খুব লজ্জা হচ্ছে এই সম্পাদকীয় লিখতে!
স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে বড়ো বিমান দুর্ঘটনা, অন্তত মৃত্যুর সংখ্যা দিয়ে বিচার করলে তাই বলা যায়। ড্রিমলাইনারের মতো 'আধুনিক ও নিরাপদ' বিমানের ওড়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ভেঙে পড়া বিস্মিত করেছে বিশেষজ্ঞদের। আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এ আই ১৭১।
বিমানে যাত্রী ও চালক-কর্মী মিলিয়ে ছিলেন মোট ২৪২ জন। এক যাত্রী আশ্চর্যভাবে বেঁচে গেছেন। বাকি সবাই নিহত। শুধু তা-ই নয়, বি জে মেডিক্যাল কলেজের মেসের উপর বিমানটি ভেঙে পড়ায় মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েকজন ডাক্তারি পড়ুয়ার ও আবাসনের বাসিন্দার।
যে কোনো বড়ো দুর্ঘটনার পর যা হয়, সরকারি-বেসরকারি স্তরে কাটাছেঁড়া চলে, কিছু তথ্য, কিছু অনুমানের ভিত্তিতে। যদিও সঠিক কারণ বলবে ব্ল্যাক বক্স, তবু আলোচনা চলছেই। কেউ বলছেন, বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার আদৌ নির্ভরযোগ্য নয় , কারণ এর প্রযুক্তিগত সমস্যা আগেই ধরা পড়েছে। যোজনা কমিশনের আপত্তি সত্ত্বেও নাকি বিমান মন্ত্রক এগুলি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ বলছেন, পাখির ধাক্কা ছাড়া দুটি ইঞ্জিন একসঙ্গে বন্ধ হওয়া সম্ভব নয়।
এই প্রসঙ্গে উঠে আসছে কলকাতাসহ দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর এলাকায় পাখির ওড়া নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পুরনো আলোচনা। কেউ বলছেন, বিমানবন্দরের কাছে বড়ো বাড়ি তৈরির অনুমতি কেন দেয় প্রশাসন? তাহলে দুর্ঘটনার অভিঘাতে অতিরিক্ত প্রাণহানি এড়ানো যায়। এই বিষয়েও কলকাতাসহ নানা শহরে প্রস্তাব এসেছে বিভিন্ন সময়ে। ঐ বিমানে কিছুক্ষণ আগে দিল্লি থেকে আহমেদাবাদে আসা এক যাত্রী আবার ট্যুইট করেছিলেন, এসি কাজ করছে না ঠিকমতো।
এত বিতর্কের মাঝে একটা সারসত্য আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে নাড়িয়ে দিয়েছে - এতগুলো পরিবারের সারাজীবনের নিঃস্বতা তো কখনও ভরবে না ! সমবেদনা, ক্ষতিপূরণ কোনো কিছুতেই না। জানি, দুর্ঘটনা পুরোপুরি এড়ানো যায় না। একটাই প্রার্থনা, কর্তৃপক্ষ সতর্ক হোন, ভবিষ্যতে মানুষের গাফিলতিতে এরকম বিপর্যয় যেন আর না ঘটে।