশ্নের জবাব দেবে। কিন্তু আমরা একবার যাই কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঠে উপস্থিত হাজার আটেক দর্শক কিশোর ভারতীর ফেন্স টপকে মাঠে ঢুকে পড়েন। ইস্টবেঙ্গলের নামে জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে কিশোর ভারতী। স্কোরার ইজেজারি এবং রাশিদকে কাঁধে তুলে উন্মত্ত নৃত্য শুরু হয়। ইন্টার কাশির কাছে এক গোলে পিছিয়ে পড়লেও ইজেজারির গোলে সমতা ফেরে। জয়সূচক গোলটি করেন রাশিদ। এদিন কিশোর ভারতী স্টেডিয়াম থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরত্বে মোহনবাগান দিল্লির বিরুদ্ধে প্রথমে পিছিয়ে পড়লেও শেষ মুহূর্তে ম্যাচ জেতে ১-২ গোলে ঠিক ইস্টবেঙ্গল এর মতোই। দুদলের পয়েন্ট একই বিন্দুতে দাঁড়ালেও গোল পার্থক্যতে ইস্টবেঙ্গল এগিয়ে যায়। এইরকম ছিলা টানটান উত্তেজনায় আই এস এল এর খেলা কমই শেষ হয়েছে। ইস্টবেঙ্গল শুধু ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতলেই চ্যাম্পিয়ন হত। মোহনবাগান যদি দিল্লিকে পাঁচ গোলের ব্যাবধানে হারাতে পারতো তাহলে ইতিহাস অন্য ভাবে লেখা হত। সেরকম কিছু হয়নি। কে যেন বলেছিলো ভাগ্য সাহসীদের সাথ দেয়!