তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
চলে গেলেন আগুন পাখি আজিজুল হক

                                 

চলে গেলেন তিনি। আজিজুল হক। ১৯৪২ থেকে ২০২৫ --- এই ৮৩ বছরে জীবনকে উলুবেড়িয়ার একটি গ্রামের বর্ধিষ্ণু পরিবারের ছেলে আজিজুল চিনেছিলেন হাতের তালুর চেয়েও ঘনিষ্ঠ ভাবে, জীবনের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়ে। খাদ্য আন্দোলনের দিনগুলি থেকে উত্তাল প্রাক-সত্তর, সত্তর দশক --- আজিজুলের হয়ে-ওঠার কালপর্ব । ছাত্রাবস্থাতেই যোগ দিয়েছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে। ছয়ের দশকের প্রথমার্ধ্বে পার্টি ভাগ হয়ে যাবার পর যোগ দেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি মার্ক্সবাদীতে। তারপর সাতের দশকে চারু মজুমদারের অনুগামী আজিজুল ছিলেন নকশাল আন্দোলনের অন্যতম মুখ। চারু মজুমদারের মৃত্যুর পর তিনি ছিলেন দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম প্রধান। বারংবার কারারুদ্ধ হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘকাল বিভিন্ন সংবাদপত্রে লেখালেখি করেছেন। লিখেছেন ‘কারাগারে ১৮ বছর’-এর মতো একদা তোলপাড় ফেলা বই। নকশাল আন্দোলন ও সাতের দশকের ঝোড়ো রাজনৈতিক কালপর্বের এই ইতিহাস সময়ের জীবন্ত দলিল বললেও কম বলা হয়। সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে এসেও আমৃত্যু বহন করেছেন আজীবন স্রোতের বিরুদ্ধে চলার রক্তিম অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার বহন করেই চলে গেলেন তিনি, রেখে গেলেন তাঁর একাধিক গ্রন্থ , যাদের প্রত্যেক পাতায় ধরা রইল লাল টুকটুকে দিনের সেই স্বপ্ন, যার কখনো মৃত্যু হয় না, হবার নয়।     ছবি : হিরণ মিত্র


Scroll to Top