
আশি বা নব্বই দশকের কথা। যখন বাংলা সিনেমা মানে সত্যজিৎ, মৃণাল কিংবা তপন সিংহেরা। সেই সময় ক্যামেরায় চোখ রাখলেন এক তরুণ তুর্কি। তাঁর লেন্সে বিম্বিত হল শিশুমনস্তত্ত্ব। হায় ! আমাদের পোড়া দেশ, যেখানে শিশুরা সবচেয়ে বেশি বোধহয় অবহেলিত। শিশুসাহিত্য কিংবা শিশু চলচ্চিত্র বড়োই অপ্রতুল। তরুণ এই পরিচালক লেন্সে ধরলেন রুঙ্কুদের আর ধরলেন সহজ সরল সপ্রতিভ হাবাগোবা দামু দাসেদের। নির্লোভ সহজ-সরল বাপ মা হারা এক যুবক।

তিনি তুলে ধরলেন শিশু মনস্তত্ত্বের পাশাপাশি Ethical fatherhood বা ethical motherhood-এর মতো গভীর বিষয়গুলো , পঞ্চাননবাবু কিংবা তার বোনের মাধ্যমে। সন্তানস্নেহে মানুষ করেছেন ওঁরা দামুকে। সময়টা অনেকখানি বদলে গেছে। মূল্যবোধের সংকটে ভুগতে থাকা সমাজের কাছে সিনেমাটি যেন আজও আরো বেশি বেশি প্রাসঙ্গিক।

সেদিনের সেই তরুণ তুর্কি আজ সত্তরের যুবক। গতকাল, ১০ নভেম্বর ছিল তাঁর জন্মদিন। অনুকৃতির ব্যবস্থাপনায় উত্তম মঞ্চে এক ঝাঁক কচিকাঁচারা সেই ১৯৯৬-এর স্বর্ণকমল বিজয়ী জাতীয় সিনেমা 'দামু' প্রাণভরে দেখল। এতক্ষণে নিশ্চয়ই পাঠক বুঝে গেছেন সেই সত্তরের যুবক আর কেউ নন আমাদের রাজা সেন--- যাদবপুর নবকৃষ্ণ পাল আদর্শ শিক্ষায়তনের গর্বিত প্রাক্তনী, যিনি আমাদের সবার রাজাদা। এক ঝাঁক কচিকাঁচাদের সঙ্গে রাজা সেন তথা অনুকৃতির প্রসেনজিৎবাবুর আহবানে আদর্শ শিক্ষায়তনের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক হিসেবে এই উৎসবে শামিল হতে পেরে আমি গর্বিত। কখন যে তিন ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি। শো শেষে কচিকাঁচাদের আকুল জিজ্ঞাসা--আবার কবে এমন ছবি দেখব স্যার। সেটাই বোধহয় রাজাদার সবচেয়ে বড়ো পাওনা। ভালো থাকেবেন রাজাদা। অনেক অনেক শুভকামনা।