
কলকাতার শ্রী অরবিন্দ ভবনে শনিবারের সন্ধ্যা ছিল গভীর এক আধ্যাত্মিক চেতনার। গুণীজন সমাবেশে প্রকাশিত হল সত্যম রায়চৌধুরীর 'শ্রী অরবিন্দ ফর ইউ'। তাঁর সম্পাদিত জনপ্রিয় ফর ইউ সিরিজের অষ্টম বই। ঋষি অরবিন্দের রচনা, চিঠি তো রয়েছেই, সেই সঙ্গে এই বইতে সংকলিত হয়েছে তাঁর জীবন, তাঁর ভাবনা নিয়ে বিশিষ্ট গবেষকদের নিবন্ধ। এবং অবশ্যই রয়েছে মাদারকে নিয়ে সুচিন্তিত লেখা।
দীর্ঘ তিন দশক আগে জীবনের এক অস্থির সময়ে স্ত্রী মৌকে নিয়ে শান্তির খোঁজে পন্ডিচেরি আশ্রমে গেছিলেন সত্যম রায়চৌধুরী। যে উপলব্ধি নিয়ে ফিরেছিলেন, তা তাঁর সারাজীবনের পাথেয়। ২০২৪ সালে মৌ রায়চৌধুরীর অকালপ্রয়াণ ঘটে। স্বাভাবিকভাবেই 'শ্রী অরবিন্দ ফর ইউ' প্রকাশের অনুষ্ঠানে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সত্যম বাবু। তিনি বলেন, '২০২৪ সালে যখন আমি এই বইয়ের কাজ শুরু করি, তখন আমার স্ত্রী মৌ মারা গেছেন। তবে এই বই লেখার সময় আমি একা ছিলাম না। আমার হৃদয়ে ছিলেন মৌ। শ্রী অরবিন্দ ও শ্রীমার প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ছিল। তাঁদের শিক্ষার মাধ্যমে আমি বুঝেছি, জীবন শুধু সাফল্য বা সংগ্রামের নাম নয়। এটি আত্মার বিকাশের পথ, যন্ত্রণা থেকে উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়ার প্রক্রিয়া এবং অন্ধকারের মধ্যেও আলো খুঁজে নেওয়ার সাধনা।'

বই প্রকাশের আগে ভবন প্রাঙ্গণে ঋষি অরবিন্দের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন সত্যম রায়চৌধুরী। বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক তন্ময় ভট্টাচার্য, ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিকাল ইন্সটিটিউটের অধিকর্তা অমর্ত্য দত্ত, ডঃ প্রদীপ ভট্টাচার্য, অমিয় সামন্ত, ডঃ শৈলেন্দ্র লাহা, ডঃ দিলীপ কুমার রায়, টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের অন্যতম অধিকর্তা দেবদূত রায়চৌধুরী, প্রকাশক দীপ প্রকাশনের দীপ্তাংশু মন্ডল, অভিনেত্রী গার্গী রায়চৌধুরী প্রমুখ। পন্ডিচেরির আশ্রম থেকে এসেছিলেন দেবদীপ গাঙ্গুলি ও অনহিতা ব্যানার্জি।
কলকাতার শ্রী অরবিন্দ ভবনের ট্রাস্টি বিশ্বজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ' শ্রী অরবিন্দ ভবনে এই বই প্রকাশিত হওয়া খুব তাৎপর্যপূর্ণ। এখানেই শ্রী অরবিন্দের জন্ম হয়েছিল। আমরা আশা করব, এবার সত্যম রায়চৌধুরী শ্রী মাকে নিয়ে বই লিখবেন।'
তন্ময় ভট্টাচার্যের স্তোত্র পাঠ, শান্তনু রায়চৌধুরী ও অনুভা সেনের গান এবং অহনা গোষ্ঠীর গাওয়া বন্দে মাতরম অনুষ্ঠানে অন্য মাত্রা যোগ করেছিল।