তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
মেক্সিকোর নিরাপত্তা নিয়ে ফিফার রিপোর্ট তলব সরকারের কাছে

১৯৭০ এবং ১৯৮৬-র বিশ্ব কাপ ফুটবল সংগঠন করেছে মেক্সিকো। কিন্তু কবে ঘি খেয়েছি তার গন্ধ এখনো হাতে লেগে আছে -- এই নীতিতে বিশ্বাসী নয় আন্তর্জাতিক ফুটবল এর নিয়ামক সংস্থা ' ফিফা '। তারা মেক্সিকো সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করল নিরাপত্তা নিয়ে। আমেরিকা এবং কানাডার মতোই এবারের বিশ্ব কাপ সংগঠন করছে মেক্সিকোও। মেক্সিকোর তিনটি শহরে বিশ্ব কাপের খেলাগুলি হবে -- মেক্সিকো সিটি, গুয়াডেলযারা ও মন্টেকে । এর মধ্যে গুয়াডেলযারাকে নিয়ে চিন্তার অবকাশ আছে। মেক্সিকোর কুখ্যাত ড্রাগ ব্যবসা বা কারটেল রাজ-এর প্রাণকেন্দ্র এই গুয়াডেলযারা।চক্রান্ত, গুপ্তহত্যা আর ড্রাগ মাফিয়াদের সমান্তরাল প্রশাসন চালানো এখানে নিত্য দিনের ঘটনা। মেক্সিকো সিটি অথবা মন্টেকও কম যায়না।এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মেক্সিকোর ফুটবল ভক্তদের আচরণ।

এমনিতে মেক্সিকানরা নির্বিরোধী, মার্জিত। কিন্তু,ফুটবল মাঠে এরাই আবার হিংস্র, কুটিল। প্রিয় দলের হার মানতে পারে না। ২০২২ সালে মেক্সিকোর জাতীয় লিগে ( Liga MX ) কোয়ারতরস বনাম আটলাস ক্লাবের ম্যাচে একটি কুখ্যাত দাঙ্গা ফুটবল ইতিহাসে জায়গা পেয়েছে। বেশ কিছু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে এই দাঙ্গায়।ফিফার আশংকা, মেক্সিকো এবার পরাজিত হলে এইরকম কোনো দাঙ্গার পুনরাবৃত্তি হবে না তো? মেক্সিকোর নিরাপত্তা আধিকারিকদের নিয়েও প্রশ্ন আছে।

অতীতে এই নিরাপত্তা অধিকারিকদের নানা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও আছে। বিশ্ব কাপে যেখানে দেদার অর্থের খেলা এবং ভি ভি আই পি-দের আনাগোনা, সেখানে এই নিরাপত্তা অধিকারিকরাই নতুন কোনো দুর্নীতিতে জড়াবেন না তার গ্যারান্টি কোথায়! মেক্সিকোর সাধারণ মানুষ পুলিশকে বিশ্বাস করে না। তাদের কাছে পুলিশ মানেই হল ঘুষখোর একটি শ্রেণি, যাদের সঙ্গে দুর্ধর্ষ মাদক চক্র বা করটেল রাজের নিবিড় যোগাযোগ। তবে, ফিফা সব থেকে চিন্তিত এই মাদক ব্যাবসায়ীদের নিয়ে।সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এরা প্রবেশ করেছে।রক্তপাত, কার্তুজের ব্যাবহার এদের বাঁ হাতের খেলা। মাদক চক্র বা কারটেল রাজ নিয়ে ফিফা বেশি উদ্বিগ্ন। মেক্সিকোর অপরাধের রেখেচিত্র ক্রমশ উর্ধমুখী হচ্ছে। চুরি, ছিনতাই, কেপমারীর ঘটনা বেড়েই চলেছে।

বিশ্ব কাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে বিদেশের বহু দর্শক আসবেন। এই চুরি, ছিনতাইবাজরা সেই সময় তাদের সক্রিয়তা বাড়াবে না তো - ফিফার কপালে চিন্তার ভাঁজ তাই নিয়েও। ফিফা ও মেক্সিকো সরকার যৌথ ভাবে এই সমস্যা মোকাবিলায় কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে। আমেরিকা ও কানাডার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অফিসারদের নিয়ে মেক্সিকোর আধা সেনা কর্তৃপক্ষ সহ একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। মেক্সিকোর স্টেডিয়াম এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে উন্নত প্রযুক্তির আওয়তায় আনা হচ্ছে। মেক্সিকোর ন্যাশনাল গার্ডকে শহরের নিরাপত্তার ভার দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু, সর্ষের মধ্যে যদি ভূত থাকে তাহলে আর করার কি বা আছে!


Scroll to Top