
তবলার ঝড় আসলে বসন্ত বাতাস। বয়ে গেল শিলিগুড়িতে। এই প্রথম তবলার জাদুকর বিক্রম ঘোষের সৃষ্টি রিদমস্কেপ অনুষ্ঠিত হল শিলিগুড়িতে। তার আগে লুক ইস্ট মিডিয়া আয়োজিত বিয়ন্ড বর্ডারস -এর সুর বেঁধে দিল দশটি কিশোর কিশোরী। এরা দার্জিলিং জেলার নানা স্কুলের অভাবী মেধাবী ছাত্রছাত্রী। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির এই ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ দিতে রোটারি ক্লাব অফ সাউথ ক্যালকাটার সহযোগিতায় এদের হাতে তুলে দেওয়া হল বৃত্তি, স্মারক ও বই। তুলে দিলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব, লুক ইস্ট মিডিয়ার কর্ণধার আশিস পন্ডিত, রোটারিয়ান কৌশিক দে ও বিক্রম ঘোষ। অনুষ্ঠানটির সুচারু সঞ্চালনায় ছিলেন অগ্নীশ্বর চট্টোপাধ্যায়।

এরপর দীনবন্ধু মঞ্চে বহু প্রতীক্ষিত রিদমস্কেপ। বৃহস্পতিবার পূর্ণ প্রেক্ষাগৃহে দেড় ঘন্টার বেশি সময় ধরে যেন তবলার ম্যাজিক শো। শিব বন্দনা দিয়ে শুরু, পন্ডিত রবিশঙ্করকে শ্রদ্ধা নিবেদনে শেষ। মাঝখানে কখনও লঘু চালে বুক আর গাল বাজানোর অবিশ্বাস্য বিক্রম-ঘরানার তালবাদ্য, কখনও বা 'কানের ভিতর দিয়া মরমে পশিল' সেতার-বাঁশী-ড্রামস- কিবোর্ডস-এর সঙ্গে তবলার অনবদ্য যুগলবন্দী। কন্ঠশিল্পী নির্মাল্য রায়ের ধ্রুপদী পরিবেশনের কথা আলাদা করে বলতেই হয়। সেতারে নবীন অথচ পরিণত অভিষেক মল্লিক আর বাঁশীতে সৌম্যজ্যোতি ঘোষ আগামীদিনে খ্যাতির শিখরে উঠবেন, আশা করাই যায়। প্রতিষ্ঠিত যন্ত্রশিল্পী কিবোর্ডস-এ পুলক সরকার আর ড্রামসে সত্যজিৎ মুখার্জি আরও একবার মুগ্ধ করেছেন।

ইন্দো ফিউশন ঘরানার এই অনুষ্ঠান বহুদিন ধরেই সারা বিশ্বে সাড়া ফেলেছে। পরিবেশনার ফাঁকে বিক্রম জানালেন, একসময় তাঁর মনে হয়েছিল, ধ্রুপদী সঙ্গীতের প্রতি নবীন প্রজন্মের ভাল লাগা তৈরির জন্য নতুন কিছু সৃষ্টি করা প্রয়োজন। তাই বছর পঁচিশ আগে রিদমস্কেপ সৃষ্টি। সেই থেকে সব দেশের সব শ্রেণীর শ্রোতার মন জয় করে চলেছে এই ব্যান্ড শো।