তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
রঙে রেখায় রাজপুতানা (ধারাবাহিক উপন্যাস)

সমুদ্র ছাড়াই তো জয়সলমীরের মুখটাকে ফসিলের মতো লাগে। মহারাউলের প্রাসাদের আশেপাশে লোকজনের বসতি। সেখানে গিয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকলেই বশিষ্ঠ আঁচ করতে পারে যেন ফসিলের একেকটা বৃক্ষ। খাটিয়ায় বসে গড়গড়া টানছে বৃদ্ধ কিংবা যুবক। গরুগুলো রাস্তা আগলে ঝিমোচ্ছে। মেয়ে বউরা ঘোমটা টেনে কাপড়ের কাচে। সময়টা কোথাও যেন প্রবহমান নয়। মাঝে মাঝে ঘড়িগুলো যেন গলে গলে পড়ে যায়। যেন সালভাদর ডালির গলে যাওয়ার সময়। অতীত নেই ভবিষ্যৎ নেই, প্রাগৈতিহাসিক অদ্ভুত একটা স্বপ্নালোকিত অবস্থা। মাছ যেমন বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে জলের উপরে ভেসে ওঠে, মাঝে মাঝে এই লোকগুলো যেন বর্তমানের বুকে নিঃশ্বাস নিতে একবার শুধু তাকিয়ে দেখে, তারপর নেশার ঘোরে আবার ডুব দেয় অতীতে। অত ডুব দিয়ে কি যে ওরা রত্ন তুলে আনে, ওরাই জানে। জয়সলমেরে মাত্র সাড়ে ১৬ হাজারের মতো লোক, অত কম লোকের পক্ষে বর্তমানের প্রেমে আটা আধুনিক মানুষ হয়ে ওঠাও তো মুশকিল।
জয়সলমেরের এরকম একটা ছন্নছাড়া স্বভাব বলেই সবকিছুই বালিয়াড়ির নিচে চাপা পড়ে যায়। প্রমাণ তথ্য যেটুকু পাওয়া যায়, তারিখহীন সুতোয় জট পাকিয়ে যায় আরো বেশি। তখন যেটুকু অবশিষ্ট থাকে তাও হারিয়ে যায় ।
বৈদিক যুগে সারা ভারতবর্ষ নানা জনপদে বিভক্ত ছিল। তাদের এক একজন জনপ্রধানকে বলা হত জনপতি। জনপতিদের মধ্যে ক্রমাগত লড়াই লেগেই থাকত। দেবরাজ ইন্দ্র বোধহয় সবচেয়ে শক্তিশালী প্রধান --- যার রূপ ও শক্তি যুগে যুগে পাল্টেছে। নাথদোয়ারার মোলেলা মূর্তিকারের টেরাকোটায় তাই জন্ম নেয় ইন্দারদেব। রাজস্থান সবথেকে উপেক্ষিত জায়গা ছিল। আক্রমণের চোখ সামলাতে না পেরে বা মার খেয়ে দিশেহারা হয়ে নানা আদিবাসী জনবসতি এখানকার এলাকায় এসে আশ্রয় নিয়েছিল, কালে কালে যুগে যুগে। লুকিয়ে পড়া, গা ঢাকা দেওয়ার সর্বশেষ অধ্যায় বোধ হয় মৌর্য যুগের ঘটনা।
এরকম একটা জনপদ ছিল যার নাম সৌবীর। জয়সালমের ও সেই জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এখানে নানা আদিবাসী বাস করত। এবং তাদের প্রধানরাই এই অঞ্চলের শাসক ছিলেন। ভোটটিদের পূর্বপুরুষ নাকি ছিল যাদবরা। কৃষ্ণের পুত্র প্রদ্যুম্ন ছেলে বজ্র --- তার ছেলে নব । মথুরায় ছিলেন, চলে এলেন মরুস্থলীতে। তারই পুত্র পৃথ্বীবাহু পেয়েছিলেন কৃষ্ণের রাজছত্র। তাই রাজ ছত্র ভট্টি রাজপুতদের এত গৌরবের বস্তু। পৃথ্বীবাহুর পরে চতুর্থ পুরুষ হলেন গজ। যদুপতি গজন বসলেন গজনীর সিংহাসনে। এক সময় ভোটটি রাজত্ব উত্তরে লবণ এলাকা থেকে কাশ্মীর এবং উত্তর-পশ্চিমে রাওয়াল পিন্ডির কাছে গজনীপুর পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছিল।

                                                                 এরপর আগামী সংখ্যায়

Scroll to Top