তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
তামিলনাড়ুতে ‘বিজয়’ হাওয়া, পট পরিবর্তন হবে কি?


সবে ইলেকশন ডেট ঘোষণা হল, আর আমিও চেন্নাই নামলাম মোটামুটি একই সময়ে। যেহেতু দিনটা রবিবার, ফলে রাস্তাঘাট বেশ ফাঁকাই ছিল। কোনোরকম উত্তেজনা বা সেরকম কোনো আলোচনা বুঝতে পারিনি ইলেকশন নিয়ে।
হোটেলে চেক ইন করতে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম ইলেকশন ডেট যে অ্যানাউন্স হয়ে গেছে তা জানে কিনা। দেখলাম জানে। ২৩ এপ্রিল। একদিনে পুরো তামিলনাড়ুতে ইলেকশন। আর তেমন কিছু দেখলাম না যা নিয়ে লেখা যায়। অর্থাৎ, ভোটের দিন ঘোষণা হয়ে গেছে বটে কিন্তু তা নিয়ে আলাদা করে চোখে পড়ার মতো কোনো হেলদোল নেই।

।পরদিন, মানে আজ সকালে সাতটায় বেরোলাম উবের নিয়ে আমার গন্তব্যের দিকে। উবের চালক বালাজি নামে একজন জেন জি। ভালো ইংরেজি জানে। জিজ্ঞেস করলাম, ইলেকশন ডেট তো ঘোষণা হয়ে গেছে, এ নিয়ে শহরে কে কী বলছে। দেখলাম ইলেকশন ডেটের খবরটা জানে। স্বাভাবিক। বলল, ২৩ তারিখে ইলেকশন। আমার পরিচয় জানবার সঙ্গে সঙ্গে বলল, ইলেকশন তো আপনাদের ওখানেও। এবং সঙ্গে সঙ্গে জানতে চাইল, এখানে কে জিতবে বলে আমি মনে করছি। বললাম , জিতবে তো স্ট্যালিনের দলই। মানে ডিএমকে। তবে আসন কমতে পারে।
সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করে বলল, এবার বিজয় জিতবে। জানতে চাইলাম , কীভাবে বুঝছ ? এত কনফিডেন্স নিয়ে বলছ কী করে? বলল, কথাবার্তা শুনে যা মনে হচ্ছে এবং যা চোখে দেখা যাচ্ছে, তাতে মনে হয়, এবার সব লোকই বিজয়ের পেছনে। বিরাট হাওয়া। যত সমীক্ষা হয়েছে এবং হচ্ছে, তার সবগুলোতেই এবার বিজয়ের জয় জয়কার। সবাই ওকে এগিয়ে রাখছে। বিজয়ের প্রতি এত ভরসা দেখলাম ছেলেটির যে মনে হল এবার নতুন প্রজন্ম সত্যিই নতুন মুখ চাইছে। টুকটাক যা কথা হচ্ছিল তা যদি ঠিক হয় তাহলে পুরো তামিলনাড়ুতেই এই তামিল অভিনেতার সপক্ষে এরকম একটা পজিটিভ হাওয়া আছে। তামিলনাড়ুতে যদি সত্যিই এই হাওয়া থাকে, তাহলে বিজয় এবার এখানে সত্যিই অতি গুরুত্বপূর্ণ তৃতীয় শক্তি।

জিজ্ঞেস করেছিলাম, ডিএমকে আর এআইএডিএমকে তো এত পুরনো দল, আর ইলেকশন জিততে কেবল লোকই তো লাগে না, চাই মেশিনারি আর টাকা। বিশেষ করে যেখানে তামিলনাড়ুতে কিন্তু ভোট পিছু টাকা দেওয়ার একটা রীতিও আছে। কিন্তু ছেলেটি খুব জোরের সঙ্গে বলল, আমরা আসলে অনেকদিন এই দুটো দলকে দেখছি। এবার বিজয়ের দল টি ভি কে-র পালা। জিগ্যেস করেছিলাম, এত জোর দিয়ে বলছ কী করে ! কথা বলে বুঝলাম বিজয়ের দল যতই বয়সে ছোটো হোক এই তরুণ জনপ্রিয় অভিনেতা যে তাঁর বক্তৃতায় দুর্নীতি, হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার বিরোধী অবস্থান নিচ্ছেন, সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিচ্ছেন, এটাই বিশেষ করে জেন জি ভোটারদের আকৃষ্ট করছে। তার ওপর বিজয়ের দল প্রচারের ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়াকে যেভাবে ব্যবহার করছে, তাতেও সরাসরি এই জেন জি-র সঙ্গে একটা চোখ ধাঁধানো সংযোগ তৈরি হচ্ছে যেটা কিন্তু সত্যি খুব পজিটিভ। বিশেষ করে মনে রাখতে হবে তামিলনাডুর রাজনীতিতে সিনেমা স্টার আলাদা করে গুরুত্ব পায়, যার সব থেকে বড়ো উদাহরণ রামচন্দ্রন আর জয়ললিতা। আমি বলেছিলাম কমল হাসানের কথা। কমল কিন্তু অত বড়ো আর জনপ্রিয় অভিনেতা হয়েও রাজনীতিতে খুব বেশি কিছু করে উঠতে পারেননি।
তামিলনাড়ুর রাজনীতি কয়েক দশক ধরে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র দ্বিমেরুকেন্দ্রিক লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তরুণ প্রজন্মের বড়ো একটা অংশ এই প্রথাগত রাজনীতির বাইরে নতুন কোনো মুখ চাইছিল। বিজয় সেই নতুন মুখ হিসেবে নিজেকে খানিকটা হলেও প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন । ফলে , এবার মনে হচ্ছে তামিলনাড়ুতে এক তরফা তেমন কিছু করা যাবে না। অর্থাৎ ? অর্থাৎ আর কিছুই নয়, সামনে কঠিন লড়াই।


Scroll to Top