
সেপ্টেম্বরে লন্ডনের আবহাওয়া চমৎকার। ঠান্ডার দাপট নেই, বেশির ভাগ দিন রোদ ঝলমলে, যদি বা দুপুরের পর আকাশের মুখ ভার হল, তাহলেও দু-চার পশলা বৃষ্টি হয়ে থেমে যাবে, এই আশা করাই যায়। টুপির ওপর জলের কণা বা জ্যাকেটের হাতায় হাল্কা জলের দাগ, লন্ডনে অন্তত এ'নিয়ে মাথা ঘামায় না কেউ। সঙ্গে ছাতা তো রোজকার অভ্যেস। এমনই একটা মন ভাল করা দিন দারুণ মেজাজে কাটালেন প্রবাসী ভারতীয়রা। শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর পূর্ব লন্ডনের রমফর্ডে মেফেয়ার ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হল বিয়ন্ড বর্ডারস বিজনেস অ্যান্ড কালচারাল কনক্লেভ ২০২৫। আয়োজনে লুক ইস্ট মিডিয়া। পথেঘাটে নাগরিক, রাজনৈতিক আন্দোলনের ঢেউ উপেক্ষা করে দুপুর থেকেই উৎসাহী দর্শকেরা ভিড় জমালেন হলে। ম্যাঞ্চেস্টার থেকে আসা প্রবাসী নৃত্য দলের গণেশ বন্দনা দিয়ে শুরু হল অনুষ্ঠান। পরিচালনায় সিসিলি দত্ত।

বিয়ন্ড বর্ডারস -এর মঞ্চে সংবর্ধিত হলেন পাঁচ কৃতী ভারতীয়। বিয়ন্ড বর্ডারস ইন্টারন্যাশনাল আইকন অ্যাওয়ার্ড -এ ভূষিত শিল্পোদ্যোগী শৈলেশ হীরানন্দানি ও এম জি শেখর, শিক্ষাবিদ নিশু মহেন্দ্র, নির্মাণ ব্যবসায়ী সঞ্জীব ভরদ্বাজ, সাহিত্যিক নবকুমার বসু। খুব সুন্দরভাবে এই অনুষ্ঠানের মূল কথাটি তুলে ধরলেন প্রথিতযশা চিকিৎসক তথা জনপ্রিয় সাহিত্যিক নবকুমার বসু। 'কত লোক হল সেটা বড় কথা নয়। আন্তরিকতা কতখানি সেটাই আসল।' লুক ইস্ট মিডিয়ার কর্ণধার আশিস পন্ডিত অল্প কথায় সবাইকে স্বাগত জানালেন। মঞ্চে গুণীজন সমাবেশে প্রকাশিত হল তাঁর সম্পাদিত 'বাংলা স্ট্রিট' পত্রিকার উৎসব সংখ্যা। সারা বছর এটি অনলাইনে হলেও শারদীয় সংখ্যা মুদ্রিত আকারে প্রকাশিত হয়, জানালেন কার্যনির্বাহী সম্পাদক তপশ্রী গুপ্ত।
রবীন্দ্রনাথের কবিতা অসাধারণ আবৃত্তি করল কলকাতার ছোট্ট মেয়ে মেধা চৌধুরী। আরও এক বাচিক শিল্পী ঈশিতা দাস অধিকারী ছন্দের

কবিতায় মুগ্ধ করেছেন শ্রোতাদের। লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশের শিল্পীরা সুরে সুরে মুছে দিলেন সীমানা। তমান্না, সাজেদা, জন্নত নানা ধরনের গানে বেঁধে দিলেন উৎসবের মেজাজ। বিশেষ করে বিউটি শীলের দরাজ গলায় লালনগীতি বহুদিন মনে থাকবে। আগাগোড়া উপস্থিত থেকে সবাইকে উৎসাহ দিয়েছেন বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব স্মৃতি আজাদ। কলকাতা থেকে উদ্যোক্তাদের তরফে উপস্থিত ছিলেন মিনু পন্ডিত, বিনীতা পন্ডিত, মনীশ চৌধুরী।
শেফিল্ড থেকে গান গাইতে এসেছিলেন বঙ্গতনয়া লোপা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নজরুলগীতি মন ভরিয়ে দেয়। কলকাতার তথাগত সেনগুপ্ত ইদানিংকালের খুবই জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী। তাঁর গান শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন শ্রোতারা। বাংলা, হিন্দি গানের সম্ভার উজাড় করে দেন তিনি। শেষ শিল্পী মুম্বইয়ের রত্নেন্দ্র ভাদুড়ি। তিনি ইতিমধ্যেই বলিউডে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। অনাবাসী ভারতীয়দের হতাশ করেননি তিনি।
সঞ্চালনা যে শুধু সূত্রধরের কাজ নয়, বরং স্বতন্ত্র শিল্প, প্রমাণ করেছেন এদিনের দুই সঞ্চালক - বাংলায় কিশোয়ার মুনিয়া আর ইংরেজিতে সিমরান আহুজা।

সবশেষে লুক ইস্ট মিডিয়ার তরফে সানন্দ ঘোষণা, আগামী বছর বিয়ন্ড বর্ডারস হবে বিশ্বের অন্য কোনও শহরে। আপাতত সেটা সারপ্রাইজ হিসেবেই থাকল।
শাড়ি, গয়নার পাশাপাশি বসেছিল হরেক রকম নোনতা-মিষ্টি খাবারের স্টল। সিলেটি শুঁটকি ভর্তার ঝাল টাকনা দিয়ে চিতোই পিঠে আর বড় সাইজের মালপোয়া সুপারহিট।
এই অন্যরকম কার্নিভাল নিবেদন করল লন্ডন প্রবাসী শিল্পোদ্যোগী শৈলেশ হীরানন্দানির স্র্যাম অ্যান্ড ম্র্যাম গ্রুপ। সহযোগিতায় লন্ডন ডি অ্যাকাডেমি, সিবিটস দুবাই, ভারতের ফাইভ স্টার গ্রুপ, সপ্তগিরি গ্রুপ, টেকাস এডুকেশন, গ্রিনটেক সিটি। ব্যবস্থাপনায় ছিল কলকাতার পিকাসো আর্ট অ্যান্ড কালচার। ছবি: আবুল হোসেন আলম