তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
চরম গরমের জন্য তৈরি থাকুন

গরম আসছে। ইতিমধ্যেই পরিবেশবিদেরা সাবধান করে দিচ্ছেন, আসন্ন গ্রীষ্ম সাধারণ গরম কাল হবে না, বরং তা চরম আবহাওয়ার পর্যায়ে চলে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহবিদদের মতে, এর পেছনে কাজ করছে প্রশান্ত মহাসাগরের 'সুপার এল নিনো' পরিস্থিতি।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তর পরিষ্কার জানিয়েছে, এবার মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত ভারতের অধিকাংশ জায়গায় দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা বেশি থাকবে। অনেক বেশি সংখ্যক দিন আমাদের 'লু' বা তাপপ্রবাহ সহ্য করতে হবে। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম ভারত এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এই বিপদের আওতায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এপ্রিলের শেষ থেকে মে মাসের মধ্যে তাপমাত্রা চরমে পৌঁছবে। এই রাজ্যের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হতে পারে। কিছু পূর্বাভাস বলছে, এপ্রিলে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে (পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান) গরমের তীব্রতা রাজস্থানকেও ছাপিয়ে যেতে পারে। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে শুধু তাপমাত্রা নয়, আর্দ্রতা বেশি থাকার কারণে 'ডিসকমফোর্ট ইনডেক্স' বা অস্বস্তি সূচক মারাত্মক পর্যায়ে থাকবে। রাতেও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের ওপরে থাকায় স্বস্তি মিলবে না।

কিন্তু স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, এরকম কেন হতে পারে বলে মনে করছেন আবহবিদেরা। তাঁরা বলছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের জল অস্বাভাবিক গরম হয়ে ওঠায় বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ছে। ২০২৬-এ একটি 'পাওয়ারফুল এল নিনো' তৈরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভারতের বর্ষাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসেই বৃষ্টিপাতের ঘাটতি প্রায় ৬০%। এই পরিস্থিতিতে মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় খুব দ্রুত লু বইতে শুরু করবে বলেই মনে করছেন তাঁরা। বিশেষ করে, সিমেন্ট-কংক্রিটের জঙ্গল আর এসির ব্যবহারের কারণে কলকাতা আর রাজ্যের মাঝারি শহরগুলোয় গ্রামীণ এলাকার তুলনায় ২-৩ ডিগ্রি বেশি গরম থাকবে বলেই জানাচ্ছেন তাঁরা।
অনেকেই বলছেন, এবারের পরিস্থিতি গত এক দশকের রেকর্ড ভাঙতে পারে। কেন? তাঁদের বক্তব্য, প্রশান্ত মহাসাগরীয় 'সুপার এল নিনো' এবং বঙ্গোপসাগরের ওপর তৈরি হওয়া বিপরীত ঘূর্ণাবর্তের কারণে সমুদ্রের ঠান্ডা হাওয়া দক্ষিণবঙ্গে প্রবেশ করতে বাধা পাচ্ছে। ফলে ছোটনাগপুর মালভূমি থেকে আসা শুষ্ক তপ্ত বাতাস সরাসরি গাঙ্গেয় সমতলে আছড়ে পড়ছে, যা 'হিট ডোম' (Heat Dome) পরিস্থিতি তৈরির জন্য দায়ী।

গরমের চেয়েও পরিবেশবিদদের বড়ো চিন্তার কারণ, 'ওয়েট বাল্ব টেম্পারেচার'। কলকাতা বা সংলগ্ন জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ৪৩-৪৪ ডিগ্রি হলেও অত্যধিক আর্দ্রতার কারণে শরীরের স্বাভাবিক ঘাম হওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। এর ফলে খুব অল্প সময়েই হিটস্ট্রোক বা মাল্টি-অর্গান ফেলিওরের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। নগর পরিকল্পকদের মতে, শহরগুলোকে কংক্রিটের জঙ্গল তৈরি করা এবং জলাশয় ভরাটের ফলে 'আরবান হিট আইল্যান্ড' (Urban Heat Island) এফেক্ট মারাত্মক রূপ নিয়েছে। রাতেও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪-৫ ডিগ্রি বেশি থাকছে, কারণ দিনের বেলা শোষিত তাপ কংক্রিট ছাড়তে পারছে না। দীর্ঘমেয়াদী 'হিট অ্যাকশন প্ল্যান' এবং 'কুল রুফ' পলিসি কার্যকর করা হলে অবশ্য পরিস্থিতির মোকাবিলা কিছুটা সম্ভব। কিন্তু যে পরিস্থিতিতে কলকাতা মহানগরীর জীবন চলছে, তাতে এরকম পরিকল্পনা দিয়ে এ বছরের আসন্ন হিট ওয়েভের ধাক্কা আমরা কীভাবে সামাল দেব, সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।


Scroll to Top