
উমা কোনো ব্যাপারেই কখনও বিচলিত হয় না, আজ ওকে যেন একটু আনমনা লাগছে। ড্রইংরুমের জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিল। গাছপালা দেখছে কিংবা ছোট্ট একটু আকাশ ঠিক বোঝা গেল না। সারাটা জীবনই তো কখনও বাইরে দেখা কিংবা অতীতের পর্দা সরিয়ে বিগত দিনের সুখ-দুঃখের হিসাব নেওয়া। কোনাটার মধ্যেই যেন ঠিক মন দিতে পারছে না উমা। প্রেমও বড় অনিশ্চয়তার পথে হাঁটে। কখন সে-যে আসে আবার হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায় কেউ জানে না।
দরজার কলিং বেল বেজে উঠল। উমা ভেবে অবাক হচ্ছিল এত তাড়াতাড়ি তো সন্দীপের ফিরে আসার কথা নয়, তবে এ সময় কে এল? দরজা খুলে একটু অবাক হল। একটা দমকা হাওয়ার মতো অবিশ্বাস্য কণ্ঠে উমা বলল, আরে তুমি অনিমেষ, কবে এলে বিদেশ থেকে?
- সে অনেক কথা। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকব, না ভেতরে আসতে বলবে?
- এ কিরকম কথা তোমার। তোমার সঙ্গে কি একদিনের পরিচয় কিংবা পাক্কা ছয় বছরের সীমান্ত পর্যন্ত বলো। ভেতরে এসো।
উমার সঙ্গে ভেতরে এসে ড্রইংরুমে বসল অনিমেষ। উমাকে এক পলক দেখে নিয়ে বলল – কত বছর পরে দেখছি তোমাকে উমা। কলেজে থাকতে সবাই মিলে তোমাকে কী বলতাম মনে আছে?
- সে তোমাদের অতিরঞ্জিত কথা। ওসব অকারণ প্রশংসায় কোনোকালে আমার মন ভেজে না। আর কেউ না বুঝুক তুমি নিশ্চয় বুঝে গেছ।
- তা নয়তো কি। আসলে কলেজে সব ব্যাপারে তুমি এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ছিলে। আমরা বলতাম, শরৎবাবু তোমাকে দেখলে ঠিক তার কোনো উপন্যাসে তোমাকে নিশ্চয় নায়িকা করতেন। অন্যায় দেখলেই প্রতিবাদ। প্রভেসরেরা পর্যন্ত সন্ত্রস্ত হয়ে থাকতেন। তোমার মুখটা তখন ঝকঝক্ করে উঠত। একটা অদৃশ্য আলো এসে পড়ত তোমার মুখে।
আমার কথা এখন থাক। তোমার কথা বলো।
বিদেশে অত পরিশ্রম, অত টাকা, অত ইজ্জত – তাও আর আমার ভালো লাগছে না। ভাবছি দেশে ফিরে আসব। তাই ছুটি নিয়ে ভারতকে দেখতে এলাম – এখানে এসে কাজ করতে চাই। তুমি কী বলো?
- নিশ্চয়, তোমাদের মতো মেধাবী বিজ্ঞানীদের এখন ভারতবর্ষ বেশি করে চায়। যদি বলো তবে আমাদের বিজ্ঞান সংস্থা সি.এস.আই.আর-এ দেখতে পারি। যদি চাও ডিরেক্টরকে তোমার কথা বলে দেখতে পারি।
- তুমি বললে নিশ্চয় কাজ হবে। মনে আছে মাঝখানে একবার এসেছিলাম তিন বছর আগে। তখন তোমার যে দাপট দেখেছিলাম, সারা সংস্থা তোমার প্রতিবাদের ভয়ে অস্থির। আবার দেখছি কেউ কেউ তোমাকে বেশ খোসামোদ করে চলে, কারণ তাহলে ডাইরেক্টরের কানে তাদের কথা পৌঁছাবে। তোমার এই শক্তিটা তুমি যে কোথা থেকে পাও – আমি অবাক হয়ে ভাবি।
- চা খাবে, না কফি? তুমি তো জান, হয়তো একটু ড্রিঙ্ক করতে চাইবে, ওটা তো আমি ঠিক মানিয়ে নিতে পারিনি, তাই ঘরে ওটার স্থান নেই। সন্দীপের প্রয়োজন পড়লে আমি জানি, বাইরে গিয়ে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা মেরে আসে। তবে এখনও পর্যন্ত ঘরে ও জিনিস আসেনি।
- জানি, তোমাকে আমার জানতে বাকি নেই। তুমি সব ব্যাপারে অন্যের থেকে একেবারে আলাদা। তাই আমি তোমাকে অ্যাডম্যায়ার করেও কোনোদিন তোমার কাছাকাছিও আসতে পারলাম না। জোর করলে হয়তো আমার মুখ দেখতে না।
আমি ওসব কথা ভুলে গেছি অনিমেষ। নতুন কিছু কথা থাকলে বলো।
- নতুন কিছু বলার নেই। আমার জীবনে এখনও তুমিই জীবন্ত হয়ে আছ।
উমা তার কোনো জবাব না দিয়ে উঠে গেল। বলল – দাঁড়াও আগে তোমার কফি তৈরি করে আনি।
কফি খেয়ে উঠে পড়ল অনিমেষ। বলল, কয়েকদিনের মধ্যে অফিসে গিয়ে তোমার সঙ্গে দেখা করব। আজ জরুরী একটা কাজ আছে। এক্ষুনি আমাকে উঠতে হবে। এখন আসি, কেমন।
উমা হেসে সায় দিল।
।। দুই ।।
উমা বিষাদের একটা ঘন ছায়া নিয়ে জানলার কাছে একটা চেয়ার টেনে নিয়ে বসে রইল। অতীত জীবনের কথা ওর মনে ভেসে উঠছে। জানলা দিয়ে রাস্তার অনেকটা পথ দেখা যায়। কেউ হেঁটে যাচ্ছে, কেউ সাইকেল করে, কেউ মুটে-মজুর মাথায় বোঝা নিয়ে। কেউ ই-রিক্সায় সেয়ারে নেমে পয়সা বার করছে পকেট থেকে। রাস্তার দু-পাশে বড় বড় গাছ। রদ্দুরের হলুদ-বর্ণা রঙ লেগে আছে গাছের পাতায়, গাছের ডালে। প্রতিবাদে উমার অগ্নিগর্ভ মুখটা দেখে কলেজের এক বন্ধু বলে উঠেছিল, মাথা উঁচু করে জয়ী হবার জন্য ও পৃথিবীতে জন্মেছে। মাথা উঁচু করেই জীবনে থাকতে চেয়েছিল উমা, কিন্তু জীবনের গতি কে কবে আগে থেকে বুঝতে পারে? বিজ্ঞানী হিসেবে সাধন মুখার্জী যখন বেশ সুনাম অর্জন করেছেন তখন তিনি হঠাৎ মারা গেলেন। বাবার মৃত্যুর পরে কিছুদিন বিপর্যয় সামলে উপায়ন্তর না খুঁজে পেয়ে মা শেফালি চিঠি লিখে তার দাদার বাড়ি যাবার বন্দোবস্ত করলেন। তখন থেকে উমা মামাবাড়িতেই মানুষ। নিজের বাড়ি না থাকলে যা হয়, বাধাবিঘ্ন ছাড়াও ছোটখাট নানা কারণে দোষারোপ মাথায় পেতে নিতে হয়। মা ওসব গ্রাহ্যের মধ্যে আনতেন না। বরং মেয়েকে ডেকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে বলতেন, গুছিয়ে সংসার করা কাকে বলে। বলতেন, তুই দেখতে সুন্দরী অনেকে বলবে কিন্তু ব্যবহারে ও চালচলনে যদি মিতব্যয়ী স্বভাবটা বজায় রাখতে না পারিস তবে সব বৃথা। আর যদি সহ্য করতে পারিস তবে দেখবি বড় একটা পৃথিবীর হাওয়া এসে তোর মনে লাগছে। তখন দেখবি তোর চেহরা়টার মধ্যে এমন একটা আভিজাত্য ও মাধুর্য ফুটে উঠবে যার শক্তিতে তুই যা বলবি তা উপেক্ষা করার কারুর সাধ্য নেই। এসব শুনে শুনে উমা নিজেকে সবরকম বাধাবিঘ্ন ও প্রতিরোধকে উপেক্ষা করে হয়তো এগিয়ে যাবার সাহস পেয়েছিল।
এতদিন পরে আবার অঞ্জনার কথা মনে পড়ছে। — তোরা দুজনেই ভালো রেজাল্ট করেছিস, উমা তুই এম.এস.সি-তে লেটার পেয়েছিস, তোর অঙ্কে দারুণ নম্বর আর অনিমেষ ফিজিক্স-এ একেবারে টপ-এ। অঞ্জনা বলেছিল, ভেবেছিলাম তুই ও তোর বন্ধু অনিমেষ চট্টোপাধ্যায় একই সঙ্গে এত ব্রিলিয়েন্ট রেজাল্ট করেছিস, তোর বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে একটা সেলিব্রেশনের আয়োজন করবি। তা দেখলাম সেরকম কিছুই করলি না। শুধু এটুকু দেখার সৌভাগ্য হল : অনিমেষ তোকে এসে বলল কনগ্রাচুলেশন। আর তুই শুধু হেসে বললি, তুমি তো দুর্দান্ত রেজাল্ট করেছ। অনেকেই তোমাকে নিয়ে গর্ব করবে, আমিও কম গর্বিত নই। ভালো রেজাল্ট করলে বিদেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করা খুব সহজ হয়। আমি জানি তুমি ওই পথে অনেকটা এগিয়ে গেছ। এর মধ্যে হয়তো স্কলারশিপের খবরও পেয়ে গেছ। সেসব আমি জানতেও চাই না, কারণ আমি জানি তুমি বিদেশে যাবার জন্য পা বাড়িয়ে আছ। অঞ্জনা জিজ্ঞেস করেছিল – এটা কি তোর পক্ষে একটা জুতসই উত্তর হল? এতদিনের বন্ধুত্বের ও সাহচর্যের পরে তোদের পারস্পরিক সম্পর্কটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে –তোকে দেখেশুনে আমি তো কিছুই ঠাহর করতে পারলাম না।
এর উপযুক্ত জবাব ছিল না উমার কাছে। আগের দিকে ওদের পরিচিত রেস্তোরাঁয় বসে অনিমেষের সঙ্গে নিভৃতে যে বিস্তৃত আলোচনা হয়ে গেছে, তার পুনরাবৃত্তি করার কোনো প্রয়োজন দেখেনি উমা। অঞ্জনাকে শুধু বলেছিল, তোদের মতো আমি অত আধুনিক হতে পারলাম না-রে। তোরা এগিয়া যা। আমি শুধু আমার তরফ থেকে এটুকু বলতে পারি যাকে হারাই, যে-ই আমার কাছ থেকে সরে দাঁড়াতে চায় – তাকে আমি পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে অভ্যস্ত। কোনো কিছু আঁকড়ে থাকার স্বভাব আমার নয়। তাছাড়া জোর করে আশা-আকাঙ্ক্ষাকে বশে এনে কোনো লাভ হয় না অঞ্জনা। যা তুই একান্তভাবে চাইছিস, সেটাই মানুষ করে ওঠার জন্য ছটফট করে আর অনিমেষ সেটাই করতে বদ্ধপরিকর। এগিয়ে যাবার পথে আমি কোনো একসময় নিশ্চয় একা পড়ে যাব। তা আমি অন্যরকম কিছুতেই হতে দেব না। মরে গেলেও না। তবে একটা কথা তোকে নিশ্চয় বলতে পারি – এই সমাজে-সংসারে আমরা মেয়েরা কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি – সেটা আগে আমার জীবনে আমি দেখে নিতে চাই। তারপরে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবব। আমাকে কে-কী দিতে চেয়েছিল বা দিতে পারত বা কলেজ জীবন থেকে আমি কি বা কতটুকু পেলাম, তাকে অতটা মূল্য দিতে আমি রাজি নই রে। জীবন আমার কাছে মস্ত বড় এক সম্পদ। মস্ত বড় জিজ্ঞাসাও বলতে পারিস। নয়তো বাবার মতো সুস্থ্য স্বাভাবিক মানুষের হঠাৎ ক্যানসারে হয় কেন? আমাদের জীবনকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়ে তিনি হঠাৎ চলে গেলেন কেন? তারপর থেকে আমি ভেবে কাজ করতে শিখেছি। কোনো কিছুর জন্য আমি ঝাঁপ দিতে রাজী নয়।
আর একটা কথা তোকে বলতে চাই। প্রেম, ভালোবাসা আর দশ জনের মতো ঘর-সংসার ও ছেলেমেয়ের প্রতিপালন আমার দ্বারা বোধহয় হবে না। অবশ্য এখন আমি বলতে পারিছ না অনিমেষকে আমি তার নিজের পথে ছেড়ে দিয়ে আমি কোন্ পথে হাঁটব।
কতক্ষণ এভাবে বসে পুরোনো কথা ভাবছিল খেয়াল ছিল না, উমার। কলিংবেল বেজে উঠতেই দরজা খুলে দেখে সন্দীপ বড় পরিশ্রান্ত হয়ে এদিক-ওদিক দেখছে।
- কতক্ষণ ধরে বেল টিপছি – কি হয়েছে বলো তো তোমার? অনিমেষ এসেছে বিদেশ থেকে তুমি না বললেও আমি শুনেছি। কিন্তু ওর জন্য এতটা উতলা হতে তো তোমাকে কখনো দেখিনি।
- তুমি এসব কথা দরজায় দাঁড়িয়ে বলবে নাকি? বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে বুঝি আড্ডা মেরে এলে। এবং নিশ্চয় একটু বেশি টেনেছ।
- নিশ্চয়। যখন তুমি বাড়িতে আড্ডাবাজদের আড্ডা বসাতে রাজী নও, তখন আমাকে মাঝে মাঝে তো অন্য ব্যবস্থা করতেই হবে। তুমি যেমন দু-মুখো মানুষ, আমিও একটু মাঝেমাঝে অন্যরকম হতে চাই। একে আমি জানি। অন্যরকম আব্দার। তুমি কি বলবে আমার জানা আছে। তবে পুরুষমানুষ অত ভেবেচিন্তে চলতে পারে না। বা জানে না সে কেন নিয়মকানুন ভেঙ্গে মাঝে মাঝে স্বাধীন হতে চায়।
- বাইরে দাঁড়িয়ে থাক, তাহলে ভেতরে আজ আর এসো না।
- তবে আমি তাই আজ করব। বলে সন্দীপ গড়গড় করে রাস্তায় নেমে গেল।
উমা বুঝল এখানে প্রতিবাদ মানেই জুলুম। হঠাৎ বেশি খেয়ে ফেললে এরকম উশৃঙ্খল হয়ে ওঠে ওর মনটা। তাছাড়া বহুদিন শাসনে থেকে এখন বোধহয় স্বাধীন হবার কথা ভাবছে। তবে সুলোচনার সঙ্গে থাকুক না গিয়ে। মাঝেমধ্যেই তো ওখানে সময়টা কাটিয়ে চাঙ্গা হয়ে আসে। আজ না হয় রাতটা ওখানেই থাকুক। বিশেষ করে রাতে আমার সঙ্গটা তো আজকাল ওর বিষ মনে হয়। বিশেষ করে অনিমেষের গন্ধ যখন পেয়েছে ওর অসহিষ্ণু সন্দেহবাতিক মনে।
দরজাটা ভেজিয়ে রেখে নিজের ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ল উমা। যখনই সুলোচনার ঘর থেকে ফিরুক খোলা পাবে দরজা। বারোটা পর্যন্ত দেখবে উমা, নইলে দরজা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। অপছন্দ হলেও উমা চিৎকার চেঁচামেচি করে না। সন্দীপ ঠাট্টা করে বলে, অভিজাত, প্রশান্ত মন, স্বভাবটাও তেমনি নিরেট। এবার হয়তো খোলাখুলি বলে বসবে – অনিমেষই ওর উপযুক্ত স্বামী।
।। তিন ।।
- আজ ভয়ে ভয়ে এসেছি তোমার কাছে – অনিমেষ হালকা একটু হাসি ছড়িয়ে বলল।
- ভয় কেন? উপেক্ষা বুঝি ভয়ে বদলে যায়।
- কী যে বলো। তোমাকে আমি ভালোবাসি উমা। তুমি আমার আবেগ ও ভালোবাসাকে কোনো কালে মর্যদাই দিলে না।
- এই যে অপেক্ষা করে আছি সকাল থেকে – তার তবে কি।
- তাই বুঝি? তবে আমি ধন্য। আসলে আমিও জানি যে সময় তোমাকে ছেড়ে আমি বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলাম, তখন আমার মনে বাসনা ও আকাঙ্ক্ষার একটা দুর্দান্ত গতিবেগ ছিল। সেখানে ভালোবাসার রঙিন বিলাস আমাকে বেঁধে রাখতে পারত না – পারেনি। সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হওয়াতে এখন আমি অন্য মানুষ। সে যাক – জীবনটা তো এরকমই –যা চাওয়া যায় তা অনেক সময় ভুল করে চাওয়া। কিংবা পাওয়াটা অনেক সময় ভুল পথে হাঁটা।
উমা সায় দিয়ে বলল, তোমার কথা ড. আহমেদকে আমি বলে রেখেছি। দাঁড়াও, একটু বোস, আমি দেখে এসে তোমাকে বলছি।
কিছুক্ষণ পরে উমা এসে বলল – যাও, তোমার জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন।
ঘন্টা দেড়েক পরে হাসতে হাসতে অনিমেষ ফিরে এল উমার কাছে। বলল, আমার কাজকর্ম দেখে তিনি আমাকে বলেছেন সাইন্টিফিক ও ইনড্রাস্ট্রিয়াল বিভাগের হেড হিসেবে আমি জয়েন করতে পারি।
উমা খুশি হয়ে বলল – তাহলে বলো, এখন কি জয়েন করতে পারবে না কি আবার যখন ফিরে আসবে। তখন হয়তো তোমার মন পাল্টে গেছে। ভাববে যা করছি সেটাই সুযোগ্য পুরুষের যোগ্য কাজ।
ঠিক বলেছ তুমি। ফিরে এসে যদি তোমাকে না পাই তবে কিন্তু আবার ফিরে যাব বিদেশে। সেরকম একটা ব্যবস্থা করে আসব আমি। এবার আমি মন থেকে তোমাকে চাইছি তুমি কি বুঝতে পারছ না উমা?
যখন ফিরবে তখন হয়তো দেখবে আমি নেই। জীবনে কোনো কিছু কি জোর দিয়ে বলা যায়? জীবন বড় রহস্যময়। নিশ্চয় তা স্বীকার করবে।