
টানা ছদিন টানাপড়েনের শেষে তামিলনাড়ুতে সরকার গড়লেন থলপতি (commander)বিজয়। বাম, কংগ্রেস ও কয়েকটি আঞ্চলিক দলের সঙ্গে সমঝোতায় কাটল ম্যাজিক ফিগারের জট। মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন রুপোলি পর্দার সুপারস্টার থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া চন্দ্রশেখরন জোসেফ বিজয়। রবিবার বর্ণাঢ্য শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী। অবসান হল প্রায় ছয় দশকের ডিএমকে, এআইডিএমকে আধিপত্যের। বিজয় বললেন, 'প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতা ও সামাজিক ন্যায়ের জমানা শুরু হল তামিলনাড়ুতে।'
৪ এপ্রিল ফল ঘোষণার পর থেকে হাই ভোল্টেজ ড্রামা চলছিল তামিলনাড়ুতে। বারবার রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানিয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে বিজয়কে। কারণ তাঁর দল টিভিকের কাছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিধায়ক ছিল না। কংগ্রেসের ৫ বিধায়ককে সঙ্গে পেয়েও যখন বিজয় ম্যাজিক ফিগার ১১৮ তে পৌঁছতে পারছিলেন না, তখন সিপিআই ও সিপিআইএম -এর ৪ বিধায়কের সমর্থন মিলল। এছাড়া ভিসিকের ২ আর আইইউএমএল - এর ২ বিধায়ক রয়েছেন বিজয়ের শরিক হিসেবে। এককভাবে বিজয়ের দল টিভিকে পেয়েছে ১০৮ টি আসন (বিজয় দুটি আসনে জয়ী)। ফলে পাঁচদিনের অক্লান্ত চেষ্টায় ১১৮ র গেরো পার করতে পারল টিভিকে।
তামিলনাড়ুর সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে দক্ষিণে শক্তি বাড়াল কংগ্রেস। এই বিধানসভা নির্বাচনে কেরলে ক্ষমতায় এসেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট। কর্নাটক ও তেলেঙ্গানায় কংগ্রেস শাসকদল। রাহুল গান্ধী যেভাবে ছুটে এসেছেন চেন্নাই বিজয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে, তাতে বোঝাই যায়, এবার দাক্ষিণাত্যে শক্তি বাড়ানোয় আরো মনোযোগী হবে কংগ্রেস। এবার দেখার, তামিলনাড়ু সরকারে কতটা দরদস্তুর করে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক আদায় করতে পারে বাম ও কংগ্রেসী শরিকেরা