
মুর্শিদাবাদের অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা সামশেরগঞ্জ। শুধু সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বলে নয়, বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া বলে সারা বছর এখানে অনেক বেশি সংখ্যায় বি এস এফ ও সি আর পি এস মোতায়েন থাকে। হতদরিদ্র বিড়ি শ্রমিক আর চাষীদের কাঁধে ভর করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের আলো জ্বলা সম্ভব নয় সামশেরগঞ্জে। সেখানে বিধানসভা ভোটের প্রচারে গিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোর তুরূপের তাস যে এস আই আর হবে, সেটাই স্বাভাবিক। এর থেকে এক ধাপ এগিয়ে তিনি অবশ্য এন আর সি জুজু দেখিয়েছেন ভোটারদের। এরাজ্যে এখনো পর্যন্ত আসামের মত এন আর সি বা ক্যা লাগু হওয়া, বাঙালি মুসলমানদের ব্যাপকহারে ডিটেনশন ক্যাম্পে ঠাঁই হওয়া, ইত্যাদি আশঙ্কা দেখা দেয়নি। কিন্তু সামশেরগঞ্জে যেখানে বিরাট সংখ্যক মানুষের নাম হয় বাদ পড়েছে, নয়তো বিবেচনাধীন, সেখানে মমতা ব্যানার্জি এই সুযোগ ছাড়বেন কেন? তিনি রণং দেহি মেজাজে প্রতিশোধের ডাক দিয়েছেন।বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে গিয়ে বারবার তৃণমূল অভিযোগ করছে, অন্যায়ভাবে ভোটার তালিকা থেকে সংখ্যালঘুদের নাম বাদ দিয়েছে মোদির তাঁবেদার নির্বাচন কমিশন। বাস্তবেও দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের 'এস আই আর-বিধ্বস্ত' এলাকাগুলির মধ্যে প্রথম সারিতে নাম সামশেরগঞ্জের। প্রায় ১লক্ষ ২০ হাজার নাম বিবেচনাধীন। কোনও কোনও বুথে তো ৯০% ভোটারের নাম বাদ গেছে। বলা বাহুল্য, এগুলি সবই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথ। অনেক ক্ষেত্রেই কলকাতায় ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আবেদন জানানো মুশকিল কারণ মুর্শিদাবাদ জেলার প্রচুর মানুষ পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিনরাজ্যে কাজ করেন। সময় আর খরচ দুটোই তাঁদের সাধ্যের বাইরে।
গত বছর ওয়াকফ সংশোধনী আইনকে ঘিরে উত্তাল হয়েছিল সামশেরগঞ্জ। হিন্দু বাবা ও ছেলে খুন হওয়াতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছিল। সর্বভারতীয় সংবাদ শিরোনামে চলে এসেছিল মুর্শিদাবাদের এই জায়গাটি। তৃণমূল তখন বিজেপি বিরোধী হাওয়াকে ভালভাবেই কাজে লাগিয়েছিল। এবার ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনীকে কতটা কাজে লাগিয়ে মুসলিম ভোট টানতে পারে শাসক দল, সেটাই দেখার।