
কেরলের পাল্লাকড়ে রয়েছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিধানসভা কেন্দ্র - পাল্লাকড় আর মলমপুঝা। এবারের বিধানসভা ভোটে দুই আসনেই ত্রিমুখী লড়াই। এর মধ্যে মলমপুঝাকে বলা যায় লাল দুর্গ। এখানকার বিধায়ক পোড় খাওয়া কৃষক- শ্রমিক নেতা এ প্রভাকরণের সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে বুঝলাম, খুব চাপে আছেন। প্রচারে ঘুরে গলা একেবারে বসে গেছে। চাপে থাকা স্বাভাবিক কারণ তাঁর কাঁধে মলমপুঝার বাম দুর্গ ধরে রাখার গুরুদায়িত্ব। ১৯৬৭ সাল থেকে গত প্রায় ৬০ বছর এখানে বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের জয়জয়কার। এই কেন্দ্র থেকে একসময় জিতেছেন কেরলের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অচ্যুতানন্দন আর নায়নার, এ কে গোপালনের মত নেতা। সেই পরম্পরা বহন করে প্রভাকরণ লাল ঝান্ডা উঁচিয়ে রাখবেন, সেটাই প্রত্যাশিত।

এর ওপর রয়েছে পাল্লাকড়ের অন্য বিধানসভা আসনটিতে জবরদস্ত বিজেপি প্রার্থী শোভা সুরেন্দ্রনের আগ্রাসী প্রচার। শোভা কেরল বিজেপির সাধারণ সম্পাদক, মহিলা মোর্চা নেত্রী। গোটা পাল্লাকড় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। মলমপুঝায় কংগ্রেসের প্রার্থী এ সুরেশ বা বিজেপির সি কৃষ্ণকুমার অবশ্য প্রভাকরণের মত জনপ্রিয় নন।

প্রভাকরণের সঙ্গে কথা বলে মনে হল জয়ের ব্যাপারে তাঁর আত্মবিশ্বাস এতটুকু টাল খায়নি। গত পাঁচ বছরে অনেক কাজ করেছেন তিনি। এমনিতেই বামেদের প্রচেষ্টায় কেরলে শিক্ষার হার সর্বোচ্চ, দারিদ্র্যও অন্য অনেক রাজ্যের তুলনায় নিয়ন্ত্রণে। মলমপুঝার বিখ্যাত বাঁধ, যাকে তুলনা করা হয় মহীশূরের বৃন্দাবন গার্ডেনের সঙ্গে, সেটির আমূল সংস্কার করেছেন প্রভাকরণ। প্রায় নষ্ট হয়ে গেছিল ৬৫ একর জুড়ে কেরলের বৃহত্তম বাঁধ আর সেই সংলগ্ন উদ্যান। জানালেন, আগামী এমাসের মধ্যে আবার সেখানে শুরু হবে বলিউড ফিল্মের শ্যুটিং, যেমন হত একসময়।