
ডা. বিধান চন্দ্র রায়ের জন্ম ১৮৮২ সালে ১ জুলাই। প্রয়াত হন ১৯৬২ সালের ১ জুলাই। তাঁর সম্মানার্থে তাঁর জন্ম এবং মৃত্যুদিনটিকে আমরা, তাঁর উত্তরসূরীরা, ডক্টরস ডে বা চিকিৎসক দিবস হিসেবে পালন করে থাকি। সারা জীবন তিনি উৎসর্গ করেছিলেন মানুষের সুস্থ জীবন যাপনের স্বার্থে। তিনি কেবল চিকিৎসক হিসেবেই রাজ্যের তথা দেশের মানুষের সেবা করেননি, তিনি ছিলেন স্বাধীনতার পর নবগঠিত পশ্চিমবঙ্গের রূপকার। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি রাজ্যকে সুস্থ জীবনের দিশা দেখাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। যার জন্য এই রাজ্যের বাসিন্দা হিসেবে আমরা, তাঁর উত্তরসূরীরা, তাঁর জীবনব্যাপী কর্মকাণ্ডের ব্যাপ্ত সুফলের উত্তরাধিকারী হিসেবে গর্ব অনুভব করি। তিনি তাঁর অবদানের জন্য ভারতরত্ন উপাধি পেয়েছিলেন। বাংলায় যখন যে মুহূর্তে যে সংকট এসেছে, যেমন খাদ্য সংকট, কর্ম সংস্থানের সংকট, তাঁর সমাধান করা, শিক্ষার বন্দোবস্ত করা, বাসস্থানের ব্যবস্থা করা - সব ক্ষেত্রেই নবগঠিত এই রাজ্যকে তিনি সঠিক সময়ে সঠিক পথ দেখিয়েছেন। বাংলার রূপকার তাঁকে আমরা এই কারণেই বলি। তাঁর দেখানো পথেই কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে, তৈরি হয়েছে খড়্গপুর আই আই টি, এই শহরে যেখানে বসে এই লেখা আজ লিখছি তার উপকন্ঠে লবণ হ্রদ নামে বিশাল কর্মকাণ্ডের সূচনাও হয়েছিল তাঁরই দেখানো পথে। বাংলার মানুষ স্বাধীনতার আগে দুর্ভিক্ষ দেখেছে, স্বাধীনতার পরেও খাদ্য আন্দোলন দেখেছে। এরকম দুঃসময়ে রাজ্যের মানুষকে খাদ্যের নিশ্চয়তা দিতেই কল্যাণী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। খাদ্যের সুষম বন্টনের কথাও ভেবেছেন তিনি। কেবল ভাবেনইনি, তার সম্ভাব্য উপায় সন্ধানও করেছেন সুচিন্তিত ভাবে। চিকিৎসক দিবসে এই মহান পুরুষের কর্মকাণ্ডের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে উত্তরসূরী চিকিৎসক হিসেবে আমাদের মনে রাখতে হবে তাঁর আদর্শকে। প্রশ্ন হল, আমরা যারা আজ চিকিৎসা ক্ষেত্রে আছি, আমরা কি এখনো তাঁর আদর্শকে সামনে রেখে যথার্থ ভাবে পথ চলতে পারছি? আমাদের কি আরো যথার্থ ভাবে তাঁর আদর্শকে অনুসরণ করা উচিত নয়? এই অনুসরণের কাজ যদি আমরা সত্যিই যথাযথভাবে করতে পারি তাহলেই তো আমরা বলতে পারব আমরা তাঁকে মনে রেখেছি। তাঁর প্রতিষ্ঠিত কার্ডিওলজিক্যাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি মনে করি, আমরা তখনই কেবল তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করতে পারব যখন প্রতিনিয়ত তাঁর দেখিয়ে যাওয়া মানুষকে ভালোবাসার পথই হয়ে উঠবে আমাদের পথ। এই দিনে এটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া দরকার।
লেখক প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং কার্ডিওলজিক্যাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট