
নিউ ইয়র্ক শহরের টাইমস স্কোয়ারে দুর্গাপুজোর ইতিহাস সৃষ্টি হল। আর ইতিহাস সৃষ্টি করল টাইমস স্কোয়ার দুর্গোৎসব এসোসিয়েশন। এসোসিয়েশনের কর্তা শশধর হাওলাদার জানালেন – এই দুর্গা পূজার আয়োজনের পুর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন নিরুপমা সাহা ও গীতালি হাওলাদার। আর এই পূজার আয়োজনে সাহায্য করেছেন সঙ্ঘের বহু সেচ্ছাসেবী সভ্য। নেপথ্যে ছিলেন দুই উপদেষ্টা মৃদুল পাঠক ও মিলন আওন।
সত্তর ও আশির দশক থেকেই আলোকোজ্জ্বল টাইমস স্কোয়ারের খ্যাতি। আর ২০২৫ অক্টোবরের ৩ ও ৪ তারিখে দেবী দুর্গার পাদস্পর্শে অন্য এক মর্যাদা পেল টাইমস স্কোয়ার। কসমোপলিটন মিলনস্থল টাইম স্কোয়ার হয়ে উঠল দেবী দশপ্রহরণধারিণী কাত্যায়নীর আরাধনা ক্ষেত্র।
ম্যানহাটনের টাইমস স্কোয়ারে অক্টোবরের ৩ ও ৪ তারিখ তিথি মেনে দুর্গাপূজা হল। সে যেন বাঙালির সংস্কৃতির এক পবিত্র তীর্থক্ষেত্র। হাজার হাজার শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ ভারতীয়দের সঙ্গে মিলে এই অনুষ্ঠানকে একটি ‘সর্বজন মিলন’-এর ত্রিবেণীতে পরিণত করেন। ‘নৃত্যাঞ্জলি’-র নৃত্য পরিবেশন পূজাঙ্গণকে রামধনু রঙে আলোকিত করে দেয়। কলকাতার বিখ্যাত শিল্পী দম্পতি লোপামুদ্রা ও জয় সরকার তাঁদের সুরেলা কন্ঠে পরিবেশিত গানে সকলের মনোরঞ্জন করেন। ভারতীয় বিদ্যাভবন গরবা নৃত্য পরিবেশন করে। বিভিন্ন রীতি ও স্ত্রী আচার দেখে মনে হচ্ছিল আমরা যেন কলকাতার কোনো বনেদী পরিবারের পুজোয় অংশগ্রহণ করছি। রবিবারে ‘রামায়ণ ব্যালে’ ও নৃত্যাঞ্জলির ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ সকলের প্রশংসা পেয়েছে। দেয়াশিনি রায় সঙ্গীতে তার প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। প্রতিমা শিল্পী কলকাতার কুমোরটুলির প্রদীপ রুদ্র পাল । এই পূজা অনুষ্ঠানে পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেছেন কেশব চট্টোপাধ্যায়। দেশি বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি বাঙালির ঐতিহ্য দুর্গাপূজাকে আন্তর্জাতিক রূপ দিয়েছে।