
ইরান ২০২৬…
বাংলা স্ট্রিট অনলাইন’-এর পাতায় অয়ন মুখোপাধ্যায়ের ‘ইরান ২০২৬…’ লেখাটি পড়লাম। এটা ঘতনা যে, ইরানে ২০২৬ সালে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তা শুধু একটি সাধারণ প্রতিবাদ নয়, বরং সরকারের বিরুদ্ধে সর্বব্যাপী রোষের বহিঃপ্রকাশ। দেশজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও বেকারত্বের মধ্যে নাগরিকরা রাস্তায় নেমে ‘স্বাধীনতা’-র আহ্বান করছেন। প্রতিবাদে বিশেষভাবে নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছে্ন—গত কয়েক বছরে ‘মহিলা, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এখনও সমাজ পরিবর্তনের দাবিই হল মূল প্রতিপাদ্য। ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, হাজার হাজার মানুষ আটক ও নিহত হয়েছে, এবং ইন্টারনেট সহ সকল যোগাযোগ সীমিত করার চেষ্টা চলছে, যাতে সত্যকার ঘটনা প্রকাশিত না হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের বিষয়ে উদ্বিগ্ন, আর যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমি দেশগুলোতে কূটনৈতিক চাপ বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে, কারণ ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশগুলোর সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই প্রতিবেদন ইরানের অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনাকে স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। এই উত্তেজনা অবশ্যই এখানেই শেষ নয়। আশা করা যাক ‘বাংলা স্ট্রিট অনলাইন’ বিশেষ করে সারা বিশ্বে এধরনের ঘটনার সংবাদ আরো সারগর্ভ ভাবে পাঠকের জন্য উপহার দেবে।
অলোক সামন্ত

ঊর্ধ্বে থেকে নিচে — ঘটনাবহুল এক বছর
২০২৫ বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি, সংঘাত ও সংস্কৃতির জন্য এক স্মরণীয় বছর ছিল। ‘বাংলা স্ট্রিট অনলাইন’-এর পাতায় পার্থ মুখোপাধ্যায়ের কলমে এই বিষয়ের লেখাটি চোখে পড়ার মতো। তিনি যথার্থ দেখিয়েছেন বছরের শুরুতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্কনীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কী পরিমাণ ঝড় তুলেছিল এবং এটি কীভাবে আমেরিকা-চীন-রাশিয়ার সম্পর্ককে নতুন করে উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিয়েছে। নজর রাখা দরকার একই সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামেনি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তি-এর চেষ্টা চলছিল, যার মধ্যেই শান্তির আশা-হতাশা ঘুরে ফিরে এসেছে। বিশ্বের বিভিন্ন অংশে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যেমন আফগানিস্তানে মহাভূমিকম্প ও পূর্ব এশিয়ার বন্যা। দক্ষিণ এশিয়াতেও উত্তেজনা ছিল, বিশেষ করে ভারতের পহেলগামে হামলা এবং ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতি নিয়ে। অন্যদিকে নেপালে জেন জি আন্দোলন শুরু হয়েছিল সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধিতায়। সামগ্রিকভাবে তিনি দেখিয়েছেন ২০২৫ ছিল কতটা বিতর্ক, সংঘাত ও পরিবর্তনের বছর, যা ২০২৬-এর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটকে প্রভাবিত করবে। এরকম সার্বিক লেখার জন্য পাঠক হিসাবে দাবি থাকল।
অশোক সেন

খুব সময়োপযোগী প্রতিবেদন
ভাগলপুরে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি আজ অবহেলার মুখে—এমনই যথার্থ অভিযোগ তুলে ধরেছে তপশ্রী গুপ্তের ‘বাংলা স্ট্রিট অনলাইন’ পত্রিকার জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যার প্রতিবেদনটি। তিনি খুব যৌক্তিক ভাবেই নজর ফিরিয়ে দিয়েছেন কীভাবে সরকারি উদ্যোগের অভাব, মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিতে ঐতিহাসিক এই ভবনটি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তার দিকে। সাহিত্যপ্রেমীদের মতে, বাংলা সাহিত্যের এক মহীরুহের স্মৃতি সংরক্ষণে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা দুঃখজনক। সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে পারে—প্রতিবেদনটি সেই সতর্কবার্তাই স্পষ্ট করে দিয়েছে। এরকম প্রতিবেদন আরো প্রকাশিত হোক এই দাবি রইল।
শ্যামল কর