তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে ‘হোলা মহল্লা’-র


পঞ্চনদীর তীরে এখন “হোলা মহল্লা”-র প্রস্তুতি চলছে। প্রস্তুতি হোলি উদযাপনের ।

তবে শান্তিনিকেতনের দোল উৎসবের সঙ্গে এর সাদৃশ্য শুধুমাত্র ফাগের রঙে রাঙিয়ে দেবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এ দেশে নাচের ললিত মুদ্রা নেই, পলাশের কন্ঠহার নেই, সুরের তালে বাসন্তী আঁচলের ওঠাপড়া নেই।

এখানে কেবল আকাশে বাতাসে গুরবানীর ধ্রুপদি সুর, গুরুর সেনা নিহাংদের নীল পোশাকের পেছনে তীর ধনুক আর কোমরে তিন হাত লম্বা তলোয়ার সাঁটা, আছে ‘ওয়াহে গুরুজিকে ফতে’’ এই সম্মিলিত রণহুংকার।

আনন্দপুর সাহিব থেকে কিরাতপুর সাহিব এই দুই গুরুদ্বারের মাঝের ১০ কিলোমিটার জুড়ে মেলা বসবে, তার পরেও রাস্তার ধারে ধারে গ্রামবাসীরা নিজের খরচে লঙ্গর বসাবে। এখন তার প্রস্তুতি চলছে। এরপর পুরো রাস্তা নীল এবং গেরুয়া নিশান নিয়ে ঘোড়ার পিঠে সোজা হয়ে বসে মিছিল করবে খালসা বাহিনী।

আজ তারই কিছুটা আঁচ নিয়ে ফিরলাম। ১৫ই মার্চ থেকে ১৭ তারিখ অবধি হোলা মহল্লা, কিন্তু ওই ভিড় সবার সইবে না বলে আজই দলে দলে মানুষ বেরিয়ে পড়েছে। বাইক, ট্রাক্টর, গাড়ি, বাস, সব মিলে সে কী জ্যাম! আমরা পাতালপুরী আর চরণকমল গুরুদ্বারে প্রচুর ঘি মাখা হালুয়া লঙ্গরে খেলাম, কিন্তু ভিড়ে পুলিশ গাড়ি ঢুকতে দিল না বলে পাহাড়ের ওপর পীর বাবা বুধান শাহজির মাজারে ঢুকতেই পারলাম না।

পাতালপুরী গুরুদ্বারে এক নতুন অভিজ্ঞতার কথা বলে শেষ করি। পেছনেই সুতলেজ বা শতদ্রু বয়ে যাচ্ছে। অজস্র শিখ তাদের সদ্য মৃত প্রিয়জনের ভস্ম এনে ভাসিয়ে দিচ্ছে এখানে। আমি তো প্রথমে বুঝতেই পারিনি, দেখি দীর্ঘদেহী এক শিখ নবজাতককে ধরার মতো বুকে জড়িয়ে ধরে আছে এক মস্ত সাদা কাপড়ের পোটলা, মুখে তার প্রচন্ড বিষণ্নতা, পেছনে ক্রন্দনরত নারীপুরুষ। এগিয়ে গেল সেই দীর্ঘ মিছিল, কাঁদতে কাঁদতে জলে উবুড় করে দিল সাদা কাপড়ে জড়ানো অস্থি এবং ভষ্ম! এইজন্য কি এর নাম পাতালপুরী?

ধর্ম তার দীর্ঘতম শেকড় ছড়িয়ে দিয়েছে এই উপমহাদেশের মানুষের মনে। কুম্ভমেলায় যাবার হিড়িককে শুধু রাজনীতির ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি বললে অতি সরলীকরণ হয়। আমি এই ধার্মিক মানুষের ঢল দেখি বিশুদ্ধ বিস্ময়ের সঙ্গে! বোঝার চেষ্টা করি বলে সেই বিস্ময়ের সঙ্গে মিশে থাকে আগ্রহ।


Scroll to Top