তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
কঠিন, কিন্তু করতেই হবে

এটা খোলাখুলি বলাই ভালো যে, দূষণ ব্যাপারটা কোনো একটা বিশেষ দিন বা সময়ের মতো পালন করে ঠেকানোর ব্যাপার নয়। এটা একান্তভাবেই পরিবেশ অথবা যে বিশেষ পরিস্থিতি থেকে এটা তৈরি হচ্ছে তা নির্মূল বা রোধ করার দিকে একটা বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপ। আবার তা যে একটা পদক্ষেপে শেষ হয়ে যাবে এমনটাও নয়। কারণ, এটা আসলে যে পরিবেশ বা পরিস্থিতি থেকে তৈরি হচ্ছে তার উৎসে পৌঁছনোর একটা সচেতন প্রয়াস। মোদ্দা কথা হল, দূষণের উৎসে পৌঁছেই তা নির্মূল করতে হবে। আমাদের আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ দূষণমুক্ত করতে হলে এছাড়া আর কোনো সহজ বিকল্প নেই। নাহলে পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যাবে। আমাদের মনে রাখতে হবে দূষণ একটা লাগাতার ব্যাপার, একমাত্র লাগাতার চেষ্টাতেই তা রোখা যায়।

একাজ আপনার আমার, আমাদের হয়ে তা আর কেউ করে দেবে না। মানুষের নিজেদের সচেতনতা এবং অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো মাননীয় মন্ত্রী, সান্ত্রী, নেতা-নেত্রীদের আমাদের হয়ে একাজ করে দেওয়ার দায় নেই। নিজেদের ভুল অভ্যাস পাল্টে এবং সতর্কতা, সচেতনতা বাড়িয়েই এটা করা সম্ভব। পাড়ার জলাজমি বুজিয়ে ফেলা বা নির্বিচারে গাছ কাটার মতো অপকর্ম দূরে দাঁড়িয়ে না দেখে দলবদ্ধভাবে আমাদেরই রুখতে হবে। কেউ বলতে পারেন, কেন, আইনরক্ষকরা তো আছেন ! তা আছেন, কিন্তু তাঁদের ঘাড়ে সব দায়িত্ব চাপিয়ে ঘরে বসে থাকা কোনো কাজের কথা নয়! এতে কাজও হবে না। এই কাজ করতে হবে যৌথভাবে, প্রচেষ্টাটি হবে আক্ষরিক অর্থেই লাগাতার, নাহলে আরও খারাপ অবস্থায় ফিরে যাবো আমরা।

জাতীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ দিবস একথা মনে করিয়ে দেওয়ার দিন। ১৯৮৪ সালের ২ ডিসেম্বর ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এই দিনটি পালন করা হয়।   

   পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়ানো, দূষণের পরিণতি ও ভয়াবহতা সম্পর্কে দেশের নাগরিকদের ওয়াকিবহাল করে তোলার পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্য, বাস্তুতন্ত্র এবং সামগ্রিক সুস্থতার ওপর দূষণের ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই এর উদ্দেশ্য। প্রশ্ন আসবে, আমরা কি সত্যিই সচেতন হচ্ছি ? প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে বনবিনাশ, জলদূষণ থেকে বায়ুদূষণ সবই তো বাড়ছে ! ঠিক কথা, তবুও হাল ছাড়লে চলবে না।

  মানুষের অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়েই দূষণের বিরুদ্ধে উদ্ভাবনী প্রক্রিয়ায় লড়াই চালানোর কথা বলছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। বাতাসে কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধি যেকোনো মুল্যে আটকাতেই হবে। সুস্থায়ী এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন এই রাস্তায় হাঁটার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়। কড়া শিল্প নিরাপত্তা আইন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির প্রসার একাজে সাফল্যের দুটি প্রধান শর্ত। এর পাশাপাশি আরেকটি বড়ো শর্ত হল পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো।

জনসাধারণের অংশগ্রহণ এবং পরিবেশবান্ধব মনোভাব ছাড়া শুধু সরকারি প্রচেষ্টাতেই একাজে সফল হওয়া যাবে না। আরেকটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে যে,পরিবেশ দূষণ ঠেকানো কোনো বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা নয়। এটা শেষ অবধি একটা আন্তর্জাতিক ব্যাপার, যাকে বলে গ্লোবাল ইস্যু। জ্ঞান, শিক্ষা, প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক বিনিময় ছাড়া এতে সম্পূর্ণ সাফল্য সম্ভব নয়। উন্নয়ন এবং বিকাশকে নিরাপদ করে তুলতেই হবে।

 স্কুল, কলেজ এবং মানুষের মেলামেশার সাধারণ মঞ্চ থেকে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের মন্ত্রকে ছড়িয়ে না দিলে এই ধরণের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যাবে। মনে রাখতে হবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটা পরিবেশবান্ধব বিশ্ব রেখে যেতে হলে, তাদের স্বাস্থ্যসম্মত বিকাশ নিশ্চিত করতে হলে জাতীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ দিবসের শিক্ষাগুলিকে নিয়ে আসতে হবে আমাদের জীবনে।  বিপুল জনসংখ্যা এবং দ্রুত শিল্পায়ন নিয়ে দেশ এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। দেশকে আরও সবুজ, স্বচ্ছ এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে গড়ে তুলতে হলে পরিবেশের এই সংকট মোকাবিলার কথা ভাবতেই হবে আমাদের। পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি , সুস্থায়ী কৃষিকাজ, বৈদ্যুতিক যানবাহন এই লক্ষ্য অর্জনের প্রধান শর্ত। এগুলিকে আরও বেশি মানুষের নাগালে পৌঁছে না দিলে দূষণমুক্ত দেশ গড়ে তুলতে পারব না আমরা।


Scroll to Top