তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
ভারতে বিপন্ন সংবাদ জগতের স্বাধীনতা

২০২৬ সালের প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে ১৫৭তম স্থানে নেমে গেল ভারত। ১৮০টি দেশের মধ্যে ভারত ১৫৭তম স্থানে । ২০২৫ সালে ভারতের স্থান ছিল ১৫১তম। নজর করার বিষয় হল,এক বছরে ভারত ৬ ধাপ নেমেছে কেবল নয়, 'অতি গুরুতর' ক্যাটাগরিতেও স্থান পেয়েছে। ভারতে স্বাধীন মিডিয়ার বিরুদ্ধে আইনি হয়রানি বাড়ছে। মানহানি ও জাতীয় নিরাপত্তা আইন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ভাবে এটা ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ গড় স্কোর।

১৮০টি দেশের মধ্যে ভারতের এই ১৫৭তম অবস্থানে নেমে আসা কেবল একটি ঘটনা মাত্র নয়, বরং এটি দেশের গণতান্ত্রিক স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতির সংকেত। প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান (১৫৩) বা যুদ্ধবিধ্বস্ত প্যালেস্টাইন (১৫৪)-এর নিচে ভারতের অবস্থান একটি অভূতপূর্ব পরিস্থিতি তৈরি করেছে। হিসেব বলছে, জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে UAPA-র মতো কঠোর আইনের যথেচ্ছ ব্যবহার সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার পাশাপাশি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকেও এখন ‘বিপজ্জনক’ পেশায় পরিণত করেছে।

মিডিয়া হাউসের মালিকানা গুটি কয়েক কর্পোরেট গোষ্ঠীর হাতে চলে যাওয়ায় সম্পাদকীয় স্বাধীনতা বিলুপ্তপ্রায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ খবরের বদলে ‘পক্ষপাতদুষ্ট প্রচার’ প্রাধান্য পাচ্ছে বলেই ওয়াকিবহাল সূত্রের মত।

গ্রামীণ ও জেলা স্তরের বহু ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা স্থানীয় দুর্নীতি ফাঁস করতে গিয়ে শারীরিক ও প্রশাসনিক আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে মহিলা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিত ট্রোলিং এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ তাঁদের পেশাগত কাজের ক্ষেত্রকে সীমিত করে ফেলছে বলেই খবর। ফলে, মূলধারার সংবাদমাধ্যম যখন সেন্সরশিপের কবলে পড়ে, তখন সমাজে ‘মিস-ইনফরমেশন’ বা গুজব ডালপালা মেলার সুযোগ পায়।

নরওয়ে বা ডেনমার্কের মতো দেশ যখন শীর্ষে, সেখানে ভারত 'ভেরি সিরিয়াস' ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া বিশ্ব দরবারে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম যখন ‘ওয়াচডগ’ হিসেবে কাজ করতে ব্যর্থ হয়, তখন ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতি লাগামহীন হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই ১৫৭তম র‍্যাঙ্ক একটি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর তরফে লড়াই নয়, বরং তা সাধারণ নাগরিকের সত্য জানার মৌলিক অধিকার রক্ষার লড়াই। আইনি সংস্কার এবং সম্পাদকীয় স্বায়ত্ত্বশাসন নিশ্চিত না করলে ভারতের গণতন্ত্র কেবল একটি নামসর্বস্ব কাঠামোতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থাকছে।


Scroll to Top