
নাটকীয়ভাবে নিউজিল্যান্ড বধের মধ্যে দিয়েই ৪ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নিল ভারত। ৪ উইকেটে জয়ই কেবল নয়, জয় এক ওভার বাকি থাকতেই। আর এইভাবেই এক যুগ বাদে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ছিনিয়ে আনল ভারত। বিশেষজ্ঞদের সরাসরি বক্তব্য : সৌজন্যে টিম গেমস। বলা বাহুল্য যে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর অপরাজিত থেকে এদিনের সাফল্য, এতে নেতা রোহিত শর্মার কেরিয়ার আরো ঝলমলে হল।
স্নায়ুর লড়াই ছিল শুরু থেকেই। ৭ উইকেট হারিয়ে কিউইদের সংগ্রহ ছিল ২৫১ রান। জয়ের জন্য ভারতের দরকার ছিল ২৫২। শুরুতেই শক্ত হাতে হাল ধরেন রোহিত শর্মা এবং শুভমান গিল। ১০৫ রানের পোক্ত পার্টনারশিপই ভারতকে ম্যাচে অনেকটা এগিয়ে দেয়। রোহিতের ৮৩ বলে ৭৬ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংস ক্রিকেটপ্রেমীদের মন জিতে নেয়। তারপর পরপর ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় ভারত। তবে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন শ্রেয়স আইয়ার, অক্ষর পটেল, কে এল রাহুল, হার্দিক পাণ্ড্যরা। ৬ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত।
২০০০ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে নিউজিল্যান্ড ভারতকে হারিয়ে খেতাব জিতেছিল। ২৫ বছর পর ২০২৫ সালে ভারত সেই ফাইনাল জিতে প্রতিশোধ নিল। ২০০০ সালে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ১১৭ রানের ইনিংস সত্ত্বেও ভারতকে পরাজয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। কিন্তু এবার ঘটল সেই শাপমুক্তি। নিউজিল্যান্ডকে ৪৯ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নিল টিম ইন্ডিয়া। আনন্দে ভাসল আসমুদ্র হিমাচল। টানটান লড়াই শেষে তেরঙ্গার জয়। বলা বাহুল্য এ জয়ের প্রেক্ষিতে উড়ে গেল রোহিতের বিদায়ের ভাবনাও। ম্যাচের সেরা এদিন রোহিত শর্মা কেবল নয়, টুর্নামেন্টের সেরার খেতাব ছিনিয়ে নিয়েছেন রাচিন রবীন্দ্র। তাঁর রানের অঙ্ক এখন সর্বাধিক : ২১৩।
তবে রোহিতের পাশাপাশি উল্লেখ করতেই হবে শ্রেয়স আয়ারের নামও। তাঁর কাছেও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ছিল প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ। সেই সঙ্গে রয়ে গেল আরেক অনন্য কীর্তি --- বিশ্বে আর কোন অধিনায়ক আই সি সি রমোট চারটি ইভেন্টের ফাইন্যালে খেলেননি এটাও কিন্তু ঘটনা।