তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
‘স্বপ্ন দেখতে পারলে সব হয়’

 

আগামী ১০ নভেম্বর তিরিশ বছরে পা রাখতে চলেছে রাজা সেন পরিচালিত , জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত ছবি ‘দামু’। এই উপলক্ষ্যে দর্শক মহলে সাড়া পড়েছে। উত্তম মঞ্চে ওই দিন আয়োজিত হতে চলেছে একটি মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানও। বাংলাস্ট্রিট অনলাইনের তরফে পার্থ মুখোপাধ্যায়ের মুখোমুখি হলেন  এ ছবির পরিচালক রাজা সেন 

রিলিজ হয়েছিল ১৯৯৬-তে। রাজা সেন পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি ‘দামু’-র। পরিচালকের সেই প্রথম শিশু কাহিনিচিত্র। সেই থেকে দেখতে দেখতে ২০২৫। কেটে গেছে তিন-তিনটে দশক।  তিনি এর  পর ১১টি কাহিনি চিত্র পরিচালনা করেছেন। তৈরি করেছেন একাধিক ডকুমেন্টারি। টেলি সিরিয়াল বানিয়ে তোলপাড় ফেলেছেন , সেও একাধিক। জাতীয় পুরস্কারের মতো স্বীকৃতি, সেও ‘দামু’ সহ   আরো দুটি কাজ মিলিয়ে মোট তিনটি ছবির জন্য। এ ছাড়াও আছে অন্যান্য অজস্র স্বীকৃতি। কিন্তু প্রথম ছবি, বিশেষ করে সে ছবি যদি হয় আবার ‘দামু’-র মতো, যা মুক্তি পেয়েই অর্জন করে নেয় জাতীয় পুরস্কার, তাহলে সেই ছবিটা দাঁড়ায় একটু নয়, অনেকটাই অন্যরকম।  আগামী ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় সেই ছবির ৩০ বর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে উত্তম মঞ্চে  বসছে উদযাপনের আসরও। কী ভাবছেন পরিচালক সেদিন থেকে তিন–তিনটে দশক পেরিয়ে এসে, সেদিনের সেই ছবি নিয়ে ! কোন বার্তা দিতে চেয়েছিলেন তিনি, সে ছবির মধ্যে দিয়ে ! প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবিতেই জাতীয় পুরস্কারের মতো সাফল্যের প্রেক্ষিতে কী মনে হয়েছিল তাঁর --- এইসব নানা প্রশ্ন নিয়ে শ্রীসেনের মুখোমুখি হয়েছিলাম আমরা, বাংলা স্ট্রিট অনলাইনের তরফে।

 আদ্যন্ত কাজের মধ্যে ডুবে থাকা মানুষটি সময় দিয়েছিলেন সকালে। প্রশ্নের জবাবে জানালেন, ‘আলাদা করে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাহিনি ‘পঞ্চাননের হাতি’-র কাহিনি নয়, আসলে সিনেমা করতে চাওয়াটাই কারণ ছিল। সিরিয়াল করতে শুরু করেছিলাম। সিনেমার ছাত্রও ছিলাম। মৃণাল সেন, বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের সঙ্গে কাজ করা লোক। সিনেমা করার স্বপ্নে বিভোর থাকতাম তখন। এখনও থাকি। আসলে কাজটাই তো টানে। তবে তার জন্যেও একটা অবলম্বন লাগে। সেখান থেকেই ‘দামু’। গল্পটা পেয়েছিলাম। কাহিনির সিচুয়েশনটাও খুব ইউনিক লেগেছিল। পছন্দ হয়েছিল। মোহিত চট্টোপাধ্যায় চিত্রনাট্য করলেন। আসলে গল্পের সাহায্য না পেলে তো কাজই হয় না। সে তো ছিলই। কিন্তু আসল ছিল সিনেমা করার ইচ্ছে। তাগিদ। এই ছবির পেছনে যেমন আমার চেষ্টা, স্বপ্ন , আবার প্রচেষ্টা, একাগ্রতা এইসব … এই ছবিতে দামুরও দেখবেন সেরকম একটা স্বপ্ন ছিল, স্বপ্ন সফল করার জন্যে  একটা একাগ্রতা ছিল, ছিল। সে সেটাকেই বাস্তবায়িত করতে চেয়েছিল। এবং করেছে। একটা গানের লাইন আছে লক্ষ্য করবেন ওখানে,  আকাশের চাঁদকেও নিয়ে আসার একটা ব্যাপার… অনেকটা তো তাই! আমার যেমন স্বপ্ন ছবি করার তেমনই দামুরও স্বপ্ন ছিল বাচ্চাটাকে হাতি এনে দেওয়া। এই স্বপ্নটাই সফল হয়েছিল। ও হাতি আনতে পেরেছিল। আসল হল একাগ্রতা , সততা, সরলতা । মানুষের যদি সরলতা, সততা থাকে, একাগ্রভাবে চাওয়া থাকে তাহলে তার সাফল্য আসতে বাধ্য।’

 ‘ ‘দামু’-র সিনেমাটোগ্রাফিতে একটা বড়ো অংশে ন্যাচারাল লাইট ব্যবহার করা হয়েছিল। এটা একটা দারুণ ব্যাপার ছিল…অন্যরকম একটা এফেক্ট এসেছিল…’

‘ম্যাক্সিমাম আউটডোর ছিল তো। তাছাড়া খুব কম পয়সায় ছবিটা করা। তাই … আসলে লক্ষ্য ছিল ভালো একটা ছবি করা। এবং ভালো ছবি করতে গেলে , আমার মনে হয়েছে, পয়সা বড়ো কথা নয়। আসল কথা ইচ্ছে। তাছাড়া তখন তো আজকের মতো টেকনিক্যাল সুযোগ-সুবিধে এত ছিল না। এইসব এআইয়ের সুবিধে-টুবিধে এসব ছিল না, প্লাস পয়সাও নেই, ফলে কম খরচে কীভাবে কী করা যায়, একটা ভালো কাজ করতে হবে, এটাই ছিল লক্ষ্য, ফলে …’

‘ এ ছবিতে রঘুবীর যাদব, সব্যসাচী চক্রবর্তী, মনোজ মিত্র, জ্ঞানেশ মুখার্জি, তরুণকুমার, সত্য ব্যানার্জিদের মতো অভিনেতাদের কাজ…’

‘ যাঁদের নাম করলেন এঁদের সবরকম সাহায্য না পেলে তো ছবিটাই হত না। করতেই পারতাম না। একদিকে ছবির স্টোরিলাইন, অন্যদিকে এরকম সমস্ত আর্টিস্ট – এতেই তো আমার অনেকটা কাজ হয়ে গিয়েছিল। ওঁদের সাহায্য , সহযোগিতা এসব তো … ‘

‘আপনার ছবিতে তো পরে জয়া বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, অঞ্জন শ্রীবাস্তব, রবিনা ট্যান্ডন এঁরাও কাজ করেছেন…’

‘ তা করেছেন। ওঁরা করেছেন, এই ছবিতে রঘুবীর যাদবকে পেয়েছিলাম, উনি করেছেন… আর করেছেন তো সেই সঙ্গে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, উৎপল দত্তদের মতো বাংলার দিকপাল অভিনেতারাও… আমার ক্রু মেম্বাররা করেছেন, সহকর্মীরা করেছেন… প্রত্যেকে যে যার জায়গা থেকে নিজের নিজের মতো করে করেছেন। ওই যে বললাম, আমার ইচ্ছেটা ছিল, চেষ্টা ছিল, হয়েও গিয়েছিল । আসল কথা আবারও ওই  লড়াইটা। ইচ্ছের লড়াই। এইটা প্রধান…’

‘এই ছবিতে যেমন দামুর ব্যক্তিগত লড়াই …’

‘ একদম। লড়াইটাই আসল…’

‘ছবিটা রিলিজ করার পরেই প্রায় পুরস্কার পেয়েছিল। জনপ্রিয়তা …’

‘হ্যাঁ ‘দামু’ জনপ্রিয় হয়েছিল। যেরকম সাড়া পরে পেয়েছি সেটা তো প্রথমে আসেনি। টিভিতে দেখানো হয়েছে। লোকে দেখেছেন। আস্তে আস্তে মানুষের ভালো লেগেছে। মনে ধরেছে। এরকমই হয়, যেমন আমার খুব প্রিয় ছবি ‘মায়ামৃদঙ্গ’ তো সেভাবে লোকে নিলই না। তবে ‘দামু’ লোকে নিয়েছেন। সেই জন্যেই তিরিশ বছর বাদে এসেও ছবিটা নিয়ে লোকে কথা বলছেন। ওই যে স্বপ্ন, ওই স্বপ্নটা ছিল বলেই হয়ত ছবিটার অ্যাক্সেপ্ট্যান্স… হতেই পারে… দামুর যেমন চেষ্টা ছিল, একাগ্রতা ছিল তাই ভাগ্য তাকে সাহায্য করেছে, সে বাচ্চাটাকে হাতি এনে দিতে পে্রেছে… এটাই আসল কথা। সফল হতে গেলে এগুলো থাকতেই হবে…’

‘কিন্তু রাজাদা, আপনার কাজ থেকে তো মনে হয় না আপনি ভাগ্যে বিশ্বাস করেন …’

‘আমি ‘ভাগ্যকে বিশ্বাসও করি না, অবিশ্বাসও করি না। আমার কথা হল, স্বপ্ন দেখতে পারলে, একাগ্রভাবে চাইলে সব হয়…’


Scroll to Top