তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
২০০২ নয়, এস আই আর -এ ২০১৫ ভিত্তিবর্ষ চান কোচবিহারের সীমান্ত এলাকার মানুষ

একসময় তাঁরা ছিলেন ছিটমহল নামের এক নেই রাজ্যের বাসিন্দা। কোচবিহারের বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া দিনহাটা, মেখলিগঞ্জ, মাথাভাঙ্গা সাবডিভিশনের বিস্তীর্ণ এলাকার নাম ছিল ছিটমহল। ভারত না বাংলাদেশ, কোথাকার নাগরিক এখানকার বাসিন্দারা, সেটা নির্ধারণ না হওয়ায় সবরকম সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন হাজার হাজার মানুষ। ২০১৫ সালে কিছুটা হলেও সুদিন এল। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হল ঐতিহাসিক স্থল সীমান্ত চুক্তি (ল্যান্ড বাউন্ডারি এগ্রিমেন্ট)। স্বাধীনতার পর থেকে ৬৮ বছর ধরে চলা বঞ্চনার সমাধানে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন এতকাল না ঘরকা না ঘাটকা হয়ে কোনমতে টিকে থাকা দরিদ্র মানুষগুলো। দুদেশের মধ্যে জমি বিনিময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাসিন্দাদের নাগরিকত্ব বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হল। আগে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ছিল আর এখন ভারতে চলে এসেছে, এমন জমির প্রায় পনেরো হাজার গ্রামবাসী ভারতের নাগরিকত্ব বেছে নিলেন। এরপর প্রশাসন অন্যান্য সুযোগ সুবিধার সঙ্গে ভোটাধিকারও দিল। এতকাল এনিয়ে তেমন কোনও সমস্যা তৈরি হয়নি। কিন্তু গোল বাঁধল পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এস আই আর) শুরু হওয়ার পর। ২০০২ কে ভিত্তিবর্ষ ধরার ফলে এঁদের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হল। এই নতুন নাগরিকদের ভারতীয় হিসেবে নিবন্ধন যেহেতু ২০১৫ সালে, তাই তার আগের ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম থাকা সম্ভব নয়। আশঙ্কা সত্যি করে বেশির ভাগের নাম বাদ পড়েছে।

কোচবিহারের রাজনৈতিক বিন্যাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিজেপির পাল্লা যথেষ্ট ভারি। কোচবিহার কেন্দ্রের সাংসদ তৃণমূলের হলেও বাকি দুই কেন্দ্র আলিপুরদুয়ার আর জলপাইগুড়িতে বিজেপির সাংসদ। নটি বিধানসভা কেন্দ্রের ছটিতেই বিজেপি বিধায়ক। এই পরিস্থিতিতে এস আই আর নিয়ে সীমান্ত এলাকার মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগাতে চাইবে তৃণমূল,সেটাই স্বাভাবিক। বিজেপি যে খুব জুৎসই জবাব দিতে পারছে, তাও নয়। দিনহাটা, মেখলিগঞ্জ, মাথাভাঙ্গার মানুষের কাছে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়াটা শুধু ভোট দিতে না পারার হতাশা নয়, তার থেকে অনেক বড় কিছু। একে বিপদ সঙ্কেত হিসেবে দেখছেন তাঁরা। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ২০১৫ সালে যে নাগরিকত্ব অর্জন করেছিলেন, ফের তা হারানোর ভয়ে কাঁপছে গোটা এলাকা। এর সমাধান ভোটের আগে করতে পারবেন, এমন প্রতিশ্রুতি কোনো দলের প্রার্থীই দিতে পারেননি।


Scroll to Top