তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
ভোটের হাওয়ায় একলা বোশেখ

ভোট এবং পয়লা বৈশাখ – এই জোড়াফলার  মধ্যে পড়ে বাঙালির প্রাণ ওষ্ঠাগত ! সেলের বাজারে নাকি ভোটের প্রচারে – কোথায় গেলে, ফায়দা বেশি ভেবে ভেবে শেষটায় কে এস সি-তে ঠান্ডা ঘরে, সাতবাসী রামপাখি ভাজা খাওয়ার জন্য, ভিড় বাড়াচ্ছে জনগণ! রামপাখি-র নাম শুনে হইহই করে উঠবেন যাঁরা, তাঁদের জ্ঞাতার্থে বলা যাক, রামপাখি আদতে মুর্গী পাখি ! অন্য কিছু ভাববার প্রয়োজন নেই।  দিকে দিগন্তরে রটনা, ভোটের প্রচারে গেলে নানা রকম উৎকোচ মিলছে।  ডিম, মাছ, আটা,আলু, লেড়ো বিস্কুট পেয়ে অনেকেই খুব খুশি।  তবে, আট-ত্রিশ ডিগ্রি ছুঁই ছুঁই তাপমাত্রায় কম্বল পেয়েছে যারা, তারা অত্যন্ত কনফিসড – কম্বল জড়িয়ে সনা বাথ নেবেন নাকি  যুদ্ধের কারণে, গ্যাসের আকালে কাঁচা ডিম কম্বলে মুড়িয়ে রোদে রেখে সিদ্ধ করে নেবেন ! কেউ কেউ  দুঃখু করছেন, ভোটটা যদি শীতকালে হত, তবে কম্বল-বিতরণকারীরা নিয্যস এ সি  নিদেন পক্ষে অন্তত হাতপাখা দান করার ব্যবস্থা নিতেন। তবে কিনা, বাংলা বছরের গোড়ার দিনটায় কেউ ডিম-ফিম খায় না। প্রখর এপ্রিলের  জ্বলি জ্বলি গরমে, ঘামতে ঘামতে, কচি পাঁঠার টাকরায় আগুন ধরানো ঝোল ছাড়া কি আর বাঙালির ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ হয়? ফলে  মাটনের কেসটা শস্তায় শাল্টাতে ইতিউতি নজর রাখতেই হচ্ছিল!  শহরের বাইরে খবর ছিল, কারা নাকি পদযাত্রায় গেলে জনপ্রতি ছাগল দেবে। সবে ভাবছি, যাবো – মানে, চোত মাসের শেষ  দিকে, গেলেই হয় ! পরে শুনলুম,  সেখেনে  প্রথমবারে, এত্ত লোক জমায়েত হয়, কর্তৃপক্ষের আনা ছাগল কম পড়ে যায় এবং তাঁরা দ্রুত মুর্গী এনে ব্যাপারটা সামলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কে না জানে, মুর্গী আর ছাগলে, হনুমান এবং অনুমানের চেয়েও বেশি তফাত! ফলে বিশাল কেওস! এদিকে ইয়ে মানে, পয়লা বোশেখের দুপুরে যদি ফিরি-তে পাঁঠার ব্যবস্থাটা হয়ে যায় – তক্কে তক্কে ছিলেম। কিন্তু ছাগল কম পড়ার খবর পাওয়ার পর, ও মুখো আর হচ্ছি নে।

তার’চে বরং সেলের মার্কেট অনেক ফলদায়ী! ইদানীং, গামছার দর নিম্নগামী।  পার্টিতে থেকে কাজ করতে না পারা হোল টাইমাররা  একখানা গামছা চার ভাগ করছেন। তবে নির্বাচন এবং ঘামের কল্যাণে, তোয়ালের দাম চচ্চড়িয়ে বাড়ছে।  তাছাড়া, বচ্ছরকার যত বে-বাড়ির নেমন্তন্ন আসবে বলে পূর্বাভাষ আছে, শস্তায় তাগো শাড়ি কিনে টিনে, ফেরার পথে, নিজের জন্য  পঞ্চাশ টাকায়  খান চারেক বালিশের কভার, কুড়ি টাকায় পিঠ চুলকানো লাঠি, ত্রিশ টাকায় মাথা-ম্যাসেজার নিয়ে বাড়িতে সেঁধিয়ে যদি না থাকতে চান, তবে জমায়েতে যেতে পারেন। শুনেছি, চা-মুড়ির সঙ্গে কোথাও কোথাও বোঁদেও বিলি হচ্ছে। তবে খোঁজ নিয়ে যাবেন। যেদিকে শিঙ্গারা দিচ্ছে, সেদিকপানে, আমি যেমন মোটে পা বাড়াচ্ছিনে। দেখলুম, ফেসবুকে কারা সব লেখালিখি করছে, সিঙ্গারাগুলো নাকি গত ভোটের আগে ভাজা হয়েছিল। তবে সত্যি-মিথ্যে জানিনি। সেলের  বাজারে , বাংলা অক্ষর লেখা কাপড়, কলাগাছ আঁকা পাঞ্জাবিকে এবার নানা দলের প্রতীক ছাপানো শাড়ি,কুর্তা ইত্যাদি দু’গোল দিয়েছে, তা বলা বাহুল্য। এস আই আর-এর জন্য নামকাটা ভোটারদের দুরবস্থা, এইসব শোরগোল অবশ্য চাপা দিতে পারেনি।  কত যে গ্রাম ফাঁকা, বাড়ি ফাঁকা- আত্মহতার পথ বেছে নিয়েছেন কত জন! এ এক আজব খুড়োর কল!- কোথাও কিছু হঠাত করে খাঁড়ার ঘা নেমে এল। শোনা যাচ্ছে, পহেলা বৈশাখের উৎসব নিয়েও নাকি ময়দানে লাঠালাঠি লাগিয়েছে সাম্প্রদায়িক শক্তিরা।

এর মধ্যেই বছর পালাচ্ছে – তবে কিনা পয়লা বোশেখ তো বছর বছর আসে – কিন্তু ভোটের তো অমন বাৎসরিক যাতায়াত নেই। তার পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা! সেই কারণে, হাতিবাগান, গড়িয়াহাটার ভিড় গিয়ে উঠছে নির্বাচনের প্রার্থীদের সভায়, পদযাত্রায়, জমায়েতে। সেই ভিড়ের অনেকেরই ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নিয়েছে রাষ্ট্র – চৈত্র অবসানে, ঘরেম ফেরার পথে তবু আজ  তাঁতের একখানা শাড়ি, সুতীর জামা, সামান্য মিষ্টি, অন্নপাত্র – জানিয়ে যাচ্ছে, বৈশাখ কখনো ‘একলা’ হয় না – শুভ নতুন বছর।


Scroll to Top