তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
শীতের সমস্যা ও প্রতিকার

                                       

         

বিশেষত গ্রীষ্মপ্রধান দেশের মানুষদের কাছে শীতের আবির্ভাব মানে বেশ একটা আনন্দের ব্যাপার। বেশিরভাগ সময়ে গরমে থাকার পর শীতের পরশ এনে দেয় এক ভালোলাগার অনুভূতি । তাছাড়া আছে বিভিন্ন উৎসব, যেমন পৌষ পার্বণ  , ক্রিসমাস,  ইংরেজি নিউ ইয়ার সেলিব্রেশন,  পিকনিক, মেলা -- যার মধ্যে বইমেলাও আছে, এবং সেই সঙ্গে আছে আরও কত মজার ব্যাপার, ঘুরতে যাওয়া , আর অবশ্যই জমিয়ে খাওয়াদাওয়া ।

    কিন্ত সব সময়ের মতো শীতের সময়েও কিছু  সমস্যা  আসতে পারে।  সেই সব শারীরিক সমস্যা এবং তাদের প্রতিকার সম্বন্ধে জেনে রাখা খুবই প্রয়োজন।

     শীতের আগমনের ফলে যে সব সমস্যা হতে পারে সেগুলি হল,

     সর্দিকাশি, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ইত্যাদি এসময়ের সাধারণ সমস্যা।  এইসময়ে বাতাসে যেহেতু আর্দ্রতার পরিমাণ কম থাকে ,ফলে ভাইরাস বেশিক্ষণ বাতাসে থাকতে পারে । এছাড়াও, লোকজন বেশিক্ষণ ঘরে থাকেন বলে সংক্রমণ ছড়ানোর সুযোগও বেশি থাকে। সাধারণ সর্দিকাশি থেকে শুরু করে গুরুতর সংক্রমণ, যেমন, নিউমোনিয়া ইত্যাদিও হতে পারে।  বয়স্ক ব্যক্তি বা যাঁদের অন্যান্য অসুখ আছে, যেমন, ডায়াবেটিস মেলিটাস, ক্যানসার,  হার্টের অসুখ প্রভৃতি থাকলে এইসব সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং সারতেও দেরি হয়। কাজেই তাঁদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন হয়।

    যাঁদের হাঁপানি বা Asthma আছে  তাঁদেরও এই সময়ে সাবধানে থাকা দরকার। রোগের প্রকোপ এই সময়ে বাড়তে পারে  , অর্থাৎ শ্বাসকষ্ট বাড়তে পারে। এছাড়াও কারও কারও ক্ষেত্রে শীতের সময়েই হাঁপানি দেখা দেয়, একে Seasonal asthma বলে।

  হৃদযন্ত্রের সমস্যা বা Cardiac problem যাঁদের থাকে, শীতকালে তার প্রকোপও বাড়তে পারে।  রক্তচাপও বাড়তে পারে। হার্ট ফেলিওরের তীব্রতা বাড়তে পারে ।

   ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরের ব্যথা বাড়তে পারে।  বিশেষত যাঁদের বাতজাতীয় অসুখ বা Arthritis আছে, তাঁদের। সকালে উঠলে একরকমের জড়তা দেখা  দিতে পারে । চামড়া শুষ্ক হয়ে যায় এবং ফেটে যায়।  বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কম হওয়ায় এবং চামড়ার তৈলাক্ত পদার্থ কমে যাওয়ার জন্য এরকম হয়। অতিরিক্ত ঠান্ডা পড়লে শারীরিক দুর্বলতা,  অবসাদ, মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত ঠান্ডার মধ্যে শীতের জন্য উপযুক্ত পোশাক  ছাড়া বেশিক্ষণ থাকলে শরীরের তাপমাত্রা ভীষণভাবে কমে যেতে পারে,  যাকে হাইপোথারমিয়া  বলা হয়। এটি বেশ সাংঘাতিক অবস্থা । ঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে মৃত্যুও ঘটতে পারে ।

    কাজেই শীতকালে এই সব ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। সর্দিকাশি বা আরও গুরুতর সংক্রমণ হলে তার চিকিৎসা করতে হবে, প্রয়োজনমতো অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে। তবে যা করবেন সে সবই করতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। যাঁদের অন্যান্য অসুখ বা comorbidity আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ঘন ঘন সংক্রমণ হলে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার টীকা বা ভ্যাক্সিন দেওয়া যায়। হাঁপানির প্রকোপ বাড়লে বা নতুনভাবে দেখা দিলে ইনহেলার, নেবুলাইজার এবং অন্যান্য ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। তেমন তেমন ক্ষেত্রে প্রয়োজনে কখনও কখনও অক্সিজেন দিতে হয় এবং হাসপাতালে ভর্তি করতে হতে পারে। হার্টের অসুখের ক্ষেত্রেও এই সময়ে নজর রাখতে হবে এবং সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। আর্থ্রারাইটিসের রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যথা বাড়লে অতিরিক্ত ওষুধ দেওয়া প্রয়োজন । অবসাদ বা অন্যান্য মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হলে তারও যথাযথ চিকিৎসা করতে হবে। যথাযথ শীতের পোষাক এবং লেপ ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। খুব ঠান্ডা থাকলে রুম হিটার ব্যবহার করা প্রয়োজন। কোনো কারণে যদি কারোর হাইপোথারমিয়া হয়, তার দ্রুত চিকিৎসা করা দরকার, এবং হাসপাতালে ভর্তিও করতে হতে পারে। সাধারণভাবে ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে, যাতে আর্দ্রতা বজায় থাকে।

    সুতরাং, মনে রাখা ভালো যে, শীতের মজা আমরা অবশ্যই উপভোগ করব,  কিন্ত একটু সাবধানতা অবলম্বন করে, আর কিছু সাধারণ প্রিকশনের কথা মনে রেখে। এ বাদে আর দুশ্চিন্তা করার কোনো কারণ নেই,  তাহলে তো আনন্দটাই মাটি।  


Scroll to Top