
মার্চ ২০২৬ সংখ্যা বাংলা স্ট্রিট - এ বেরোনো আশিস পণ্ডিতের প্রচ্ছদ কাহিনি ' অশান্ত দুবাইতে রুদ্ধশ্বাস কটা দিন ' পড়তে গিয়ে রীতিমতন কেঁপে উঠেছি। এটি স্রেফ কোনো ভ্রমণকাহিনি নয়, বরং এক রুদ্ধশ্বাস যুদ্ধের ডায়েরি। দুবাইয়ের মতো অতি-আধুনিক ও বাণিজ্যিক শহরে আচমকা যুদ্ধের মেঘ ঘনিয়ে আসার মুহূর্তগুলো এখানে অত্যন্ত নিপুণভাবে ধরা পড়েছে। লেখক যেভাবে সাধারণ রিল্যাক্সড মুড থেকে ক্রমশ মিসাইল অ্যাটাক, ফ্লাইট বাতিল এবং আতঙ্কে মোড়া থমথমে পরিবেশের বর্ণনা দিয়েছেন, তা পাঠককে শেষ পর্যন্ত বসিয়ে রাখে। বিশেষ করে দুবাই এয়ারপোর্টের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এবং বাড়ি ফেরার অনিশ্চয়তার লড়াইটি বেশ নাটকীয় ও বাস্তবসম্মত। সাংবাদিকতাসুলভ নির্লিপ্ততা আর ব্যক্তিগত উৎকণ্ঠার মিশেলে লেখাটি বেশ তথ্যসমৃদ্ধ এবং টানটান। সামগ্রিকভাবে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে একজন বাঙালির টিকে থাকার লড়াইয়ের এক অনন্য দলিল এই প্রচ্ছদ কাহিনি এই সংখ্যার এক অনন্য সম্পদ।
তাপস সান্যাল, কলকাতা

অসামান্য উপন্যাস
আদিত্য সেনের রঙে রেখায় রাজপুতানা দারুন লাগছে।
লেখার শুরুতেই বশিষ্ঠ চরিত্রটির মাধ্যমে লেখক ইতিহাসের উপযোগিতা নিয়ে একটা বড় প্রশ্ন তুলেছেন। যুদ্ধ, জয়-পরাজয় বা বীরত্বগাথার খতিয়ান কি কেবল কিছু তথ্য? নাকি তার গভীরে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো সত্য? লেখকের মতে, ইতিহাস হলো সেই ঝোপঝাড়ের মতো যেখান থেকে ফুলটি তুলে তার সৌরভ নিতে হয়। এই 'সৌরভ' শব্দটির ব্যবহার বেশ চমৎকার, যা ইঙ্গিত দেয় যে ইতিহাস কোনো মৃত বিষয় নয়, বরং তা অনুভবের বিষয়।
শিল্পের আধারে ইতিহাস
বুন্দি রাজ্য এবং তার নিজস্ব 'মিনিয়েচার' চিত্রশৈলীর উল্লেখ লেখাটিতে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। চিতোরের পতন কীভাবে বুন্দির শিল্পকলাকে সমৃদ্ধ করেছিল, তার বর্ণনা সংক্ষিপ্ত হলেও বেশ তথ্যনিষ্ঠ। হদিরানির চরিত্রটির মধ্যে এক ধরণের নিঃশব্দ দৃঢ়তা ফুটে উঠেছে, যা পরের সংখ্যার জন্য পাঠককে আগ্রহী করে তোলে। অসামান্য লেখাটির পরের অংশের জন্যে অপেক্ষায় থাকলাম।
অশোক ধর

এআই-এর গোলটেবিল ও ভারতের অবস্থান
বাংলা স্ট্রিট এর মার্চ সংখ্যায় সোমা দাশের এ আই ইম্প্যাক্ট সামিট নিয়ে প্রতিবেদনটি ২০২৬-এর ডিজিটাল ভূ-রাজনীতিতে দাঁড়িয়ে স্রেফ প্রযুক্তিগত কচকচানি নয়, বরং ভারতের 'এআই-অ্যাসপিরেশন'-এর এক নির্ভীক ময়নাতদন্ত। লেখক এখানে খুব নিপুণভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ল্যাবরেটরি থেকে বের করে সরাসরি দিল্লি তথা বৈশ্বিক রাজনীতির অলিন্দে নিয়ে এসেছেন।
নিবন্ধটিতে তিনি অন্ধ স্তুতি বা ভিত্তিহীন আশাবাদের জোয়ারে গা ভাসাননি। বরং তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জ—ডেটা পরিকাঠামো, ভাষাগত বৈচিত্র্য এবং শিক্ষা ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে ফেলা—এই কঠিন সত্যগুলোকে সামনে এনে ভারত সরকারের নীতি-নির্ধারকদের আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন।
অত্যন্ত ঝরঝরে অথচ ধারালো ভাষায় বিশেষ করে এআই-কে 'অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজের রূপান্তরের প্রশ্ন' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করাটা লেখকের গভীর চিন্তাশীলতার পরিচয় দেয়।
নিবন্ধের শেষে লেখক যে প্রশ্নটি ছুড়ে দিয়েছেন সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তার প্রশ্ন , এই পদক্ষেপগুলো ডিজিটাল ইতিহাসের অংশ হবে নাকি স্রেফ 'সম্মেলন-স্মারক' হয়ে ধুলো জমাবে ? এ প্রশ্ন স্রেফ সংশয় নয়, বরং এক ধরণের বৌদ্ধিক অবস্থান , যা পাঠককে ভাবাতে বাধ্য করে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, লেখাটি একটি সময়োপযোগী এবং সাহসী বিশ্লেষণ। যখন গোটা বিশ্ব দ্বিধাগ্রস্ত, তখন ভারতের 'অংশীদার' ও 'নীতিনির্ধারক' হওয়ার স্বপ্নকে লেখক যেভাবে চ্যালেঞ্জের কষ্টিপাথরে যাচাই করেছেন, তা প্রশংসনীয়।
আশিস দে , মানিকতলা