তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
পাকিস্তানের উপর নজর রেখে সতর্ক রয়েছে ভারতীয় বাহিনী

                       

 ভারত ও পাকিস্তান আপাতত সংঘর্ষ বিরতির পথ বেছে নিয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে, চরম ভয় পেয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, সেটা সাময়িক হতে পারে। ওদের আঘাত হানার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আশার কথা, ভারতীয় বাহিনী সেই আঘাত রোখার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। এই মুহূর্তে তিনটি বিষয় নিয়ে ভাবনাচিন্তা দরকার।

এক, পহলগামে হামলা চালাল যে জঙ্গিরা, তারা কোথায়?

দুই, পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার বাঙ্কারগুলো কী অবস্থায় রয়েছে?

তিন, ভারতের বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাফল্যের পরও প্রশ্ন উঠতেই পারে, এর আপগ্রেডেশন  প্রয়োজন কিনা।

যুদ্ধের পদ্ধতি একেবারে বদলে গেছে। আমি প্রায় কুড়ি বছর আগে অবসর নিয়েছি। আমাদের আমলের ফিজিক্যাল ওয়ারের দিন আর নেই। ’৬২, ’৬৫, ’৭১-এর যুদ্ধ তো বটেই, এমনকী কার্গিলের সময় থেকেও আমূল বদলে গেছে ছবিটা। পদাতিক সেনা, ট্যাঙ্ক, মাইন ফিল্ডের বদলে ড্রোন, এস-৪০০-র মতো বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার হচ্ছে। ফলে প্রাণহানি অনেকটাই কমানো গেছে। এই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রণকৌশলে সমৃদ্ধ ভারতীয় বাহিনী এমুহূর্তে বিশ্বে অন্যতম সেরা, সন্দেহ নেই। এর সঙ্গে পাকিস্তানের এঁটে ওঠা মুশকিল। তবে একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে - পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম একেবারেই কম বলে সামাজিক মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকদের কেউ কেউ যেমনটা লিখছেন, তা সম্ভবত ঠিক নয়। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও তা বিশ্বাস করে না। পাকিস্তানের পিছনে অন্য কোন কোন শক্তির মদত আছে, তা ক্রমশ প্রকাশ্য। কিন্তু এটুকু বলা যায়, ২২  এপ্রিল পহেলগামে পর্যটকদের উপর জঙ্গি হামলার প্রত্যাঘাত যেভাবে করেছে ভারত, তাতে স্পষ্ট, দুর্ধর্ষ হোমওয়ার্ক আর ব্যাপক প্রস্তুতি ছাড়া এমন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদ সম্ভব নয়। পাকিস্তানের সাধারণ মানুষকে স্পর্শ না করে শুধুমাত্র জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া তার বড়ো প্রমাণ।

                ৭  মে'র অপারেশন সিঁদুর দেখে  বুঝেছি, কী অসামান্য দক্ষতা অর্জন করেছে ভারতের তিন বাহিনী। কোথাও কোনো সংশয়, দ্বিধাদ্বন্দ্ব, সমন্বয়ের অভাব নেই। এতটাই আত্মবিশ্বাসী আমরা এই সঙ্কটকালে যে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং করেছেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। সঙ্গে দুই দক্ষ সেনা অফিসার উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং ও কর্নেল সোফিয়া কুরেশি। প্রধানমন্ত্রী যে প্রত্যয়ের সঙ্গে দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দিলেন, তা এক কথায় অতুলনীয়।

             এই প্রসঙ্গে বলতে চাই, পাকিস্তান উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যেসব ভুয়ো তথ্য প্রচার করছে, সেগুলো যেন বিশ্বাস না করেন সাধারণ মানুষ। প্রতিবেশী দেশটির বোঝা উচিত, বিশ্বের সব দেশ জানে অর্থনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে কী দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে ভারত। ভবিষ্যতের কথা ভেবে ভারতের পাশেই থাকতে চাইবে সবাই। আর সবচেয়ে বড়ো কথা, জঙ্গীদের মদত দিয়ে যে আঘাত হেনেছে পাকিস্তান, ভারত তার জবাব দিয়েছে মাত্র। এবার পাকিস্তানের দায়িত্ব নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে এই উপমহাদেশে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ফেরানো।


Scroll to Top