তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
অ্যাকাদেমি অফ ফাইন আর্টস

নারী বন্দুক ও মদ---সূক্ষ্ম শিল্পের অ্যাকাডেমি

সিনেমার কালাপাহাড় জঁ লুক গোদার বলেন,সিনেমা তৈরির জন্যে লাগে দুটো জিনিস। নারী ও বন্দুক। আমাদের বাংলার এক তুর্কী ছেলে প্রথম ছবি করতে নেমে নারী ও বন্দুকের সঙ্গে যোগ করেছেন মদ। জয়ব্রত দাসের এই ডেবু-ছবির মেরুদণ্ডই হল মদ। মানে কুড়ি কোটি টাকার এক মদের বোতল, যেটা চুরি করা নিয়েই ‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ ছবির যত বামাল। এইরকম বামাল বাংলা ছবি আগে দেখেনি। সিনেমা মাধ্যমের সঙ্গে  সমঝোতা করেই এক মস্তি-ছবি করেছেন পরিচালক। বোঝা যায় নারী বন্দুক থাকলেও তিনি ঠিক গোদার পন্থি নন। বরং তিনি মার্টিন স্করসিস বা তারান্তিনোর অনেক কাছাকাছি। কায়দা করে এই দুই পরিচালককে ট্রিবিউট জানিয়েছেন পরিচালক জয়ব্রত।

     গল্প একটা আছে, লিনিয়ারভাবেই আছে। কিন্তু সেটা নেহাতই ছলনা । আসলে ছবিটি সেক্স ভায়োলেন্স নিয়ে তুমুল সিনেমাটিক পরীক্ষা, যেটা শুধু প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্যে নয়,প্রাপ্ত মনস্কদের জন্যেও বটে। ‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ আর্টস’ সেই ক্যাথিড্রাল রোডের আঁতেল  এক ছাদের নিচের শিল্পাশ্রম নয়,এ হল চোরাই মহলের বিশ্বাস অবিশ্বাস, প্রেম প্রেমহীনতা, বন্ধুত্ব শ্ত্রুতার  এক নিচের মহলের ঠেক, কোরিয়ান ছবিতে যেমন দেখে থাকি আমরা। তবে তারান্তিনো স্করসিস কোরিয়ান ইত্যাদি যাই বলি না কেন, শেষ অবধি ছবিটি মৌলিক ভাবনা ও প্রয়োগ ধারণ করে। এ আরেকধরনের সূক্ষ্ম একাডেমি, যেখানে তালা খোলার ওস্তাদ রয়েছে, রয়েছে হিট ম্যান, রয়েছে চৌর্য-বিদ্যা বিশারদ। এদের নিয়েই একাদেমি। আসলে জীবনের সেরা অভিনয়টা করেছেন রুদ্রনীল ঘোষ। বোঝা গেল ঠিক মতো চিত্রনাট্য আর সংলাপ পেলে তিনি ফাটিয়ে দিতে জানেন। তার সঙ্গে সমানতালে সঙ্গত করেছেন সৌরভ দাস। অমিত সাহা ইউনিক। কিমলিং নামে এক ভিলেন চরিত্রে সুদীপ মুখোপাধ্যায় ফাটাফাটি। পায়েল জানেন যৌনতাকে জীবন দিতে। আর রাহুল ব্যানার্জি কামাল। অনুরাধা মুখার্জি সমান তালে টক্কর দিয়েছেন পায়েলকে।  যৌনতা আর ভায়োলেন্স এ  ছবির প্রাণভোমরা হোক আর যাই হোক,  শেষঅবধি এ ছবির নায়ক সেই মদের বোতলই, যা টলিউড চত্বরে নিয়ে এল নতুন নেশা।  


Scroll to Top