তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
হাসিনার আগে যাঁদের আশ্রয় দিয়েছে ভারত

বসুধৈব কুটুম্বকম। সারা পৃথিবীকে আত্মীয় জ্ঞান করে বুকে টেনে নেওয়া ভারতীয় সংস্কৃতির অঙ্গ। কিন্তু সে তো গেল সাধারণের কথা। যদি আশ্রয়প্রার্থী হন রাষ্ট্রপ্রধান, ধর্মগুরু বা অন্য কোনো অর্থে অতি বিশিষ্টজন, চলে আসে কূটনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বা আইনের নানা প্যাঁচ। যেমন এ'মুহূ্র্তে উঠেছে বাংলাদেশের 'প্রাক্তন' প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বারবার হাসিনাকে ফেরত চাইলেও ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ভারত তাঁকে ফেরত পাঠাতে বাধ্য নয়। ঢাকার আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল হাসিনাকে মৃত্যুদন্ড দেওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেত্রীকে ফেরত পেতে যে মরিয়া হয়ে উঠবেন মহম্মদ ইউনূস, সেটাই স্বাভাবিক। এদিকে ভারত এবিষয়ে সবরকম আইনী প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখছে।

অতীতে ভারত বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানুষকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আশ্রয় দিয়েছে।

১৯৫০ - রাজা ত্রিভুবন শাহ

 শাসক রানাদের সঙ্গে সংঘাতের জেরে ১৯৫০ সালের নভেম্বরে নেপালের মহারাজা ত্রিভুবন বীর বিক্রম শাহ সপরিবারে কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাসে আশ্রয় নেন। এর তিনদিন পর ভারতের পাঠানো বিমানে চেপে ত্রিভুবন শাহ ও পরিবারের অন্যরা দিল্লিতে আসেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু তাঁদের ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় দেন।

১৯৫৯ - দলাই লামা

১৯৫৯ সালের ৩১ শে মার্চ চতুর্দশ দলাই লামা ভারতে আসেন। বেশ কয়েক বছর ধরে তিব্বতকে নিয়ন্ত্রণ করছিল চীন। তিব্বতের এই তরুণ ধর্মগুরু লাসায় তাঁর প্রাসাদে বিপন্ন বোধ করছিলেন। তিব্বতিরা বহুদিন ধরেই সন্দেহ করছিল যে দলাই লামাকে চীন অপহরণ করার ষড়যন্ত্র আঁটছে। ভারত রাজনৈতিক আশ্রয় দিতে প্রস্তুত, এই আশ্বাস মেলার পর গোপনে কয়েকজন বিশ্বস্ত সঙ্গীকে নিয়ে তিনি ছদ্মবেশে ভারতে আসেন। সেই থেকে ধরমশালায় রয়েছেন তিনি।

১৯৯২ - মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহ আহমদজাই

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্টকে আশ্রয় দিতে ভারত রাজি হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি ভারতে আসতে পারেননি। বিমানবন্দরে আসার পথেই আফগান রক্ষীরা তাঁকে আটক করে। ১৯৯২ সালের এপ্রিলে ইসলামি মুজাহিদিনরা

কাবুল দখল করে। তখন প্রেসিডেন্ট পদে ইস্তফা দিয়ে নাজিবুল্লাহ ভারতের কাছে আশ্রয় চান, তা মঞ্জুরও হয়। আগেই বিপদ আঁচ করে প্রেসিডেন্ট নাজিবুল্লাহ স্ত্রী ও তিন কন্যাকে গোপনে ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁরা এখানেই থেকে গেছিলেন।

২০১৩ - মোহামেদ নাশিদ

মালদ্বীপের অপসারিত প্রেসিডেন্ট মোহামেদ নাশিদের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করার আগেই নাশিদ চলে যান ভারতীয় হাই কমিশনে। তাঁর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন মঞ্জুর করে মনমোহন সিং সরকার। তবে শেষ পর্যন্ত আশ্রয় দিতে হয়নি। কয়েক দিন পরেই বিরোধীদের সঙ্গে বোঝাপড়া হয়, নাশিদ গ্রেফতারি থেকে অব্যাহতি পান।

২০২৪ - শেখ হাসিনা

১৯৭৫ সালে পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ও পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের হত্যাকাণ্ডের পর ভারতে আশ্রয় পান শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ছত্রছায়ায় দিল্লিতে থাকতে শুরু করেন। ছ' বছর পর দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলন পরবর্তী 'গণ অভ্যুত্থানের' জেরে দেশছাড়া হন 'প্রধানমন্ত্রী' শেখ হাসিনা। ঢাকা থেকে পালিয়ে আসেন দিল্লিতে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আশ্রয় দেন তাঁকে। এখনো পর্যন্ত ভারতের আশ্রয়েই

রয়েছেন তিনি।


Scroll to Top