
দশম শতাব্দীতে দেবরাজ ভট্টিই রাজধানী লুধরবা পার্মারদের কাছ থেকে দখল করে নেন। এই ভট্টি রাজপুত বংশের রাওল জয়সাল দ্বাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি, জয়সালমেরে রাজধানী স্থাপন করেন।
জয়সালমেরের ইতিহাস জানতে কত তথ্যই বশিষ্ঠ যোগাড় করল। তথ্য জেনে কার কি উপকার হয় ? অমুক বীর যোদ্ধা, সূর্য বা চন্দ্র বংশের আলো কিংবা কেউ কুলাঙ্গার, তমুক বংশজের কত বিপদ, মৃত্যু অবধারিত জেনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল কিন্তু হঠাৎ কি হল কে জানে, শত্রুপক্ষ পরাজিত হয়ে পালাতে থাকল, এবং তারপর থেকে তার ক্রমাগত উন্নতি। দুর্গ উঠল, বাড়ি হল, রাজবাড়ি, সুন্দরী রাজবধূর মতো গায়ে তার গয়না উঠল, নূতন সাজে নানা সাজে সুসজ্জিত হল , তার রূপ যৌবন উপচে পড়ল। বীর সৈনিকের মত যে রক্ত গঙ্গা বইয়ে এত ঐশ্বর্য সঞ্চয় করেছিল, একদিন সেই বীর পুঙ্গব
শত উপচারে ভোগে লিপ্ত হল। ভোগ আরোগ্য একেরই অন্য রূপ। রানা সিঁড়ি দিয়ে উঠবেন, তাও দুদিকে কুচযুগলের নির্ভরতা চাই। কিন্তু তারপরে একদিন নিস্তেজ বাঘের মত মরে গেল। এসব জেনে কার কি লাভ ?
তবে কি ইতিহাস থেকে কারুর কিছু শিখবার নেই ? ইতিহাস কি ভবিষ্যৎ পথের ইঙ্গিত দেয় না? নিশ্চয় দেয়, যদি ইতিহাসের কাটা ঝাড় থেকে কেউ আসল ফুলটি তুলে নিতে পারে, তার সৌরভ গ্রহণ করতে পারে।
সৌরভ গ্রহণ করার ব্যাপারটা বড় নিঃশব্দে ঘটে। বড় গাছের ফুলেরই যে সৌরভ থাকে এমন তো কথা নেই। অনেক সময় ছোট গাছ, যা নজর এড়িয়ে যেতে চায়, তার গায়ে অপূর্ব ফুল ফোটে। চোখ মেলে তাকাবার অপেক্ষা।
বুন্দি এমন একটা রাজ্য, যার বিত্ত না থাকলেও রূপ ছিল এবং নিজেকে প্রকাশ করার বিশেষ একটা বৈশিষ্ট্য ছিল। এ কারণে বুন্দির নিজস্ব একটা মিনিয়েচার চিত্রশৈলী গড়ে ওঠে। যদিও অনেকে বলেন, সেটা সম্ভব হয়েছিল চিতোরের জন্য। বলা হয়, আকবরের আক্রমণ চিতোর স্বাধীনতা হারাবার পরে সেখানকার শিল্পীরা সব বুন্দিতে আশ্রয় নিয়েছিল। এবং তাদের দ্বারাই বুন্দির নিজস্বতা গড়ে উঠেছিল। এখানকার অনেক বিরক্তের কাহিনিও তাই লোকগাথা হয়ে রয়েছে।
বশিষ্ঠ অবিশ্বাস্য হদিরানির কথা ভাবছিল। বীরত্বের এক ঝলক আলো যেন। ঔরঙ্গজেবের নজর পড়েছে রূপনগরের রূপসী রাজকুমারী প্রভাবতীর ওপর। তিনি তাকে রানি করে তুলে আনবেন। পিতার সভয়ে সম্মতি দিয়েছেন। প্রভাবতী মেবারের বীর মহারানা রাজসিংহকে খবর পাঠিয়েছেন তিনি যেন তাকে বিয়ে করে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। এদিকে মুঘল সৈন্যরা রাজকুমারীকে ধরে নিয়ে যেতে
রূপনগরের দিকে ছুটেছে।
এদিকে চুরায়ত সরদার রাও রতন সিংহের ঘরে আজ আনন্দের উৎসব। তিনি বুন্দির রাজকুমারী হদিরানিকে বিয়ে করে এনেছেন। ফুলশয্যার রাত্রি। এমন সময় রতন সিংহের দরজায় একটা মৃদু আঘাত শোনা গেল। রতন সিংহ প্রেমালাপে ব্যস্ত ছিলেন। বিরক্ত হয়ে দরজা খুললেন। মেবারের মহারাজা দূতের মাধ্যমে খবর পাঠিয়েছেন যে, মুঘল সম্রাটের জুলুম তিনি বরদাস্ত করতে রাজি নন। রূপনগরের প্রভাবতীকে তাই তিনি বিয়ে করতে চলেছেন। রাওজি পারলে যেন মুঘল সৈন্যদের বাধা দেন। হদিরানি দরজার কোণে দাঁড়িয়ে সব শুনেছেন। ঘরে ফিরে এলে যেন কিছুই জানেন না এমন একটা মুখভঙ্গি করে জিজ্ঞেস করলেন , কী হয়েছে ?
রাও রতন সিংহ সব খবর দিয়ে হদিরানিকে আশ্বাস দিলেন, ভয় পাবার কোন কারণ নেই। মহারানা রাজসিংহ এরই মধ্যে রূপনগরের দিকে রওনা হয়ে গেছেন। ঔরঙ্গজেব পৌঁছবার আগেই তিনি নিশ্চয় পৌঁছে যাবেন।
এরপর আগামী সংখ্যায়