
বিশেষ প্রতিবেদন
মুম্বইতে ডিসেম্বরের প্রথম দুদিন অনুষ্ঠিত হল বিগ পিকচার সামিট দ্বাদশ এডিশন। এবারের থিম ছিল ' দ্য এ আই এরা: ফ্রিজিং ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড কমার্স'। কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই) প্রতি বছরই আয়োজন করে মিডিয়া ও বিনোদন জগতের প্রতিনিধিদের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন। উঠে এল ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজিস প্রসঙ্গও। আইআইটি ও আইআইএমএস- এর ধাঁচে তৈরি এই সংস্থার স্থায়ী ক্যাম্পাস হওয়ার কথা গোরেগাঁওয়ের ফিল্ম সিটিতে। অ্যানিমেশন, ভিএফএক্স, গেমিং, কমিকস, এ আই নিয়ে অত্যাধুনিক শিক্ষার ব্যবস্থা থাকছে সেখানে। সৃজনশীল ও বাণিজ্যিক দুনিয়ার মুখোমুখি বসার সুযোগ এই প্ল্যাটফর্ম, যা বিনোদন শিল্পের ভবিষ্যৎ অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন। মঞ্চ ও তার বাইরে নক্ষত্র সমাবেশে খুলে গেল অনেক নতুন দিগন্ত। বাংলার প্রসেনজিৎ থেকে ভারতীয় ক্রিকেট তারকা দীপ্তি শর্মা, ওটিটির পর্দা কাঁপানো মনোজ বাজপেয়ী থেকে টিভি টাইকুন একতা কাপুর, শেখর গুপ্তা, রাজকুমার রাও, শাশ্বত গোয়েঙ্কা, কে না হাজির। উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রকের সচিব সঞ্জয় জাজু। উপস্থিত ছিলেন মিডিয়া শিল্পের হুজ হুরা। সোনি পিকচার্স-এর প্রধান গৌরব ব্যানার্জি, জেট সিন্থেসিস-এর রঞ্জন নাভানি, ইউ টিউব ইন্ডিয়ার গুঞ্জন সোনি প্রমুখ।

একদিকে যেমন ছিল সেলিব্রিটি টক, অন্যদিকে তেমন বিনিয়োগকারীদের বৈঠক, বি টু বি মিটিং, প্রদর্শনী, হরেক আয়োজন। বিশ্বের কাছে তুলে ধরা হয়েছে ভারতকে, বিনিয়োগের আদর্শ স্থান হিসেবে। বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বিনোদন জগতের সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে। একদিকে যেমন বক্তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এদেশে ভিএফএক্স-এর জগতে প্রযুক্তিগত বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে, অন্যদিকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে সিঙ্গল স্ক্রিন ক্রমশ বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে। সবচেয়ে বড় কথা, এই সম্মেলন বিনোদন শিল্পের সঙ্গে সরকারের সংযোগের পথ খুলে দেয়। কলকাতার লুক ইস্ট মিডিয়ার কর্ণধার আশিস পন্ডিত আমন্ত্রিত প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন সামিটে। তাঁর প্রতিক্রিয়া, 'এই ধরনের সম্মেলন শুধু ভারতের নয়, গোটা বিশ্বের বিনোদন সম্পর্কে চোখ খুলে দেয়। বিশেষ করে আজকের এ আই জমানায় যখন চালকের আসনে প্রযুক্তি, তখন কীভাবে সৃজনশীলতাকে তার সঙ্গে মেলাতে হবে, সেবিষয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তার সময় এসেছে।'