তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
এসেই দামামা বাজাতে শুরু করেছেন ট্রাম্প


গত চার বছরে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১৮ লক্ষ শরণার্থীর আইনি অধিকার কেড়ে নিতে চলেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এর ফলে প্রায় আড়াই লক্ষ ইউক্রেনীয় সহ প্রায় লক্ষ লক্ষ শরণার্থীর সে দেশে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য অনুযায়ী, সামনের মাস, অর্থাৎ আগামী এপ্রিল মাস থেকে বিপুল সংখ্যক শরণার্থীদের আমেরিকা থেকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া শুরু হবে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে স্বভাবতই বিপন্ন হতে পারে ইউক্রেন আফগানিস্তান এবং পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলি থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন।

সম্প্রতি ওভাল হাউসে সংবাদমাধ্যমের সামনে বেনজির বচসায় জড়িয়ে পড়েছিলেন ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি। তারপরেই যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে পালিয়ে আসা ২ লক্ষ ৪০ হাজার শরণার্থীর সাময়িক আইনি অধিকার প্রত্যাহার করে নেওয়ার এই সিদ্ধান্তে প্রতিহিংসা দেখছেন অনেকেই। যদিও ওয়াকিবল মহলের খবর, জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় বসার আগেই নাকি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষকর্তা এবং ইউএস হোমল্যান্ড সিকিউরিটিজের আরো কয়েকজন আধিকারিক জানিয়েছেন, আগামী কিছুদিনের মধ্যেই ইউক্রেনের শরণার্থীদের দেশে ফেরত পাঠানো শুরু হবে। এই তালিকায় রয়েছেন আফগানিস্তান , সিরিয়া, কিউবা , নিকারাগুয়া, ভেনেজুয়েলা , হাইতি এবং আরো অন্যত্র থেকে চলে আসা লক্ষ লক্ষ মানুষ।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সে দেশ থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের জন্য বিশেষ আইনি অধিকারের বন্দোবস্ত করেছিল ট্রাম্পের পূর্বসূরী জো বাইডেনের প্রশাসন। সেই সিদ্ধান্ত থেকে এত দ্রুত সরে এসে এত লক্ষ মানুষের জীবন বিপন্ন করে তোলার এই সিদ্ধান্তে হতবাক খোদ ট্রাম্প প্রশাসনের বহু কর্তাও। যদিও বাইডেন জমানায় যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলি থেকে আসা ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ প্যারোল প্রোগ্রামের বিরোধিতা ভোট পর্বেই করেছিলেন ট্রাম্প। যদিও ইউ এস হোমল্যান্ড সিকিউরিটিজ এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, তাঁদের মন্ত্রক থেকে এ নিয়ে এখনও কোনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে এত কিছুর পর বিষয়টি নিয়ে এখনো মুখ খুলতে চাইছে না হোয়াইট হাউস বা ইউক্রেনের দূতাবাস।

দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর সম্প্রতি এইসব বিষয় নিয়ে একটি এক্সিকিউটিভ অর্ডারে সই করে সমস্ত প্যারোল প্রোগ্রাম বাতিল করেছেন ট্রাম্প। হিসেব বলছে এই তালিকায় রয়েছেন ৫ লক্ষ ৩০ হাজার কিউবা , হাইতি, নিকারাগুয়া, এবং ভেনিজুয়েলার মত লাতিন আমেরিকান দেশের শরণার্থী। ৭০ হাজারেরও বেশি আফগান শরণার্থীও গত চার বছরে আমেরিকায় এসে পৌঁছেছেন নানাভাবে। বেআইনিভাবে আমেরিকায় প্রবেশ করা শরণার্থীদের দেশে ঢোকার দু বছরের মধ্যে যেকোনো সময় বিতাড়িত করার সুপারিশ রয়েছে ওই নির্দেশে। কিন্তু আইনি পথে যাঁরা শরণার্থী হিসেবে আমেরিকায় এসেছেন তাঁদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা কী হবে তা মোটেই স্পষ্ট করা হয়নি। তবে তাঁদের ক্ষেত্রেও যে ট্রাম্প প্রশাসন বিশেষ কোনো সহানুভূতি দেখাতে রাজি নয় তা বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে আলোচনায় স্পষ্ট।

গতমাসে বাইডেন জমানার বিভিন্ন মানবিক প্যারোল প্রোগ্রামের মাধ্যমে ইমিগ্রেশনের সমস্ত কাজ আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট । তার ফলে অপেক্ষায় থাকা বহু মানুষের ভবিষ্যৎ এই মুহূর্তে চরম অনিশ্চিত বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


Scroll to Top