তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
তিনদিনের নাদ ফেস্টিভ্যালে নবীন প্রবীণ যুগলবন্দী

সম্প্রতি কলকাতায় হয়ে গেল নাদ ফেস্টিভ্যাল। ভারতী বিদ্যা ভবন এবং পণ্ডিত শঙ্কর ঘোষ ফাউন্ডেশন আয়োজিত নাদ সিজন ৫। গত পাঁচ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ধ্রুপদী এবং অন্যান্য শিল্পীদের নিয়ে এই সঙ্গীতের উৎসব সফলভাবে এঁরা আয়োজন করে চলেছেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি মায়েস্ত্রো বিক্রম ঘোষের পরিকল্পিত এবং পরিচালিত। এই বছর মার্চের ২০ থেকে ২২, তিনদিন ধরে এই নাদ মিউজিক ফেস্টিভ্যাল চলল জিডি বিড়লা সভাগৃহে। প্রথম দিনেই এক ঝাঁক তরুণ প্রজন্মের ক্লাসিক্যাল এবং সমকালীন সঙ্গীত চর্চা করা শিল্পীদের নিয়ে শুরু হয় এই উৎসব যার শিরোনাম ছিল Fading tradition and emerging sound. সেখানে ইলেকট্রিক সেতারে অভিষেক মল্লিক, ইন্দ্রায়ুধ মজুমদার ইলেকট্রিক সরোদ, আই প্যাড geoshred এ মহেশ রাঘবন, কল্যাণজিৎ দাস সুর বাহার, হাসান হায়দার খান সানাই, সারোয়ার হোসেন সারেঙ্গী, আর্চিক ব্যানার্জি তবলা , অরবিন্দ রঙ্গনাথান মৃদঙ্গম এবং প্রণব দাথ ড্রামস বাজিয়ে দুর্দান্তভাবে নাদ ফেস্টিভ্যাল এর শুভ সূচনা করেন।

দ্বিতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানটি ছিল Raga to celluloid শীর্ষক। যেখানে ভারতীয় ফিল্ম মিউজিকে বিভিন্ন রাগ রাগিনীর ব্যবহারের কিছু ঝলক উপস্থাপন করেন প্রবীণ এবং তরুণ শিল্পীরা। সূত্রধরের ভূমিকা পালন করেন মায়েস্ত্রো বিক্রম ঘোষ, বাঁশীতে পণ্ডিত রনু মজুমদার, কণ্ঠ সঙ্গীতে অঞ্জনা পদ্মনাভন, কীবোর্ড এ পুলক সরকার, ড্রামস এ প্রণব দাথ, সেতার এ মাহাতাব আলী নিয়াজী এবং তবলায় দেবজিৎ পতিতুন্ডি।

দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানেও ছিল বৈচিত্র্য। প্রথম পর্যায়ে সেতার বাদন ছিল বর্ষীয়ান শিল্পী পণ্ডিত কুশল দাশের এবং তাঁকে যথাযোগ্য সঙ্গত করেন তরুণ তবলাবাদক সন্দীপ ঘোষ। পরের পর্যায়ে ছিল নাচের অনুষ্ঠান। অংশগ্রহণ করেন মণিপুরী, ভরতনাট্যম, কত্থক, কথাকলি এবং ছৌ নাচের জনপ্রিয় শিল্পীরা - প্রীতি প্যাটেল ও তাঁর দল, জয়া শীল ঘোষ,পঙ্কজ সিনহা রায়, সৌভিক চক্রবর্তী, রম্যানি রায়, যাদব দাস, বিশু ও তাঁর দল।

অবশেষে গ্র্যান্ড ফিনালেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং উপভোগ্য ছিল। তৃতীয় এবং শেষ দিনের প্রথম পর্যায়ে ছিল পদ্মশ্রী তরুণ ভট্টাচার্যের সন্তুর বাদন ও মায়েস্ত্রো বিক্রম ঘোষের তবলার যুগলবন্দি।দুই শিল্পীর মার্গ সঙ্গীতের পারদর্শিতা এবং রসায়ন উপস্থিত দর্শকদের স্ট্যান্ডিং ওভেশন আদায় করে নেয়।

পরের পর্যায়ে উৎসবের শেষ অনুষ্ঠানটিও দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে, যার শিরোনাম ছিল The Classi-Folk Collab. যথার্থই নামকরণ, দক্ষিণের বিখ্যাত বীণা বাদক মায়েস্ত্রো রাজেশ বৈদ্যর বীণা যন্ত্রটির উপর নিয়ন্ত্রণ, তার নানা ব্যবহার এবং সুরের জাদু মন কেড়ে নেয় দর্শকদের। সঙ্গে ছিলেন মায়েস্ত্রো বিক্রম ঘোষ। তবলা, হ্যান্ডসনিক এবং অন্যান্য তালবাদ্য ছাড়াও মাইক , নিজের বডি ড্রামিংও করেন তিনি। ছিল লোকগীতি শিল্পী কল্পনা পাটোয়ারীর বিভিন্ন প্রদেশের লোকগানের সাথে ঠুমরীও। বাঁশীতে সৌম্যজ্যোতি ঘোষ, ঢোলকে শঙ্খদীপ চ্যাটার্জি, ড্রামসে প্রণব দাথ এবং কীবোর্ডে পুলক সরকার ছিলেন। প্রত্যেকেই অসামান্য পারদর্শিতার সঙ্গে on stage jamming করলেন। রাগসঙ্গীত মাটির গানের সাথে মিলে মিশে একাকার হয়ে গেল , মান্ড থেকে ভোজপুরি লোকগান উঠে আসে, আবার কখনও ভুপালির ছোঁয়া দিয়ে বিহুর আস্বাদ, বীণা যন্ত্র টঙ্কার দিয়ে ওঠে বিহু গানের ছন্দে, বাঁশীর সুর মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। আবার কখনো লোকসঙ্গীত থেকে অনায়াস বিচরণে কল্পনা গেয়ে ওঠেন ইয়াদ পিয়া কী আয়ে। প্রণবের ড্রাম কিট এ ঝড় তোলে আদি তাল, একটি সম্পূর্ণ পাশ্চাত্য যন্ত্রে কর্ণাটকের উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের তাল ছন্দ তোলে কী অসম্ভব দক্ষতায়, পাঞ্জাবী ঢোল আসামের বোরো লোক গীতিতে যেন কথা বলে ওঠে। বিড়লা সভাগৃহ রাত সাড়ে নটা পর্যন্ত পরিপূর্ণ থাকে সম্মোহিত হয়ে বসে থাকা দর্শকে। বিক্রম ঘোষের কথায়, নাদ ফেস্টিভ্যাল এই মুহূর্তে কলকাতার ফ্ল্যাগশিপ মিউজিক ফেস্টিভ্যাল।


Scroll to Top