
অকারণে লড়াই করতে গিয়ে পাকিস্তান বারবার পিছিয়ে পড়ছে। যোগ্যতার নিরিখে এই মুহূর্তে ভারতীয় দল যে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে এটা পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতারা বুঝতে চাইছেন না, গা জোয়ারি করছেন। তাই প্রায় ক্ষমা ভিক্ষা করে যখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে না চেয়েও পরে রাজি হওয়াটাকে তারা যে হাস্যকর পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছিলেন সেটা কিন্তু পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের দেখে বোঝা যায়নি, বোর্ড কর্তাদের তো নয়ই। তারা যে যার মেজাজে ছিলেন। শুনলে অবাক হবেন যে, পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটাররা, খেলার শুরুতে যারা পাকিস্তানের হয়ে গলা ফাটাচ্ছিলেন, তারাও কিন্তু পরোক্ষে হলেও মেনে নিয়েছেন যে, এই পাকিস্তান দল কিছুতেই ভারতের দলের সঙ্গে এঁটে উঠতে পারেনি, পারছে না, এই মুহূর্তে পারবেও না।

ওয়াসিম আকরাম এবং ওয়াকার ইউনুসকে আমরা যথেষ্ট সম্মান দিয়ে থাকি। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, তারা পাকিস্তানকে বহু ম্যাচ জিতিয়েছেন। কিন্তু আজকের এই ভগ্ন দশা পাকিস্তান দলকে দেখে ওরাও শেষ দিকে বিশেষ কিছু বলতে পারছিলেন না। কণ্ঠরুদ্ধ হয়ে আসছিল।

কারণ খেলার শুরুতে যখন অভিষেক শর্মাকে শূন্য রানে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তখন পাকিস্তান ধরেই নিয়েছিল যে, তারাই খেলার ভাগ্য নির্ধারণ করবে। পারেনি। এবং তার চেয়েও বড় কথা হল, ভারতীয় দল সম্পর্কে যে কথাটা বলা হয় যে, কি আছে কে নেই এটা মাথায় নিয়ে এই মুহূর্তে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলে না সূর্য কুমারের ভারত। এই সুযোগটাই কাজে লাগাতে পারল না পাকিস্তানের ব্যাটাররা না বোলাররা। আমি তবু বলব ছ জন স্পিনারকে নিয়ে খেলতে নেমে তবু ভারতকে মৃদু হলেও ঝাঁকুনি দিতে পেরেছিল পাকিস্তান, কিন্তু তাও ১৭৫ রান তোলার ক্ষেত্রে ভারতকে আটকে দিতে পারেনি তারা। একা ঈশানের ব্যাটের সামনে নতজানু হয়ে বসে পড়তে বাধ্য হলেন পাকিস্তানের বোলাররা। আমি জানি না ওরা কি বলবেন, তবে আমার মনে হয়েছে যে বোলারকে নিয়ে এত কথা হচ্ছিল, সেই ডান হাতি লেগ স্পিনারকে বল করতে আনাই হয়েছিল কিন্তু ১১ নম্বর ওভারে। ততক্ষণে কিন্তু খেলা এক অর্থে শেষই হয়ে গিয়েছে। কারণ তার মধ্যেই ঈশান ৪০ বলে ৭৭ রান তুলে এমন একটা উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন ভারতীয় দলকে, যার সামনে কিছু করতে পারেননি পাকিস্তানের ব্যাটাররা।
তারিককে নিয়ে সত্যিই যে সব মাতামাতি হয়েছে তাতে কোন ভুল ছিল না। কিন্তু তাকে তো আনাই হলো ১১ ওভারের পর। ততক্ষণে তো যা হবার হয়ে গিয়েছে। আমি বলব ছয় জন স্পিনার নিয়ে খেলতে নামাটা অবশ্যই একটা চমক। যেরকম চমক আমরা দেখেছিলাম এশিয়া কাপে, যখন ভারত চার জন প্লেয়ার নিয়ে খেলেছে। সেটাও কম চমকে দেয়নি।

বোলিং খুব ভালো হয়েছে পাকিস্তানের। কিন্তু এইরকম ভেজা নিমকির মতো ব্যাটিং নিয়ে ভারতকে হারানোর চিন্তা করাই উচিত নয় পাকিস্তান কেন, যে কোন দলের। হারানো যায় না।
এখন তো খেলা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু স্টাম্পড হয়ে যাবার আগে ওসমানকে যথেষ্টই সম্প্রতিভ মনে হয়েছে। মনে হয়েছে সবই ছিল, কিন্তু সিদ্ধান্তে কোথাও একটা গন্ডগোল সব লন্ডভন্ড করে দিল।
ছেড়ে দিন হ্যান্ড শেক হয়েছিল কি হয়নি সেসব কথা। কিন্তু গতকাল খেলা শেষ হবার আগেই বোর্ড প্রধান নকভি মাঠ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। এটা দর্শকরা মনে রাখবেন তো বটেই।
তবে এত কিছুর পরেও চিন্তা একটাই। ভারতের ব্যাটিংও কিন্তু খুব ভালো হচ্ছে না। জিতলেও বিস্ফোরক ব্যাটিং কিন্তু দর্শকরা পাননি। খেলা যত এগোবে হয়তো আরো দেখা যাবে। ভারতের সম্পর্কে আশার পারদ তবু ক্রমশ ঊর্ধমুখী । ফাইনাল তো বটেই, চ্যাম্পিয়ান হবার ব্যাপারেও আশাবাদী হয়ে আছেন ভারতবাসী। এই উচ্চাঙ্গের খেলা ধরে রাখতেই হবে