বিক্রি হয় না, বিকৃত করে না
বিক্রি হয় না, বিকৃত করে না
কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বিপন্ন নিকোবরের পরিবেশ, অবলুপ্ত হতে পারে বিরলতম কচ্ছপ
কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বিপন্ন নিকোবরের পরিবেশ, অবলুপ্ত হতে পারে বিরলতম কচ্ছপ

ডাইনোসরের আমলের জীব এখনো রয়ে গেছে এই পৃথিবীতে। লেদারব্যাক সি টার্টল। বিরলতম প্রজাতির এই কচ্ছপ দেখা যায় নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের গেলাথিয়া বে'তে। প্রায় ৬৬ মিলিয়ন বছর আগে ছিল তারা, বিলুপ্ত হয়নি এই সুদীর্ঘ সময়ের ঘাত প্রতিঘাতে। অথচ সেই যুগের ৭৫% প্রাণীর অস্তিত্ব মুছে গেছে পৃথিবী থেকে। এই কচ্ছপের অভ্যাস হল, যে সৈকতে জন্ম, সেখানে তারা ফেরে ডিম পাড়ার জন্য। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার এমন একটি প্রকল্প আনছে যার ফলে ধ্বংস হয়ে যাবে এই অঞ্চলের পুরো ইকোসিস্টেম। বিপন্ন হবে বিরলতম প্রজাতির কচ্ছপ সহ বিরাট সংখ্যক পশু,পাখি, বিশাল অরণ্য। নষ্ট হয়ে যাবে কোরাল রিফ। বিপদে পড়বেন আদিবাসীরা।

ভারতের দক্ষিণতম প্রান্তের গ্রেট নিকোবর আইল্যান্ড প্রান্ত থেকে মালাক্কা প্রণালী মাত্র ২০০ কিলোমিটার। সেখানে দিয়ে বছরে লাখ খানেক জাহাজ চলাচল করে। তার মধ্যে প্রচুর চীনা জাহাজ রয়েছে। এই অঞ্চলে চীনের আধিপত্য খর্ব করার জন্যই নাকি মোদি এই বিশাল প্রকল্প আনার পরিকল্পনা করেছেন।

গেলাথিয়া বে'তে তৈরি হবে আন্তর্জাতিক কন্টেনার টার্মিনাল, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও টাউনশিপ। ৮১,০০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পকে ঘিরে ৪-৬ লক্ষ লোকের সমাগম ঘটবে এখানে। এজন্য ১৬৬ বর্গ কিলোমিটার অরণ্য ধ্বংস হবে, কাটা পড়বে অন্তত এক কোটি গাছ। বৃষ্টির অভাবে নষ্ট হয়ে যাবে বিস্তীর্ণ এলাকার পরিবেশ। জানা গেছে, এখানে আদিবাসীরা এমনিতেই বিলুপ্তির পথে, আছেন মাত্র ২২৯ জন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বাইরের লোকের সংস্পর্শে এলে তাঁরা এমন সব সংক্রমণের শিকার হতে পারেন যার মোকাবিলা করা যাবে না। পরিবেশপ্রেমীদের অভিযোগ, সরকার মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছে যে নিকোবরের পরিবেশ- ভারসাম্য যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য নানা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে কতটা কী হবে, তাই নিয়ে ঘোর সন্দেহ রয়েছে। যেমন, সরকার বলছে, প্রবাল প্রাচীর অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হবে। পরিবেশবিদরা জানিয়েছেন, সেটা কোনভাবেই সম্ভব নয়। অভিযোগ উঠেছে, কেন্দ্রীয় সরকার জাল ম্যাপ তৈরি করে কোরাল রিফের অবস্থান পর্যন্ত বদলে দিয়েছে। এই অঞ্চল ইউনেস্কোর স্বীকৃত বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ। সেখানকার পরিবেশের উপর এভাবে আঘাত হানা যায় না। পরিবেশবিদরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভারতের অরণ্য আইন অনুযায়ী জঙ্গল কাটতে গেলে আদিবাসীদের অনুমতি প্রয়োজন। তাঁরা জমি দিতে রাজি কিনা জানতে হবে। সেসব কিছুই হয়নি এখানে।

এ মুহূর্তে দেশ জুড়ে ক্ষোভ দানা বাঁধছে এই প্রকল্প ঘিরে। পরিবেশপ্রেমীরা একজোট হয়ে স্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন একে আটকানোর জন্য।



ফলো করুন ফেসবুকে | থাকুন আপডেটেড
Scroll to Top