ইরান-আমেরিকা টানাপোড়েন চলছে পুরোদমে

ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলতে থাকা সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে পরিস্থিতি যত ঘোরালো হচ্ছে আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে নানা মহলে তত প্রশ্ন উঠছে। ইজরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর, ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে এবং বুঝিয়ে দিয়েছে যতদিন না প্রকৃত পক্ষে যাকে সমঝোতা বলে তাতে আসা যাবে ততদিন এই হামলাও চলতেই থাকবে। এই সংঘর্ষে হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্ব তেল সরবরাহকে প্রভাবিত করবে তো বটেই এবং পাশাপাশি এই অবস্থায় সমঝোতায় আসা না গেলে যত দিন যাবে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হবে বলেই আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা।

এই অবস্থায় অঙ্ক বলছে, জারি থাকা যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আগামী ২৪ ঘণ্টার উপর। যদি তিন শক্তিই , অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইজরায়েল, শান্ত (! )থাকে, তবেই সম্প্রতি ইসলামাবাদে থমকে যাওয়া আলোচনা এগোতে পারে বলেই তাদের ধারণা। কিন্তু একই সঙ্গে সামান্য উত্তেজনায় ফের সংঘর্ষ শুরু হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলেই মনে করছেন তাঁরা । তাঁদের মতে, এখনও পর্যন্ত এটি প্রক্সি ওয়ার হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে, তবে পরিস্থিতি যে কোনো মুহূর্তে প্রকৃত যুদ্ধে পর্যবসিত হতে পারে।এখন যা হচ্ছে সেটাকে সামরিক ভাষায় বলা যায় অপটিক্যাল ওয়ারফেয়ার। মানে, এমনভাবে হামলা বা হুমকি দেওয়া যাতে মনে হয় যুদ্ধ লেগে গেছে, কিন্তু আসলে লক্ষ্য হল প্রতিপক্ষকে আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য করা। ইরান কয়েকটা ড্রোন ছুঁড়লে বা আমেরিকা লোহিত সাগরে গোলাবর্ষণ করলে সেটা প্রকৃত অর্থে 'যুদ্ধ' নয়, সেটা হল পাওয়ার প্রজেকশন।
ইরানের তরফে খামেনেই প্রশাসন খুব ভালো করে জানে যে আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে নামা মানে নিজের অস্তিত্ব বিপন্ন করা। তারা 'প্রক্সি' দিয়ে লড়বে, কিন্তু নিজের মাটিতে যুদ্ধ টেনে আনবে না। অর্থাৎ,
বিশ্ব ভাবছে বটে মিসাইল ছোড়া মানেই যুদ্ধ, কিন্তু ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট অনুযায়ী দুই পক্ষই খুব সাবধানে টার্গেট বাছছে। আমেরিকা শুধু সেই সব জায়গাতেই আক্রমণ করছে যেখানে ইরানের প্রক্সিরা আছে, সরাসরি ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডের (IRGC) সদর দপ্তরে তারা আক্রমণ শানাচ্ছে না। অর্থাৎ, একটা 'Invisible Red Line' দুপক্ষই মেনে চলছে।
রশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্ব অর্থনীতি আর একটা বড় যুদ্ধ সইবার ক্ষমতা রাখে বলে আন্তর্জাতিক মহল মনে করে না। চীন আর ইউরোপ—উভয় পক্ষই এই অনুযায়ী পর্দার আড়ালে থাকা আমেরিকা আর ইরানকে শান্ত থাকার জন্য প্রচণ্ড চাপ দিচ্ছে। এই গ্লোবাল প্রেসার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় দেওয়াল বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।