আবার একটা বাংলা নতুন বছর আসছে বুঝি। কেন আসে, বুঝি না। সে আমাদের বাঙালিদের কাছে কী চায় ? এবার কী চাইছে ?

সত্যি, কী চাইছে নতুন বছর আমাদের মানে বাঙালিদের কাছে, যারা বাংলা সনকে সারা বছর পাত্তাই দেয় না, শুধু ‘নববর্ষ পুজো’র দিন কুলুঙ্গি থেকে নামিয়ে হুল্লোড় করে, তার পর আবার যথারীতি কুলুঙ্গিতে তুলে রাখে। এখন অবিশ্যি বাঙালির বাসস্থানে কুলুঙ্গি বলে কিছু নেই, তাই নববর্ষের জায়গা কোথায় হয়, সম্ভবত জুতোর আলমারির এক কোণে। বাংলা বছরের বাংলা তারিখ হল ছাগলের তৃতীয় সন্তান—সে বেচারার দিকে প্রায়ই কারও চোখ পড়ে না। হ্যাঁ, বাংলা কাগজগুলো পাতার ওপরে তাদের ছেপে দেয় বটে, কিন্তু কে তাদের খেয়াল করে ? কে তাদের মনে রাখে যদি না বিয়ে শ্রাদ্ধ পৈতে ইত্যাদি উপলক্ষ্য এসে বাঙালির কাছা ধরে টেনে বলে, ‘এই বাছারা, বাংলা তারিখের খোঁজ করো।’ আরে, আবার কী বাজে বকছি, বাঙালির কাছা ধরে টানবে তা সে কাছা আর কোথায় ? বাঙালির কুলুঙ্গিও নেই, কাছাও নেই। এখন তো বিয়ে-বউভাতেও বাঙালি বর হয় পুরোদস্তুর সুট পরে, না হয় কাবুলিওয়ালার পোশাক, না হয় রাজস্থানি জরিদার কোট আর চুস্ত পাজামা। বাইরে পরে শার্ট-প্যান্ট আর পাঞ্জাবি-পাজামা। তাতে কাছা কোথায় ? এখন ধুতি পরে কোন পিতার পুত্র ? বাপদাদার আমলের যা কিছু স্থাবর সম্পত্তি, সবই এখন প্রমোটারের হাতে দিয়ে বহুতল ফ্ল্যাটবাড়ি তুলেছি, সে সম্পত্তির আর কোনো চিহ্ন নেই। যাকগে বাপসকল, নতুন বছর কী বলতে চায় একবার শুনি না। আমার ই-মেলে তার এইরকম একটা চিঠি এসে পৌঁছেছে, আমি সেটা ‘কৃত্তিবাস’-এর মেলে ফরোয়ার্ড করে পাঠাচ্ছি।
এই যে, বঙ্গসন্তানগণ, বং-বংশধরেরা, যারা ভূষণ-টুশন শ্রীটি পেয়েছ আর যারা ভূষণ-টুশন শ্রিটি পাওনি, ভো-ভো বালকবালিকাবৃন্ধ এবং স্নেহের হিজিবিজবিজ, তোমরা সবাই শোনো—এই আমি এসে পড়লাম বলে। কিংবা হয়তো এসেই গেছি। সেই যে আমাদের যৌবনে দেখা ‘বিশ সাল বাদ’ না কী একটা ছবিতে অসিত সেনের একটা কমিক রোল ছিল, যে আগেই চৌকাঠ ডিঙিয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ত, তারপর সবিনয়ে জিজ্ঞেস করত, ‘কেয়া ম্যায় অন্দর আ সাকতা হুঁ ?’ তারপর মাথা নীচু করে গভীর মনোযোগের সঙ্গে চৌকাঠের এ ধারে নিজের পা দুখানার অবস্থান লক্ষ করে, অতি লজ্জিত হয়ে জিভ কেটে বলত, ‘আ রে ! ম্যায় তো অন্দর আ হি গয়া হুঁ !’ আমিও খানিকটা সেই রকম।

এই ম্যায় বা আমি কে ? না, আমি তোমাদের বাংলা নতুন বছর, পাঁজির হিসেবে ১৪৩৩ সাল। ঠিক এই সময়টায়, ইংরেজি এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি—জানি না কেন আমার দাম বেড়ে যায় তোমাদের কাছে, তোমরা আমার জন্যে হাঁকুপাঁকু করতে থাক, নববর্ষ নববর্ষ বলে হেদিয়ে অস্থির হয়ে যাও। বছরের অন্য সময়ে তো তোমাদের কোনো সাড় থাকে না। আলুচাষিদের আত্মহত্যা (সবই নাকি পারিবারিক অশান্তির কারণে), দৈনিক গোটাপাঁচেক ধর্ষণ আর স্ত্রীহত্যা সব ভুলে উৎসবে মেতে ওঠো তোমরা। তা উৎসবের নিয়মই ওই, বাপের মৃত্যুশোকও ভুলিয়ে দেয়, খবরের কাগজের ও সব খবর তো দূরের কথা। কলকাতার ফুটপাথে চৈত্রের সেল (‘ছেল্ ! ছেল্ ! ছেল্ ! ছেল্ !’) সাজিয়ে যত রদ্দি জিনিস ঝেড়ে ফ্যালার হট্টগোল শুরু হল তো আমি এও পয়লা বোশেখও যেন নোটিস পেয়ে গেলাম যে আমাকে এবার গ্রিনরুমে গিয়ে মেক-আপে বসতে হবে, তার পর সেজেগুজে স্টেজে সারাদিনের নাচ। আগের দিন নাকি আজকাল তোমরা পান্তভাত আর শুঁটকি মাছ খেয়ে ঢাকার অ্যাকাডেমি চত্বরে সারা রাত পালাগান গাও, আর আমার দিনটিতে নানা রকম হুজ্জতি কর। কিন্তু দেখি, পয়লা বৈশাখের রাত পুইয়ে দোসরা বৈশাখ এল কি আমাকে টা-টা গুড-বাই করা হয়ে গেল, বলা হল, যা রে ব্যাটা, বছরখানেকের শীতঘুমে চলে যা, আবার চৈত্র সেলের সময়ে মোলাকাত হবে। আমি ‘একদিনকা সুলতান’ হওয়ার নাটক শেষ করে আবার ফিরে গেলাম নিজের বাড়িতে। এখনও কোনো কোনো পাড়ায় গাজনের ঢাকার বাদ্যি বেজে ওঠে ‘ড্যাং-ড্যাডা-ড্যাং’ আওয়াজে, চিৎকার ওঠে ‘জয় বাবা তারকেশ্বরের চরণে সেবা লাগে মহাদে—ব’ বলে। তাতেও বুঝি, আমার এবার এন্ট্রি নিতে হবে।
আজকাল কি সবাই পাঁজি কিনি ? মঘা, অশ্লেষা ত্র্যহস্পর্শ আর কেউ লক্ষ করে বলে মনে হয় না, কখন যাত্রা নাস্তি, শরীরের কোথায় টিকটিকি পড়লে কী ফল হয়, একাদশীতে পুঁইশাক ভক্ষণ নিষেধ, এমনকি সৌর বৈশাখ মাসে “মৎস্য, মাংস, মাষ, মসুর, নিম্ব, আর্দ্রক ও দগ্ধদ্রব্য ভক্ষণ নিষেধ”—ইত্যাদি এখনও পাঁজিতে পরম ফুর্তিতে ছেপে চলে, কিন্তু তার খদ্দের কত এখন তা আমি জানি না। তবে একটা জিনিসের খদ্দের খুব বেড়েছে দেখছি—জ্যোতিষের। দাড়িওয়ালা, দাড়িহীন, ভুঁড়িওয়ালা, ভুঁড়িহীন, চশমাওয়ালা, চশমাহীন বাবা-জোতিষী আর কপালে দগদগে সিঁদুর-লেপা মা-জ্যোতিষীদের রঙিন ও সাদাকালো ছবি আর মহিমাব্যাখ্যানে পাঁজিগুলো ছয়লাপ। আর একটা জিনিস দেখলাম, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি যে এত গালাগাল খেয়ে বানান-টানান খাড়া করল, কোনো পাঁজিই সেটা মানে না, এমনকি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিও অনেকে অগ্রাহ্য করে চালিয়ে যাচ্ছে। ও তোমাদের বানান নিয়ে তোমরা ধুয়ে খাও !
যাই হোক, আমি এই হইহই করে এসে পড়লাম তোমাদের মধ্যে—প্রত্যেক বছর যেমন আসি। আজকাল একটু বেশি ধুমধাম হচ্ছে দেখছি। বিশ্বায়নের ফলে নববর্ষেরও পণ্যায়ন হচ্ছে—নানা হোটেলে রেস্তোরাঁতে বাংলা খাবারের পাতাজোড়া রঙিন বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। গণেশ আর হালখাতা আর স্বস্তিকা আর তালপাতার হাতপাখার ছবি সুদ্ধ। দেশের মধ্যবিত্ত বাবুবিবিদের এখন সুখের সময়, তাদের পকেটে ভর্তি টাকা, কাজেই পয়লা বৈশাখের দুপুরে রেস্তোরাঁগুলো খালি থাকবে না জানি, আমপোড়া শরবত, সুক্তো, আলুপোস্ত আর বিউলির ডাল, মাছ ভাজা, পাকা কাতলার কালিয়া বা/এবং—যত দুর্লভ হোক—ইলিশ মাছ বা/এবং চিংড়িমাছের মালাইকারি, আমের চাটনি, পাঁপড়, পায়েস, দই সন্দেশ সবই থাকবে। খেয়েদেয় তোমরা উদ্গার তুলতে তুলতে বেরোবে। বাড়ি ফিরে দিবানিদ্রা দেবে, বুকে অম্বলের জ্বালা নিয়ে সন্ধ্যায় টিভির খবর দেখবে কতজন আলুচাষি আত্মহত্যা করল, আবার কোথায় ধর্ষণ হল, কোন্ জুটমিল বন্ধ হল।
এই দ্যাখো, আগেই দুপুরের খ্যাঁটের কথায় চলে গেলাম। খ্যাঁট তো হবেই, নইলে আর নববর্ষ কেন ? আমাদের বাবুবিবিদের কথায় কথায় উৎসব আর কথায় কথায় খ্যাঁট। এমন যে হতদরিদ্র বাঙালি, সেও এদিন ছেলেম্যেদের মুখে একটু ভালো খাবার দিতে চায়, গুড় দিয়ে হলেও একটু পায়েস। একটু নতুন জামাকাপড়। জানি না, আমাদের নববর্ষের হুদ্দুমুদুম মাটি করার জন্যে যে সব চাষিরা আত্মহত্যা করে, তাদের মনেও ছেলেমেয়েদের নতুন জামাকাপড় দেওয়ার স্বপ্ন থাকে কি না। যেটা জানি, তা হল, নববর্ষের দিনে দূরদর্শনে আর অন্য অনেক চ্যানেলে নববর্ষের আসর হয়, কলকাতার কোথাও কোথাও ক্লাবের ছেলেমেয়েরা সকালে ব্যান্ডপার্টি নিয়ে গান গাইতে গাইতে পথ-পরিক্রমা করে, লালপেড়ে শাড়ি পরা মেয়েরা শাঁখ বাজাতে বাজাতে মিছিল করে, রবীন্দ্র-সংগীত হয়—এ রকম টুকরো টুকরো অনুষ্ঠান হয়। জানি না, অনুদান পাওয়ার পরেও ক্লাবগুলো এ সব আর চালু রেখেছে কি না।
তবু নববর্ষের দিন আমার ঢাকার জন্যে মন-কেমন করে। না, ঢাকাকে নিয়ে তোমাদের কোনো কোনো অসুবিধে নেই, ঢাকাতে আমি আগের দিন হাজির থাকি, আর সে তোমরা অনেকেই জান, এক আজব কাণ্ড। আর বাংলাদেশ আর পশ্চিম বাংলায় নববর্ষের এই দু-দিনে ভাগ হয়ে যাওয়া আমার কেমন লাগে। ঢাকা ছেড়ে আসতে ইচ্ছে হয় না, মনে হয় সেখানে এক দিনে সব ফুরোয় না।
আচ্ছা একটা কথা বলি। তোমরা তো বল যে একই বাঙালি, তোমরা জ্ঞানে বুদ্ধিতে সৃষ্টিকর্মে পৃথিবীতে এত গুমোর নিয়ে থাক। তা তোমরা কেন দু দিনে দুটো নববর্ষ মেনে নিয়েছ হে ? ঢাকায় আগের দিন, ভারতে পরের দিন ? যত বেশি তত ভালো—এই নীতি থেকে কি ? এই যে এত এত পণ্ডিত আছে বাঙালিদের মধ্যে—এত বিজ্ঞানী, এত ভাষাবিদ, এত পরিসংখ্যান-বিশেষজ্ঞ—তারা কেন এক সঙ্গে বসে দুই বাংলার জন্যে একটাই ক্যালেন্ডার ঠিক করে দেয় না বুঝি নয়া। দুই সরকার মিলে এটা করে দিলেই পারে, পদ্মা বা তিস্তার জল-বণ্টন নিয়ে যেমন চুক্তি হয়েছে বা (আশা করছি) হবে।
ঢাকার রমনা উদ্যানে ভোরবেলায় তোমরা অনেকেই গেছ, তাই না ? দোয়েল চত্বর থেকে কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউর ওপর ভোর থেকে মেলা বসে গেছে, একেবারে গ্রামের মেলা যেন। সেখানে বাঁশি বাজছে, ভেঁপু বাজছে, ছোটদের খেলনার বিচিত্র বাহার, বেলুনের গা ঘসার ক্র্যাঙাৎ ক্র্যাঙাৎ শব্দ, ঘরগেরস্থালির নানা জিনিস, কিন্তু এখন সে সব লক্ষ না করে বাচ্চাদের হাত ধরে ঢাকার প্রায় সব মধ্যবিত্ত মা বাবা ছুটে চলেছে রমনার বটতলার দিকে। তুলি- প্যাস্টেল নিয়ে পথে দাঁড়িয়ে থাকা আর্ট কলেজের ছাত্রছাত্রীরা ছোটোদের গালে নকশা আঁকছে, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ছবি, তার নীচে ‘জয় বাংলা’, নদীতে পাল তোলা নৌকো, শাপলা ফুল—কী নয় ? তরুণীরাও সাগ্রহে রংতুলির সামনে পেতে দিচ্ছে গাল।
কলকাতায় যেমন পঁচিশে বৈশাখে সবাই জোড়াসঁকোর দিকে ছোটে, ঢাকায় ছোটে রমনার বটতলার দিকে। ওই দিন সকলেরই পোশাকে একটু লালের ছোঁওয়া থাকে। ধর্ম যাই হোক, বহু মেয়ে লালপেড়ে শাড়ি পরে, আর বটতলায়, সনজিদা খাতুনের ছায়ানট দলের বিশাল অনুষ্ঠানে যারা গান আর আবৃত্তি করে যে মেয়েরা সকলেই তো লালপেড়ে শাড়ি পরা। আর দেড়শো-দুশো ছেলেমেয়ের গলায় কী গান—লালন, হাসন রাজা, রাধারমণ, রবিঠাকুর, নজরুল, দ্বিজু রায়, অতুলপ্রসাদ, রজনীকান্ত যেন জ্যান্ত হয়ে ওঠেন, গান আর কবিতাগুলো সকালের আকাশে যেন দিগন্ত থেকে দিগন্তে প্রচুর রামধনু এঁকে দিতে থাকে। মৌলবাদীরা এটা পছন্দ করে না বলেই ২০০১-এ বোমা মেরেছিল এখানে, মানুষ খুন করেও কিন্তু এই উৎসবকে থামাতে পারেনি। এখন এ উৎসব আরও দুর্দম হয়েছে।
তারপর ফেরার পথে সাজানো স্টলগুলোতে লাল প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে পান্তো ভাত খাও ইলিশ বা শুঁটকি মাছে দিয়ে, বন্দুক দিয়ে দেয়ালে সাজানো বেলুন ফাটাও, না পারলে বন্ধুরা এর-ওর গায়ে হেসে গড়িয়ে পড়ো, বাচ্চাকে যা খুশি খেলনা কিনে দাও, তার হাতে-দেওয়া গ্যাসবেলুন আকাশে উড়ে যাক, দুপুরের ঘামের মধ্যেও তাদের গালের নানা রঙিন নকশা অক্ষয় থাক। ঢাকার সব মানুষ যেন এই দিন রমনায় এসে থেকে যায়, বিকেলে ছাত্রছাত্রীদের বিশাল বিশাল মডেল আর ট্যাবলোর মিছিল দেখে, নানা ব্যান্ডের গান শুনে তবে ফিরবে।
শুধু রমনায় নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নয়, শহরের নানা তল্লাটে নববর্ষ উৎসব হয়, উৎসব হয় বাংলাদেশের তল্লাটে তল্লাটে। উৎসব ছড়িয়ে যায় সারা দেশে।
খুব তো ‘বাংলা বাংলা’ করো তোমরা। কলকাতায়, পশ্চিমবাংলায় এমন একটা কিছু করে উঠতে পার না ? শুধু অ্যাকাডেমি চত্বর নিয়ে পড়ে থাকলেই চলবে ? ঘরে বসে টেলিভিশনের নানা চ্যানেলের নববর্ষের বৈঠক দেখলেই চলবে ? তোমরা ঘর থেকে বেরোও, কিংবা ঘরে ডাকো মানুষকে। সারা বছর আমাকে ভুলে থাক ক্ষতি নেই, কিন্তু এই একটা দিনে তোমরা সবাইকে (সেই সঙ্গে নিজেদেরকেও) একটু ভালো করে বুঝিয়ে দাও যে, তোমরা বাঙালি ! ইংরেজি তারিখ দখল করে নিয়েছে তোমাদের মাইনে পাওয়ার দিনকে, তোমাদের ইস্কুল-কলেজ-অফিস-কারখানা আদালতের কাজ আর ছুটির দিনকে। তোমাদের বৃহৎ রাজনীতি-অর্থনীতিতে আমি কোথাও নেই, খবরের কাগজের মাথায় ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা তারিখ ছাপা হলেও সেটা কারও নজরে আসে নয়া। ছোটো আর মাঝারি ব্যবসায়ীর হালখাতা ধরে শুধু আমি ঝুলে থাকি।
তবু এই একটি দিনে আমি তোমাদের আর-একটু বেশি করে চাই। না, আমি এমন কোনো ম্যাজিক জানি না যে বলব নববর্ষের দিন নারীধর্ষণ হবে না, কোনো আলুচাষি আত্মহত্যা করবে না। তবু বলব, তোমরা আরও একটু বেশি করে আমার কাছে এসো। আমাকে ঘিরে থাকো।
ধূর ! চারদিকে বাংলা মিডিয়াম স্কুল উঠে গিয়ে ইংরেজি মিডিয়াম স্কুল বসছে, আমার আবদার শুনতে তোমাদের বয়েই গেছে। পশ্চিমবাংলা থেকে একদিন আমি হয়তো উলটো উদ্বাস্তু হয়ে বাংলাদেশে চলে যাব।