তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
‘আমার সোনার বাংলা’ নিয়ে রাজনীতি হাস্যকর, মত শিল্পীদের

আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি… — সভামঞ্চে গানের প্রথম কলি উঠতেই করতালি পড়ে যায়। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই সেই সুর ধাক্কা খায় রাজনীতির দেওয়ালে। কারণ, গানটি গত কয়েক দশক হল বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত।  ভিডিয়োটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ঝড় ওঠে দেশ জুড়ে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা টুইট করে লেখেন, “ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া আমাদের সার্বভৌমত্বের অপমান।” এরপরই তিনি নির্দেশ দেন পুলিশকে—দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে। আসামে কংগ্রেস সভায় বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে এই উত্তেজনা। বিজেপির তোপ, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, পুলিশের তদন্ত শুরু। কংগ্রেসের বক্তব্য, এটি রবীন্দ্রসঙ্গীত, এর পরিচয় কেবলমাত্র বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে নয়।  বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিষয়টি ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক , তাই মন্তব্য করা অনুচিত’। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমগুলিও ঘটনাটি বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেনি, বরং স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—‘রবীন্দ্রনাথ দুই বাংলার যৌথ ঐতিহ্যের প্রতীক।’ এ বিষয়ে গায়িকা লোপামুদ্রা মিত্রকে প্রশ্ন করা হলে তিনি মতামত দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করে  বলেন,  ‘আজকাল এরকম রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে একদম ভালো লাগে না। বিষয়টি রবীন্দ্রনাথের গান, এটাই যথেষ্ট।’ প্রশ্নের উত্তরে প্রমিতা মল্লিক বলেন, ‘রবীন্দ্রসঙ্গীত বা কোনো দেশের জাতীয় সঙ্গীত সম্পর্কে এধরনের মতামত হাস্যকর। কিন্তু  কোনো দেশের জাতীয় সঙ্গীত যদি   কেউ যদি বসে বা যথাযোগ্য সম্মান না দিয়ে পরিবেশন করেন তাহলে সেটা অবশ্যই আপত্তিযোগ্য।' বিশিষ্ট লেখক শঙ্করলাল ভট্টাচার্যও যথেষ্ট ক্ষুব্ধ রবীন্দ্রনাথের গানের প্রেক্ষিতে এরকম অপ্রত্যাশিত ঘটনায়। তাঁর কথায়, ‘ কী আর বলব বলুন তো ! বাঙালির ভাবনা, বাংলার সংস্কৃতি নিয়ে এখন এসব যা হচ্ছে সেটা তো প্রায় আত্মহত্যার সামিল। বাংলাকে, বাঙালিকে এভাবে হেয় করে অসম নিজেও কি খুব ভালো থাকবে ? এর ভবিষ্যতটা কী? এরা কোনদিকে যাচ্ছে? কোথায় নিয়ে যাচ্ছে গোটা ভারতকে? রবীন্দ্রনাথ তো কেবল বাংলার নন । তিনি তো গোটা ভারতকে সম্মানিত করেছেন , তাই না ? এ তো নিজেদের দেশকেই অপমান করা। এক ধরনের লোক হাসানো। কমিক করা। এসব করে এগোনো যায় না। যাবেও না।’   সঙ্গীত শিল্পী ও সুরকার  রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এটা তো রবীন্দ্রনাথের গান। রবীন্দ্রনাথের গান গাইবার জন্যে রবীন্দ্রনাথেরই দেশে বসে কাউকে কেন শাস্তি পেতে হবে? এটা তো কাম্য নয়। অনৈতিক। যদি সেটা বিকৃত না করে, গানটির অমর্যাদা না করে গাওয়া হয় তাহলে এরকম কেন হবে?’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে,  উত্তর-পূর্ব ভারতের সংবেদনশীল রাজনীতিতে মুহূর্তের মধ্যেই এই ঘটনা অনেকটা বড়ো ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রবীন্দ্রনাথের গানে  রাজনীতির হাত পড়লে তা  আমাদের সাংস্কৃতিক বিপন্নতার দিকে ঠেলে দেবে।


Scroll to Top