তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
শান্তি আলোচনা : উত্তেজনার পারদ চড়াচ্ছেন ট্রাম্প


রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ফের মন্তব্য করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তাঁর মতে, রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনা করা ইউক্রেনের তুলনায় অনেক সহজ। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপর তাঁর আস্থা আছে। পাশাপাশি তিনি মনে করেন, পুতিনও এই যুদ্ধ শেষ করতে চান। হোয়াইট হাউসের এক প্রেস কনফারেন্সে ট্রাম্প বলেন, তিনি পুতিনের ওপর বিশ্বাস রাখছেন। কারণ, তাঁর মতে, যেহেতু তাদের সামনে বিশেষ কিছু অপশন নেই, ফলে ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা করা কঠিন হয়ে উঠছে। বরং তাঁর কথা হল, রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করা অনেক সহজ। যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে ইউক্রেনের ওপর তাঁরা আরও চাপ সৃষ্টি করছেন বলেই তিনি জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, তিন বছর ধরে ইউক্রেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। সামরিক ও আর্থিক সহায়তার জন্য তারা আমেরিকার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন সাময়িকভাবে ইউক্রেনকে সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়া বন্ধ রেখেছে বলেই খবর। এর মাধ্যমে ইউক্রেনের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে যাতে তারা আলোচনায় রাজি হয়। ট্রাম্প জানান, পুতিনের সঙ্গে তাঁর সরকারের সব সময় ভালো সম্পর্ক ছিল। তিনি বুঝতে পারছেন যে, কেন পুতিনের বাহিনী ইউক্রেনের ওপর রাতারাতি বড় আক্রমণ চালিয়েছে। ট্রাম্পের কথা হল, পুতিন যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা যে কেউ তাঁর জায়গায় থাকলে নিত। ট্রাম্প বলেন যে, তিনি বিশ্বাস করেন যে, পুতিন নিজেও যুদ্ধ শেষ করতে চান। ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, তিনি মনে করেন পুতিন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি উদার হবেন। এটা খুব ভালো বিষয়। এই অবস্থায় স্বভাবতই অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটতে পারে। পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, পশ্চিমের দেশগুলোর কাছে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার দাবি নিয়ে অনড় থাকলে আমেরিকা তাদের সহায়তা বন্ধ করে দিতে পারে।

সম্প্রতি ট্রাম্প এবং জেলেনস্কির মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছিল। খোদ ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সামনে সেই বিতর্ক এতটাই তীব্র আকার নেয় যে কোনো চুক্তি না করেই জেলেনস্কি ইউক্রেনে ফিরে যান। আলোচনার সময় ট্রাম্প কড়া ভাষায় জেলেনস্কিকে বলেছেন যে, ইউক্রেন লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে। নিজের দেশ যে সংকটে রয়েছে সেটা বুঝেও জেলেনস্কি সেটা বুঝতে পারছেন বলেই তিনি অভিযোগ করেন। বোঝাই যাচ্ছে যে, যুদ্ধ শেষ করতে হলে ইউক্রেনকে অবশেষে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতায় আসতেই হবে।

স্বভাবতই এরকম পরিস্থিতিতে সারা পৃথিবী এই মুহূর্তে আমেরিকা এবং জেলেনস্কির পারস্পরিক উত্তাপ বিনিময়ের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে আছে বলেই কূটনৈতিক সূত্রের খবর। এমনিতেই ভারত-মারকিন সম্পর্ক এই মুহূর্তে কিছু চিন্তার। স্বীকৃত নন এমন অভিবাসীদের বিতাড়ন, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা, জলবায়ু বিধি কমানো, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান, ক্যাপিটল বিল্ডিং দাঙ্গাকারীদের ক্ষমা ও স্পেশাল কাউন্সেল জ্যাক স্মিথকে অপসারণ - মূলত এই সাতটিই ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। শেষ দুটো বাদ দিলে, অন্যগুলো দীর্ঘমেয়াদি, বিতর্কিত, ব্যয়বহুলও বটে, তবু ট্রাম্প নাছোড়বান্দা। কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করাই ট্রাম্পের চিরাচরিত ধর্ম। শপথ নিয়ে আর তিনি বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেননি প্রথম লক্ষ্যে ঘা মারতে। অভিবাসীদের বিতাড়ন ট্রাম্পের কাছে এতটা গুরুত্বপূর্ণ যে, ওয়াশিংটন ডিসিতে দায়িত্বগ্রহণের প্রথম দিনেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রমনিয়ম জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করার নির্দেশ দেন। উঠে আসে আঠারো হাজার ভারতীয় অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর মার্কিন সিদ্ধান্ত, নিরুপায় ভারত রাজিও হয় ।


Scroll to Top